বাগমারা (রাজশাহী) প্রতিনিধি
রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার মাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) আশরাফুল ইসলামের বিরুদ্ধে এক গ্রাম পুলিশ সদস্যকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, ন্যায়বিচার নিশ্চিত ও অভিযুক্ত চেয়ারম্যানের অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন উপজেলার গ্রাম পুলিশ সদস্যরা। রবিবার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে বাগমারা থানার মূল ফটকের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে ভুক্তভোগী গ্রাম পুলিশ সদস্য মেছের আলী জানান, তিনি ১০ নম্বর মাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদে প্রায় ২৭ বছর ধরে চাকরি করছেন। গত ২১ সেপ্টেম্বর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম তাকে মুঠোফোনে কল করেন। তবে মোবাইল ফোনের সমস্যা ও নেটওয়ার্কজনিত কারণে তিনি কলটি ধরতে পারেননি। পরে ইউনিয়ন পরিষদে গেলে চেয়ারম্যান তাকে ডেকে ফোন বন্ধ রাখার কারণ জানতে চান। এ সময় নেটওয়ার্ক সমস্যার কথা জানালেও তার বক্তব্য না শুনে তাকে থাপ্পড় ও লাথি মারা হয় বলে অভিযোগ করেন মেছের আলী। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার পর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যরা বিষয়টি মীমাংসার আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু প্রায় এক মাস পেরিয়ে গেলেও কোনো সমাধান তো হয়নি, উল্টো ঘটনা ধামাচাপা দিয়ে ভিন্নখাতে প্রভাবিত করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে চেয়ারম্যান আশরাফুল। এমনকি ঘটনার বিচার চাইলে বা কোথাও অভিযোগ করলে তাকেই চুরির অপবাদ নিয়ে চাকরিচ্যুত করার হুমকি দেয় চেয়ারম্যান। কিন্তু দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও কোনো সুবিচার না হওয়ায় তিনি সুবিচার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত আবেদন করেন।
এদিন মানববন্ধনে বক্তব্য দেন বাগমারা গ্রাম পুলিশের সভাপতি আব্দুর রহিম, সাধারণ সম্পাদক জামাল উদ্দিন, গ্রাম পুলিশ সদস্য আসলাম উদ্দিন, আসাদুজ্জামান, মোতালেব, আব্দুস সালাম, জালাল উদ্দিন, মোস্তাক আহমেদ, ফরিদ উদ্দিন ও আলা বক্স। বক্তারা বলেন, একজন গ্রাম পুলিশ সদস্যের সঙ্গে এমন আচরণের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তাঁরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ, তার অপসারণ, ভুক্তভোগীর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলামের অব্যাহতির দাবি জানান। দাবি পূরণ না হলে কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।
অভিযোগের বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম বলেন, পরিষদ থেকে দুস্থদের জন্য বরাদ্দ কিছু চাল হারিয়ে যায়। এ বিষয়ে মেছের আলীর কাছে জানতে চাইলে তাঁদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়, তবে মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি।
এ বিষয়ে বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল ইসলাম বলেন, গ্রাম পুলিশ সদস্যকে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে একটি লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিজু তামান্না জানান, এ ঘটনায় একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে উভয় পক্ষকে ডাকা হয়েছে। দুই পক্ষের বক্তব্য শুনে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন 
সময়ের প্রত্যাশা ডেস্ক : 





















