ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

ভেড়ামারা পদ্মা নদী ভাঙ্গন রোধ জি ও ব্যাগ ফেলানো কাজের উদ্বোধন করলেন এমপি আব্দুল গফুর

ইসমাইল হোসেন বাবু:

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার জুনিয়াদহ ইউনিয়নের ফয়জুল্লাপুর কবিরাজ পাড়া এলাকার আশেপাশে পদ্মার ব্যাপক ভাঙ্গন দেখা দেয়। খবর পেয়ে এলাকা পরিদর্শনের পর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলানো ডাম্পিং কার্যক্রম আজ ২২ জুলাই বুধবার দুপুরে উদ্বোধন করেন ও ক্ষতিগ্রস্ত ও আতঙ্কিত সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলে।

 

কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে পদ্মার প্রবল স্রোতে ফয়জুল্লাহপুর এলাকায় ভয়ংকর নদী ভাঙ্গন লক্ষ্য করা গেছে। বাঁধ ধসে গেলে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই প্রাথমিক ধাক্কা সামলাতে জরুরি ভিত্তিতে ৬ হাজার-এর বেশি জিও ব্যাগ এবং এবং ২৩০ টি জিও টিউব প্রস্তুত করে ডাম্পিংয়ের কাজ শুরু করা হয়েছে।

 

এদিকে সরকারিভাবে জিও ব্যাগ ফেলা শুরু হলেও নদীপাড়ের মানুষের মাঝে স্থায়ী স্বস্তি ফিরছে না। ফয়জুল্লাহপুর ও আশেপাশের গ্রামের বাসিন্দারা এই কার্যক্রমকে কেবলই এক ‘সাময়িক জোড়াতালি’ হিসেবে দেখছেন। স্থানীয় ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের অভিযোগ, প্রতি বছরই বর্ষা এলে এভাবে লোকদেখানো জিও ব্যাগ ফেলা হয়, যা পদ্মার তীব্র ঘূর্ণিস্রোতে কয়েকদিনের মধ্যেই ভেসে যায়। শুকনো মৌসুমে স্থায়ী কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় প্রতি বছরই নতুন করে ভাঙনের সৃষ্টি হয় এবং শত শত পরিবার ভিটামাটি ও ফসলি জমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়।নদীপাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের একমাত্র ও প্রধান দাবি—অনতিবিলম্বে সিসি ব্লক দিয়ে এখানে স্থায়ী ও মজবুত প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করতে হবে। শুধু জিও ব্যাগ ফেলে সরকারি অর্থের অপচয় বন্ধ করে নদী ড্রেজিং এবং সিসি ব্লকের স্থায়ী বাঁধ না দিলে ভেড়ামারার মানচিত্র থেকে ভেড়ামারা -সোনাইকুন্ডি পাকা সড়ক ও ফয়জুল্লাহপুর গ্রাম নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।

 

জনগণের এই যৌক্তিক দাবির সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে এমপি আব্দুল গফুর বলেন, “জিও ব্যাগ ফেলা একটি সাময়িক ও জরুরি পদক্ষেপ মাত্র। এই জনপদকে স্থায়ীভাবে রক্ষা করতে হলে সিসি ব্লকের বিকল্প নেই। আমি জাতীয় সংসদে এ বিষয়ে কথা বলব এবং ভেড়ামারার পদ্মাপাড় রক্ষায় ক্যাপিটাল ড্রেজিং ও সিসি ব্লক সম্বলিত একটি দীর্ঘমেয়াদী মেগা প্রকল্প পাসের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ সহকারী প্রকৌশলী আল আমিন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলাম কুষ্টিয়া জেলা শাখার প্রশিক্ষণ বিষয়ক সেক্রেটারি অধ্যাপক ডঃ নুরুল আমিন জসিম, ভেড়ামারা উপজেলা জামায়াতের আমির মোঃ জালাল উদ্দিন, সহ সেক্রেটারি তারিক আহমেদ সহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

বোয়ালমারীতে গিয়াসউদ্দিন বেনু’র সৌজন্যে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও ঔষুধ প্রদান

error: Content is protected !!

ভেড়ামারা পদ্মা নদী ভাঙ্গন রোধ জি ও ব্যাগ ফেলানো কাজের উদ্বোধন করলেন এমপি আব্দুল গফুর

আপডেট টাইম : ১১ ঘন্টা আগে
ইসমাইল হোসেন বাবু, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার :

ইসমাইল হোসেন বাবু:

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার জুনিয়াদহ ইউনিয়নের ফয়জুল্লাপুর কবিরাজ পাড়া এলাকার আশেপাশে পদ্মার ব্যাপক ভাঙ্গন দেখা দেয়। খবর পেয়ে এলাকা পরিদর্শনের পর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলানো ডাম্পিং কার্যক্রম আজ ২২ জুলাই বুধবার দুপুরে উদ্বোধন করেন ও ক্ষতিগ্রস্ত ও আতঙ্কিত সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলে।

 

কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে পদ্মার প্রবল স্রোতে ফয়জুল্লাহপুর এলাকায় ভয়ংকর নদী ভাঙ্গন লক্ষ্য করা গেছে। বাঁধ ধসে গেলে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই প্রাথমিক ধাক্কা সামলাতে জরুরি ভিত্তিতে ৬ হাজার-এর বেশি জিও ব্যাগ এবং এবং ২৩০ টি জিও টিউব প্রস্তুত করে ডাম্পিংয়ের কাজ শুরু করা হয়েছে।

 

এদিকে সরকারিভাবে জিও ব্যাগ ফেলা শুরু হলেও নদীপাড়ের মানুষের মাঝে স্থায়ী স্বস্তি ফিরছে না। ফয়জুল্লাহপুর ও আশেপাশের গ্রামের বাসিন্দারা এই কার্যক্রমকে কেবলই এক ‘সাময়িক জোড়াতালি’ হিসেবে দেখছেন। স্থানীয় ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের অভিযোগ, প্রতি বছরই বর্ষা এলে এভাবে লোকদেখানো জিও ব্যাগ ফেলা হয়, যা পদ্মার তীব্র ঘূর্ণিস্রোতে কয়েকদিনের মধ্যেই ভেসে যায়। শুকনো মৌসুমে স্থায়ী কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় প্রতি বছরই নতুন করে ভাঙনের সৃষ্টি হয় এবং শত শত পরিবার ভিটামাটি ও ফসলি জমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়।নদীপাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের একমাত্র ও প্রধান দাবি—অনতিবিলম্বে সিসি ব্লক দিয়ে এখানে স্থায়ী ও মজবুত প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করতে হবে। শুধু জিও ব্যাগ ফেলে সরকারি অর্থের অপচয় বন্ধ করে নদী ড্রেজিং এবং সিসি ব্লকের স্থায়ী বাঁধ না দিলে ভেড়ামারার মানচিত্র থেকে ভেড়ামারা -সোনাইকুন্ডি পাকা সড়ক ও ফয়জুল্লাহপুর গ্রাম নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।

 

জনগণের এই যৌক্তিক দাবির সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে এমপি আব্দুল গফুর বলেন, “জিও ব্যাগ ফেলা একটি সাময়িক ও জরুরি পদক্ষেপ মাত্র। এই জনপদকে স্থায়ীভাবে রক্ষা করতে হলে সিসি ব্লকের বিকল্প নেই। আমি জাতীয় সংসদে এ বিষয়ে কথা বলব এবং ভেড়ামারার পদ্মাপাড় রক্ষায় ক্যাপিটাল ড্রেজিং ও সিসি ব্লক সম্বলিত একটি দীর্ঘমেয়াদী মেগা প্রকল্প পাসের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ সহকারী প্রকৌশলী আল আমিন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলাম কুষ্টিয়া জেলা শাখার প্রশিক্ষণ বিষয়ক সেক্রেটারি অধ্যাপক ডঃ নুরুল আমিন জসিম, ভেড়ামারা উপজেলা জামায়াতের আমির মোঃ জালাল উদ্দিন, সহ সেক্রেটারি তারিক আহমেদ সহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।