তাসলিমা আক্তার বিথীঃ
খাগড়াছড়ি জেলার পর্যটন খাতের উন্নয়ন, সেবার মান বৃদ্ধি এবং টেকসই পর্যটন ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ট্যুর অপারেটর ও ট্যুর গাইড সিস্টেমের নিবন্ধনসহ পর্যটন সহায়তা সেবা শক্তিশালীকরণ বিষয়ে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা এবং জেলা পর্যটন উন্নয়ন কমিটি শক্তিশালীকরণ বিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টায় Promoting Gender Responsive Enterprise Development and TVET Systems (ProGRESS), ILO প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের আয়োজনে জেলা সদরের পর্যটন মোটেলে এ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে ট্যুর অপারেটর, ট্যুর গাইড, ফটোগ্রাফার, পরিবহণকর্মী, হোটেল-রেস্টুরেন্ট উদ্যোক্তা, সাংস্কৃতিক কর্মী, স্থানীয় হস্তশিল্প ও স্মারক প্রস্তুতকারক, নারী উদ্যোক্তাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মোট ৫৫ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশগ্রহণ করেন।
প্রশিক্ষণে ট্যুর অপারেটর ও ট্যুর গাইডদের নিবন্ধন প্রক্রিয়া, দায়িত্ব ও কর্তব্য, পর্যটক সেবার মানোন্নয়ন, পর্যটনবান্ধব আচরণ এবং নিরাপদ পর্যটন ব্যবস্থাপনা বিষয়ে বিস্তারিত দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।
প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শেষে দুপুরে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের হলরুমে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের যৌথ উদ্যোগে জেলা পর্যটন উন্নয়ন কমিটি শক্তিশালীকরণ বিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে শেফালিকা ত্রিপুরা বলেন, “খাগড়াছড়িতে পর্যটন উন্নয়নের ক্ষেত্রে পরিবেশ সংরক্ষণ, স্থানীয় সংস্কৃতির সুরক্ষা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেই টেকসই পর্যটন গড়ে তুলতে হবে। পর্যটনসংশ্লিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে এসব বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্ব দিতে হবে।” তিনি আরও বলেন, স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা গেলে পর্যটনের সুফল আরও বিস্তৃত হবে।
বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের পরিচালক (যুগ্ম সচিব) আবু সেলিম মাহমুদ-উল হাসান বলেন, জেলা পর্যটন উন্নয়ন কমিটিকে আরও সক্রিয় ও কার্যকর করার লক্ষ্যেই এ সভার আয়োজন করা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নিয়মিত সভা ও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে কমিটি খাগড়াছড়ির পর্যটন উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
উন্মুক্ত আলোচনায় বক্তারা বলেন, পার্বত্য তিন জেলার মধ্যে খাগড়াছড়ি পর্যটন উন্নয়নের ক্ষেত্রে কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে এবং বর্তমানে এটি মূলত সাজেকগামী পর্যটকদের একটি ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। খাগড়াছড়ির নিজস্ব পর্যটন ব্র্যান্ডিং জোরদার করা, সরকারি ও বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের বিনিয়োগ বৃদ্ধি, পর্যটন স্পটসমূহের উন্নয়ন এবং পর্যটন মোটেলসহ সরকারি পর্যটনসেবা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো ও সেবার মান উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে পর্যটনভিত্তিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি, পর্যটনবান্ধব সেবা নিশ্চিতকরণ এবং পর্যটকদের জন্য কোড অব কনডাক্ট বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়।
সভায় খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা নোমান হোসেন বলেন, “জেলা উন্নয়ন সমন্বয় সভা ও জেলা পর্যটন উন্নয়ন কমিটির নিয়মিত সভা এবং বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে খাগড়াছড়ির পর্যটন খাতকে পরিকল্পিতভাবে এগিয়ে নেওয়া হবে।”
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের পরিচালক (যুগ্ম সচিব) আবু সেলিম মাহমুদ-উল হাসান, উপ-পরিচালক মহিবুল ইসলাম, সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জাবেদ আহমেদ, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক সাজিয়া তাহের, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কামরুল ইসলাম, জেলা পরিষদের সদস্য প্রশান্ত কুমার ত্রিপুরা, ধনেশ্বর ত্রিপুরা, নিটোল মনি চাকমা, শহীদুল ইসলাম সুমন, প্রফেসর আব্দুল লতিফ, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজ উল-শাকিক, ট্যুরিস্ট পুলিশের প্রতিনিধি কাঞ্চন কান্তি দাস, জেলা সিভিল সার্জনের প্রতিনিধি, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রতিনিধি, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার, বিসিকের উপ-ব্যবস্থাপক, জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি, হোটেল মালিক সমিতির প্রতিনিধি, নারী সংগঠন ও পর্যটন খাতের যুব উদ্যোক্তাসহ জেলা পর্যটন উন্নয়ন কমিটির অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।
বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, সমন্বিত উদ্যোগ ও কার্যকর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে খাগড়াছড়ির পর্যটন খাতকে আরও নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও পর্যটকবান্ধব হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
প্রিন্ট

বাঘায় সুষ্ঠ সুন্দর পরিবেশে প্রাথমিকের বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিতঃ উপস্থিতির হারে বালিকা এগিয়ে 
তাসলিমা আক্তার বিথী, খাগড়াছড়ি জেলা প্রতিনিধি 



















