ঢাকা , বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 1728311111

নগরকান্দা শত্রু মুক্ত দিবস আজ

আজ ৯ নভেম্বর নগরকান্দা শত্রু মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাক বাহিনীর কাছ থেকে মুক্ত হয় ফরিদপুরের বৃহৎ এই উপজেলা।

১৯৭১ সালে বাংলার মাটিতে পাক-হানাদার বাহিনীর নগ্ন থাবা, যা সমাপ্ত হয় এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে। মুক্তিযুদ্ধের দীর্ঘ ৮ মাস পর ৯ নভেম্বর নগরকান্দার মুক্তিযোদ্ধারা জীবন বাজী রেখে সম্মুখ সমরে যুদ্ধ করে নগরকান্দা থানাকে পুরোপুরি শট্রু মুক্ত করতে সক্ষম হন।

২৯ মে নগরকান্দার দিঘোলিয়া বিলে সম্মুখ যুদ্ধে শুধুমাত্র দেশীয় অস্ত্র ঢাল-সড়কি, বল্লম নিয়ে বিলের কাদার মধ্যে কুপিয়ে কুপিয়ে ২৯ জন পাক-সেনাকে হত্যা করতে সক্ষম হন।

৫ নভেম্বর নগরকান্দা কুমার নদের খেয়া ঘাটে এক সম্মুখ যুদ্ধে নির্ভিক মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল বারেক মিয়া শহীদ হয়। শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল বারেক মিয়ার রক্তের শপথ নিয়ে ৮ নভেম্বর নগরকান্দা থানার মুক্তিযোদ্ধারা থানা ঘেরাও করার জন্য তিনটি গ্রুপের বিভক্ত হন।গ্রুপের পৃথক নেতৃত্বে ছিলেন মেজর আজিজ, আলতাফ হোসেন খান ও হামিদ জোমাদ্দার।

মুক্তিযোদ্ধারা ৮ নভেম্বর গভীররাতে বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্তি হয়ে থানার চারদিকে অবস্থান নেয়। শুরু হয় হামলা পাল্টা হামলা। সারারাত দুই গ্রুপের গুলি বিনিময়ের এক পর্যায়ে ৯ নভেম্বর সকাল ১০টায় শত্রু পক্ষরা মুক্তিযোদ্ধাদের নিকট আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়। সে সময় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আক্কেল আলী পরাজয়ের গ্লানি সইতে না পেরে পিস্তল দিয়ে নিজের মাথায় গুলি চালিয়ে আত্মহত্যা করে।

শত্রু মুক্ত হওয়ার আনন্দে মুক্তিযোদ্ধারা তখন বাংলার মানচিত্র খচিত জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে নগরকান্দাকে স্বাধীন ঘোষণা করেন।

নগরকান্দার মুক্তিযোদ্ধা ও নতুন প্রজন্ম গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে দিনটিকে প্রতি বছর স্মরণ করে আসছে।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

সাবেকি ধাঁচে শাড়ি পরে উৎসবের দিনগুলোয় যেভাবে সেজেছিলেন স্বস্তিকা মুখার্জি

error: Content is protected !!

নগরকান্দা শত্রু মুক্ত দিবস আজ

আপডেট টাইম : ০৬:১৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ নভেম্বর ২০২১
বোরহানুজ্জামান আনিস, স্টাফ রিপোর্টারঃ :

আজ ৯ নভেম্বর নগরকান্দা শত্রু মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাক বাহিনীর কাছ থেকে মুক্ত হয় ফরিদপুরের বৃহৎ এই উপজেলা।

১৯৭১ সালে বাংলার মাটিতে পাক-হানাদার বাহিনীর নগ্ন থাবা, যা সমাপ্ত হয় এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে। মুক্তিযুদ্ধের দীর্ঘ ৮ মাস পর ৯ নভেম্বর নগরকান্দার মুক্তিযোদ্ধারা জীবন বাজী রেখে সম্মুখ সমরে যুদ্ধ করে নগরকান্দা থানাকে পুরোপুরি শট্রু মুক্ত করতে সক্ষম হন।

২৯ মে নগরকান্দার দিঘোলিয়া বিলে সম্মুখ যুদ্ধে শুধুমাত্র দেশীয় অস্ত্র ঢাল-সড়কি, বল্লম নিয়ে বিলের কাদার মধ্যে কুপিয়ে কুপিয়ে ২৯ জন পাক-সেনাকে হত্যা করতে সক্ষম হন।

৫ নভেম্বর নগরকান্দা কুমার নদের খেয়া ঘাটে এক সম্মুখ যুদ্ধে নির্ভিক মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল বারেক মিয়া শহীদ হয়। শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল বারেক মিয়ার রক্তের শপথ নিয়ে ৮ নভেম্বর নগরকান্দা থানার মুক্তিযোদ্ধারা থানা ঘেরাও করার জন্য তিনটি গ্রুপের বিভক্ত হন।গ্রুপের পৃথক নেতৃত্বে ছিলেন মেজর আজিজ, আলতাফ হোসেন খান ও হামিদ জোমাদ্দার।

মুক্তিযোদ্ধারা ৮ নভেম্বর গভীররাতে বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্তি হয়ে থানার চারদিকে অবস্থান নেয়। শুরু হয় হামলা পাল্টা হামলা। সারারাত দুই গ্রুপের গুলি বিনিময়ের এক পর্যায়ে ৯ নভেম্বর সকাল ১০টায় শত্রু পক্ষরা মুক্তিযোদ্ধাদের নিকট আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়। সে সময় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আক্কেল আলী পরাজয়ের গ্লানি সইতে না পেরে পিস্তল দিয়ে নিজের মাথায় গুলি চালিয়ে আত্মহত্যা করে।

শত্রু মুক্ত হওয়ার আনন্দে মুক্তিযোদ্ধারা তখন বাংলার মানচিত্র খচিত জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে নগরকান্দাকে স্বাধীন ঘোষণা করেন।

নগরকান্দার মুক্তিযোদ্ধা ও নতুন প্রজন্ম গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে দিনটিকে প্রতি বছর স্মরণ করে আসছে।