ঢাকা , শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

দেবী দুর্গা: পৌরাণিক মহিমা থেকে মানবিক দর্শন

ধর্ম ডেস্ক: শারদীয় দুর্গোৎসব কেবল একটি সনাতন ধর্মীয় অনুষ্ঠান বা আনন্দের দিন নয়, এর গভীরে রয়েছে এক সুদূরপ্রসারী দার্শনিক ও আধ্যাত্মিক তাৎপর্য। সনাতন ধর্মে দেবী দুর্গাকে শক্তি ও মাতৃসত্তার এক অপূর্ব সম্মিলন হিসেবে বর্ণনা করা হয়। সৃষ্টির স্থিতি ও সুরক্ষার জন্য তার এই রূপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়। পৌরাণিক যুগ থেকেই নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে শুভশক্তির বিজয়ের প্রতীক হিসেবে পূজিত হয়ে আসছেন দেবী দুর্গা।

পুরাণের বিভিন্ন উপাখ্যানে দেখা যায়, যখনই পৃথিবীতে অশুভ শক্তি ও অন্যায় মাত্রাতিরিক্ত বৃদ্ধি পেয়েছে, তখনই দেবতারা সম্মিলিতভাবে মহাশক্তির আরাধনা করেছেন। এই আরাধনার মধ্য দিয়ে আবির্ভূত হয়েছেন দেবী দুর্গা, যিনি সমস্ত আসুরিক শক্তিকে পরাস্ত করে শান্তি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। অসুর বিনাশের এই পৌরাণিক কাহিনী মূলত সমাজের ভেতরের অন্ধত্ব, হিংসা ও নেতিবাচক প্রবৃত্তিগুলো দূর করার এক রূপক বার্তা বহন করে।

পৌরাণিক বর্ণনার পাশাপাশি এই উৎসবের একটি গভীর মানবিক দিক রয়েছে যা সাধারণ মানুষকে একত্রিত করে। দেবী দুর্গার রূপের মধ্যে একজন জননীর স্নেহময়ী প্রকাশ যেমন লক্ষণীয়, তেমনই অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন সংগ্রামী মনোভাবও স্পষ্ট। এই দ্বৈত রূপ মানবজীবনের চলার পথে ভারসাম্য বজায় রাখতে উৎসাহিত করে। সমাজের প্রতিটি মানুষের অন্তরে যে সুপ্ত শক্তি ও মানবিক গুণাবলি রয়েছে, তা জাগিয়ে তোলার এক বড় মাধ্যম হলো এই পূজা।

উৎসবের সার্বজনীন রূপটি সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে এক সুতোয় বাঁধতে সাহায্য করে যা সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। জাতি, ধর্ম কিংবা বর্ণ নির্বিশেষে সবাই এই আনন্দে অংশ নেন এবং ভেদাভেদ ভুলে একে অপরের কাছাকাছি আসেন। দেবী দুর্গার আরাধনা তাই কেবল দেবপূজা নয়, বরং আত্মশুদ্ধি এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য প্রতিষ্ঠার এক অনন্য উপলক্ষ হিসেবে যুগ যুগ ধরে পালিত হয়ে আসছে।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

Ishtiaque Ahmed

জনপ্রিয় সংবাদ

সৌদির বিধিনিষেধে বাংলাদেশের ১১৪ ফ্লাইট ব্যাহত, ভোগান্তিতে ১৭ হাজার ৭০১ যাত্রী

error: Content is protected !!

দেবী দুর্গা: পৌরাণিক মহিমা থেকে মানবিক দর্শন

আপডেট টাইম : ৫৭ মিনিট আগে
সময়ের প্রত্যাশা ডেস্ক : :

ধর্ম ডেস্ক: শারদীয় দুর্গোৎসব কেবল একটি সনাতন ধর্মীয় অনুষ্ঠান বা আনন্দের দিন নয়, এর গভীরে রয়েছে এক সুদূরপ্রসারী দার্শনিক ও আধ্যাত্মিক তাৎপর্য। সনাতন ধর্মে দেবী দুর্গাকে শক্তি ও মাতৃসত্তার এক অপূর্ব সম্মিলন হিসেবে বর্ণনা করা হয়। সৃষ্টির স্থিতি ও সুরক্ষার জন্য তার এই রূপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়। পৌরাণিক যুগ থেকেই নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে শুভশক্তির বিজয়ের প্রতীক হিসেবে পূজিত হয়ে আসছেন দেবী দুর্গা।

পুরাণের বিভিন্ন উপাখ্যানে দেখা যায়, যখনই পৃথিবীতে অশুভ শক্তি ও অন্যায় মাত্রাতিরিক্ত বৃদ্ধি পেয়েছে, তখনই দেবতারা সম্মিলিতভাবে মহাশক্তির আরাধনা করেছেন। এই আরাধনার মধ্য দিয়ে আবির্ভূত হয়েছেন দেবী দুর্গা, যিনি সমস্ত আসুরিক শক্তিকে পরাস্ত করে শান্তি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। অসুর বিনাশের এই পৌরাণিক কাহিনী মূলত সমাজের ভেতরের অন্ধত্ব, হিংসা ও নেতিবাচক প্রবৃত্তিগুলো দূর করার এক রূপক বার্তা বহন করে।

পৌরাণিক বর্ণনার পাশাপাশি এই উৎসবের একটি গভীর মানবিক দিক রয়েছে যা সাধারণ মানুষকে একত্রিত করে। দেবী দুর্গার রূপের মধ্যে একজন জননীর স্নেহময়ী প্রকাশ যেমন লক্ষণীয়, তেমনই অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন সংগ্রামী মনোভাবও স্পষ্ট। এই দ্বৈত রূপ মানবজীবনের চলার পথে ভারসাম্য বজায় রাখতে উৎসাহিত করে। সমাজের প্রতিটি মানুষের অন্তরে যে সুপ্ত শক্তি ও মানবিক গুণাবলি রয়েছে, তা জাগিয়ে তোলার এক বড় মাধ্যম হলো এই পূজা।

উৎসবের সার্বজনীন রূপটি সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে এক সুতোয় বাঁধতে সাহায্য করে যা সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। জাতি, ধর্ম কিংবা বর্ণ নির্বিশেষে সবাই এই আনন্দে অংশ নেন এবং ভেদাভেদ ভুলে একে অপরের কাছাকাছি আসেন। দেবী দুর্গার আরাধনা তাই কেবল দেবপূজা নয়, বরং আত্মশুদ্ধি এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য প্রতিষ্ঠার এক অনন্য উপলক্ষ হিসেবে যুগ যুগ ধরে পালিত হয়ে আসছে।