ঢাকা , শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

বাঘায় কয়েলের আগুনে পুড়ল তিন পরিবারের ঘরবাড়ি

আব্দুল হামিদ মিঞা:

 

রাজশাহীর বাঘায় মশার কয়েলের আগুনে পুড়ে গেছে তিন পরিবারের ঘরবাড়ি, ফসল, আসবাবপত্র ও নগদ টাকা। এতে নগদ সাড়ে ৯ লাখ টাকাসহ প্রায় ৫০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। অগ্নিকাণ্ডের পর পরনের কাপড় ও গোয়ালঘরে থাকা গবাদিপশু ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রায় কিছুই অবশিষ্ট নেই।

 

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাতে উপজেলার বাউসা ইউনিয়নের দিঘা পশ্চিমপাড়া গ্রামে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ক্ষতিগ্রস্তরা হলেন একই বাড়ির বাসিন্দা নূরুল হক নূরু এবং তার তিন ছেলে ইমদাদুল হক, শরিফুল হক ও সাজেদুল হক।

 

শনিবার (১৫ আগস্ট) সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর হাতে নগদ অর্থ ও খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আবু সাইদ চাঁদ ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

 

স্থানীয় ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, নূরুল হকের গোয়ালঘরে জ্বালানো মশার কয়েল থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে গোয়ালঘর থেকে পাশের রান্নাঘরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ইমদাদুল হকের স্ত্রী নিলুফা ইয়াসমিন আগুন দেখতে পেয়ে চিৎকার করলে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। পরে খবর পেয়ে বাঘা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একটি দল প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

 

স্থানীয়দের ধারণা, আগুন লাগার পর ফ্রিজের কম্প্রেসার ও গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হওয়ায় তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় সাতটি সেমিপাকা টিনশেড ঘর, তিনটি গোয়ালঘর ও তিনটি রান্নাঘর পুড়ে যায়। একই সঙ্গে নগদ সাড়ে ৯ লাখ টাকাসহ বিপুল পরিমাণ ফসল ও আসবাবপত্র নষ্ট হয়েছে।

 

ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ইমদাদুল হকের ১৫ মণ পাট, ৫০ মণ পেঁয়াজ, ১০ মণ রসুন, ২০ মণ চাল, ১৫ মণ গম, নগদ ৫ লাখ টাকা, টেলিভিশন ও ফ্রিজ পুড়ে গেছে।

 

শরিফুল হকের ২০ মণ চাল, ৫ মণ রসুন, ১০ মণ পাট, এক ভরি স্বর্ণ, নগদ ৮০ হাজার টাকা ও টেলিভিশন পুড়ে যায়।

 

অন্যদিকে সাজেদুল হকের মহিষ বিক্রির সাড়ে ৪ লাখ টাকা, দুই ভরি স্বর্ণ, ২০ মণ চাল, ১০ মণ গম, ১০ মণ পাট, ৫০ মণ পেঁয়াজ, ১০ মণ রসুন, টেলিভিশন, মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র পুড়ে যায়।

 

ইমদাদুল হকের স্ত্রী নিলুফা ইয়াসমিন বলেন, “আগুনের মধ্যে গোয়ালের গরু-মহিষের দড়ি কেটে দেওয়ায় প্রাণে বেঁচেছে। এখন পরনের কাপড় ছাড়া কিছুই নেই।”

 

বাঘা ফায়ার সার্ভিসের সহকারী স্টেশন ইনচার্জ মিনহাজুল হক বলেন, প্রাথমিকভাবে অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ৫০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

 

অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে রাতেই বাউসা ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান, ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন ও বাঘা থানা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

 

এমপি-ইউএনওর সহায়তা

শনিবার সকাল ৯টায় রাজশাহী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবু সাইদ চাঁদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত তিন পরিবারকে নগদ ২০ হাজার টাকা, ৪০০ কেজি চাল, পাঁচটি শাড়ি, পাঁচটি লুঙ্গি, ২০ কেজি আলু, ৫ কেজি মসুর ডাল ও আট প্যাকেট শুকনা খাবার দেন।

 

পরে এমপির নির্দেশে বাঘা উপজেলায় অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা চারঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

 

ইউএনও জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সরকারিভাবে নগদ অর্থ, শুকনা খাবার ও কম্বল দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রতিটি পরিবারকে দুই বান্ডিল করে টিন দেওয়া হবে। উপজেলা পরিষদ থেকে তারা এসব সহায়তা গ্রহণ করবেন।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

চুয়াডাঙ্গায় ভুয়া চিকিৎসকসহ ৩ জনের জেল-জরিমানা

error: Content is protected !!

বাঘায় কয়েলের আগুনে পুড়ল তিন পরিবারের ঘরবাড়ি

আপডেট টাইম : ৪ ঘন্টা আগে
সময়ের প্রত্যাশা ডেস্ক : :

আব্দুল হামিদ মিঞা:

 

রাজশাহীর বাঘায় মশার কয়েলের আগুনে পুড়ে গেছে তিন পরিবারের ঘরবাড়ি, ফসল, আসবাবপত্র ও নগদ টাকা। এতে নগদ সাড়ে ৯ লাখ টাকাসহ প্রায় ৫০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। অগ্নিকাণ্ডের পর পরনের কাপড় ও গোয়ালঘরে থাকা গবাদিপশু ছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রায় কিছুই অবশিষ্ট নেই।

 

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাতে উপজেলার বাউসা ইউনিয়নের দিঘা পশ্চিমপাড়া গ্রামে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ক্ষতিগ্রস্তরা হলেন একই বাড়ির বাসিন্দা নূরুল হক নূরু এবং তার তিন ছেলে ইমদাদুল হক, শরিফুল হক ও সাজেদুল হক।

 

শনিবার (১৫ আগস্ট) সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর হাতে নগদ অর্থ ও খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আবু সাইদ চাঁদ ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

 

স্থানীয় ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, নূরুল হকের গোয়ালঘরে জ্বালানো মশার কয়েল থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে গোয়ালঘর থেকে পাশের রান্নাঘরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ইমদাদুল হকের স্ত্রী নিলুফা ইয়াসমিন আগুন দেখতে পেয়ে চিৎকার করলে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। পরে খবর পেয়ে বাঘা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একটি দল প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

 

স্থানীয়দের ধারণা, আগুন লাগার পর ফ্রিজের কম্প্রেসার ও গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হওয়ায় তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় সাতটি সেমিপাকা টিনশেড ঘর, তিনটি গোয়ালঘর ও তিনটি রান্নাঘর পুড়ে যায়। একই সঙ্গে নগদ সাড়ে ৯ লাখ টাকাসহ বিপুল পরিমাণ ফসল ও আসবাবপত্র নষ্ট হয়েছে।

 

ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ইমদাদুল হকের ১৫ মণ পাট, ৫০ মণ পেঁয়াজ, ১০ মণ রসুন, ২০ মণ চাল, ১৫ মণ গম, নগদ ৫ লাখ টাকা, টেলিভিশন ও ফ্রিজ পুড়ে গেছে।

 

শরিফুল হকের ২০ মণ চাল, ৫ মণ রসুন, ১০ মণ পাট, এক ভরি স্বর্ণ, নগদ ৮০ হাজার টাকা ও টেলিভিশন পুড়ে যায়।

 

অন্যদিকে সাজেদুল হকের মহিষ বিক্রির সাড়ে ৪ লাখ টাকা, দুই ভরি স্বর্ণ, ২০ মণ চাল, ১০ মণ গম, ১০ মণ পাট, ৫০ মণ পেঁয়াজ, ১০ মণ রসুন, টেলিভিশন, মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র পুড়ে যায়।

 

ইমদাদুল হকের স্ত্রী নিলুফা ইয়াসমিন বলেন, “আগুনের মধ্যে গোয়ালের গরু-মহিষের দড়ি কেটে দেওয়ায় প্রাণে বেঁচেছে। এখন পরনের কাপড় ছাড়া কিছুই নেই।”

 

বাঘা ফায়ার সার্ভিসের সহকারী স্টেশন ইনচার্জ মিনহাজুল হক বলেন, প্রাথমিকভাবে অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ৫০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

 

অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে রাতেই বাউসা ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান, ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন ও বাঘা থানা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

 

এমপি-ইউএনওর সহায়তা

শনিবার সকাল ৯টায় রাজশাহী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবু সাইদ চাঁদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত তিন পরিবারকে নগদ ২০ হাজার টাকা, ৪০০ কেজি চাল, পাঁচটি শাড়ি, পাঁচটি লুঙ্গি, ২০ কেজি আলু, ৫ কেজি মসুর ডাল ও আট প্যাকেট শুকনা খাবার দেন।

 

পরে এমপির নির্দেশে বাঘা উপজেলায় অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা চারঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

 

ইউএনও জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সরকারিভাবে নগদ অর্থ, শুকনা খাবার ও কম্বল দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রতিটি পরিবারকে দুই বান্ডিল করে টিন দেওয়া হবে। উপজেলা পরিষদ থেকে তারা এসব সহায়তা গ্রহণ করবেন।