ঢাকা , শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

চুয়াডাঙ্গায় ভুয়া চিকিৎসকসহ ৩ জনের জেল-জরিমানা

হুমায়ূন আহমেদ:

 

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় তিয়ানশি কোম্পানির কার্যক্রম পরিচালনা এবং চিকিৎসক পরিচয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে তিনজনকে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

 

শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুর ৩টার দিকে আলমডাঙ্গা পৌর এলাকার মিয়াপাড়ায় একটি ভাড়া করা ভবনে তিয়ানশি কোম্পানির কার্যক্রম চলাকালে স্থানীয়রা তিনজনকে আটক করেন। তাদের কাছে কার্যক্রম পরিচালনার প্রয়োজনীয় অনুমোদন, কাগজপত্র ও সঠিক তথ্য না পাওয়ায় স্থানীয়রা প্রশাসনকে খবর দেন।

 

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহিনুর আক্তার। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে কথিত ভুয়া চিকিৎসক মো. হুমায়ূন কবিরকে চার মাসের কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। তিয়ানশি কোম্পানির প্রতিনিধি মাসুদ করিম ও আব্দুর রহমানকে পৃথকভাবে দুই মাসের কারাদণ্ড এবং পাঁচ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়।

 

দণ্ডপ্রাপ্ত হুমায়ূন কবির (৪৫) ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার সিরাজুল ইসলামের ছেলে। তিয়ানশির ‘গোল্ড স্টার’ প্রতিনিধি মাসুদ করিম কুষ্টিয়ার হরিসপুর গ্রামের মহাসিন আলীর ছেলে। অপর দণ্ডপ্রাপ্ত আব্দুর রহমান আলমডাঙ্গার ডম্বলপুর গ্রামের মোজাম আলীর ছেলে।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, ‘গোল্ড স্টার’ প্রতিনিধি মাসুদ করিম দীর্ঘদিন ধরে আব্দুর রহমানের মাধ্যমে আলমডাঙ্গার বিভিন্ন এলাকায় চীনে তৈরি পেস্ট, কফি, ডায়াবেটিসের ওষুধ ও বিভিন্ন ফুড সাপ্লিমেন্ট বিক্রি করে আসছিলেন। ব্যবসা সম্প্রসারণে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তিকেও ব্যবহার করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

অভিযোগ রয়েছে, গ্রামাঞ্চলের সাধারণ মানুষকে বিভিন্নভাবে প্রভাবিত করে এসব পণ্য বিক্রির পাশাপাশি কথিত চিকিৎসাসেবার নামেও অর্থ আদায় করা হতো। রোগীপ্রতি কমিশনের ভিত্তিতে বিভিন্ন এলাকায় প্রতিনিধি পাঠানোর অভিযোগও রয়েছে। এ কাজে কুমারী ইউনিয়ন পরিষদের একজন নারী সদস্যকেও ব্যবহার করা হতো বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

 

অভিযানের সময় মো. হুমায়ূন কবির নিজেকে ‘অল্টারনেটিভ এমবিবিএস’ চিকিৎসক হিসেবে দাবি করেন। তিনি দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট সিভিল সার্জন তাকে মৌখিকভাবে চিকিৎসা দেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন। তবে এ দাবির পক্ষে কোনো লিখিত অনুমোদন বা বৈধ কাগজপত্র ভ্রাম্যমাণ আদালতের কাছে উপস্থাপন করতে পারেননি।

এ ছাড়া ঘটনাস্থল থেকে জব্দ করা পণ্যগুলোর কোনো বিএসটিআই অনুমোদন না থাকলেও সেগুলোতে বিএসটিআইয়ের সিল ব্যবহার করে বিক্রি করা হতো বলে অভিযানে প্রাথমিকভাবে প্রমাণ পাওয়া গেছে।

অভিযানে তিয়ানশি কোম্পানির বিভিন্ন পণ্য ও মালামাল জব্দ করে প্রশাসনের হেফাজতে নেওয়া হয়। পরে জব্দ করা মালামাল ঘটনাস্থলেই পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

চুয়াডাঙ্গায় ভুয়া চিকিৎসকসহ ৩ জনের জেল-জরিমানা

error: Content is protected !!

চুয়াডাঙ্গায় ভুয়া চিকিৎসকসহ ৩ জনের জেল-জরিমানা

আপডেট টাইম : এক ঘন্টা আগে
সময়ের প্রত্যাশা ডেস্ক : :

হুমায়ূন আহমেদ:

 

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় তিয়ানশি কোম্পানির কার্যক্রম পরিচালনা এবং চিকিৎসক পরিচয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে তিনজনকে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

 

শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুর ৩টার দিকে আলমডাঙ্গা পৌর এলাকার মিয়াপাড়ায় একটি ভাড়া করা ভবনে তিয়ানশি কোম্পানির কার্যক্রম চলাকালে স্থানীয়রা তিনজনকে আটক করেন। তাদের কাছে কার্যক্রম পরিচালনার প্রয়োজনীয় অনুমোদন, কাগজপত্র ও সঠিক তথ্য না পাওয়ায় স্থানীয়রা প্রশাসনকে খবর দেন।

 

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহিনুর আক্তার। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে কথিত ভুয়া চিকিৎসক মো. হুমায়ূন কবিরকে চার মাসের কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। তিয়ানশি কোম্পানির প্রতিনিধি মাসুদ করিম ও আব্দুর রহমানকে পৃথকভাবে দুই মাসের কারাদণ্ড এবং পাঁচ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়।

 

দণ্ডপ্রাপ্ত হুমায়ূন কবির (৪৫) ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার সিরাজুল ইসলামের ছেলে। তিয়ানশির ‘গোল্ড স্টার’ প্রতিনিধি মাসুদ করিম কুষ্টিয়ার হরিসপুর গ্রামের মহাসিন আলীর ছেলে। অপর দণ্ডপ্রাপ্ত আব্দুর রহমান আলমডাঙ্গার ডম্বলপুর গ্রামের মোজাম আলীর ছেলে।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, ‘গোল্ড স্টার’ প্রতিনিধি মাসুদ করিম দীর্ঘদিন ধরে আব্দুর রহমানের মাধ্যমে আলমডাঙ্গার বিভিন্ন এলাকায় চীনে তৈরি পেস্ট, কফি, ডায়াবেটিসের ওষুধ ও বিভিন্ন ফুড সাপ্লিমেন্ট বিক্রি করে আসছিলেন। ব্যবসা সম্প্রসারণে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তিকেও ব্যবহার করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

অভিযোগ রয়েছে, গ্রামাঞ্চলের সাধারণ মানুষকে বিভিন্নভাবে প্রভাবিত করে এসব পণ্য বিক্রির পাশাপাশি কথিত চিকিৎসাসেবার নামেও অর্থ আদায় করা হতো। রোগীপ্রতি কমিশনের ভিত্তিতে বিভিন্ন এলাকায় প্রতিনিধি পাঠানোর অভিযোগও রয়েছে। এ কাজে কুমারী ইউনিয়ন পরিষদের একজন নারী সদস্যকেও ব্যবহার করা হতো বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

 

অভিযানের সময় মো. হুমায়ূন কবির নিজেকে ‘অল্টারনেটিভ এমবিবিএস’ চিকিৎসক হিসেবে দাবি করেন। তিনি দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট সিভিল সার্জন তাকে মৌখিকভাবে চিকিৎসা দেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন। তবে এ দাবির পক্ষে কোনো লিখিত অনুমোদন বা বৈধ কাগজপত্র ভ্রাম্যমাণ আদালতের কাছে উপস্থাপন করতে পারেননি।

এ ছাড়া ঘটনাস্থল থেকে জব্দ করা পণ্যগুলোর কোনো বিএসটিআই অনুমোদন না থাকলেও সেগুলোতে বিএসটিআইয়ের সিল ব্যবহার করে বিক্রি করা হতো বলে অভিযানে প্রাথমিকভাবে প্রমাণ পাওয়া গেছে।

অভিযানে তিয়ানশি কোম্পানির বিভিন্ন পণ্য ও মালামাল জব্দ করে প্রশাসনের হেফাজতে নেওয়া হয়। পরে জব্দ করা মালামাল ঘটনাস্থলেই পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।