ঢাকা , সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo মোবাইল চার্জ দিতে গিয়ে কিশোরীর মৃত্যু Logo ফরিদপুরে ওজোপাডিকোর উদ্যোগে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত Logo বাংলাদেশের আকাশে রহস্যময় আলোর ঝলকানি ঘিরে যা জানা যাচ্ছে Logo দেড় লাখ টাকার গাছ ৫০ হাজারে নিলাম Logo ফরিদপুরে ট্রিপল মার্ডারঃ ১০ ঘণ্টায় গ্রেফতার প্রধান আসামি, উদ্ধার কোদাল Logo ফরিদপুরে ‘শ্মশান বন্ধু’ কানু সেন অনেকটাই সুস্থ Logo বাঘায় সুষ্ঠ সুন্দর পরিবেশে প্রাথমিকের বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিতঃ উপস্থিতির হারে বালিকা এগিয়ে Logo নরসিংদীর শিবপুরে ২৬ মামলার আসামিসহ দুই ডাকাত গ্রেপ্তার Logo খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ইস্টার সানডে পালিত হবে আগামীকাল Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মাদক উদ্ধার
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

কুমারখালী হাসপাতালের আবাসিক ভবনে মুরগির খামার, দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ রোগীরা

ইসমাইল হোসেন বাবু:

 

কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের এখন নাকে রুমাল দিয়ে পথ চলতে হচ্ছে। কারণ, হাসপাতালের আবাসিক ভবনের ছাদটি পরিণত হয়েছে একটি পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক মুরগির খামারে। হাসপাতালের আয়া পলি খাতুনের গড়ে তোলা এই খামারের বিষ্ঠার দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও স্বজনরা।

 

হাসপাতালের মূল ভবনের ঠিক পাশেই আবাসিক ভবন। হাসপাতালের গাইনি বিভাগ, অপারেশন থিয়েটার ও প্রসূতি মায়েরা চিকিৎসাধীন। ঠিক তার পাশেই আছে সেই মুরগির খামার। বাতাস হলেই ছাদ থেকে আসছে মুরগির বিষ্ঠার তীব্র দুর্গন্ধ।

 

খামারের মালিক হাসপাতালের আয়া পলি খাতুন বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “এক মাস হলো খামারটি করেছি। খামারে শতাধিক ব্রয়লার মুরগি রয়েছে। এখন ২১ দিন বয়স হয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হয়েছে তাই গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে, তা ছাড়া গন্ধ হয় না। আজকেই ছাদ থেকে মুরগিগুলো সরিয়ে ফেলব।”

 

পলি খাতুন আরও বলেন, “খামারের বিষয়ে স্যার (উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা) জানেন। আমি তাকে খামারে মুরগি তোলার ব্যাপারে জানিয়েছিলাম।”

 

এ বিষয়ে কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শামীমা আক্তার বলেন, “ওই কোয়ার্টার হাসপাতালের পেছনে অবস্থিত। দীর্ঘদিন কোয়ার্টারটি পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। সে কারণে চুরির ঘটনা ঘটেছিল। একসময় মাদকাসক্তদের আড্ডাখানায় পরিণত হয়েছিল ভবনটি। সেখানে টিকটক করত। তাই আমার আগে যিনি কর্মকর্তা ছিলেন, তিনি পলি খাতুনকে ওখানে থাকতে দিয়েছিলেন, যাতে ভবনের নিরাপত্তা থাকে।”

 

তিনি আরও বলেন, “ওই কোয়ার্টারের ছাদে মুরগির খামার গড়ে তোলার বিষয়টি আমার জানা ছিল না। গতকাল এ বিষয়ে জানলাম। ইতোমধ্যে মুরগি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আমি পলি খাতুনকে শোকজ করেছি। একইসঙ্গে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।”

 

কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন ডা. শেখ মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, “এ বিষয়ে আমি অবগত হয়েছি। সেখানে অল্প সংখ্যক মুরগি ছিল। ইতোমধ্যেই মুরগিগুলো সরিয়ে ফেলা হয়েছে।”

 

হাসপাতাল চত্বরের এই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিয়ে এখন স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, সাধারণ মানুষ যেখানে ন্যূনতম স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার চেষ্টা করে, সেখানে সরকারি হাসপাতালের ভেতরে এমন অব্যবস্থাপনা লজ্জাজনক। অবশ্যই এর বিচার হতে হবে।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

কুমারখালী হাসপাতালের আবাসিক ভবনে মুরগির খামার, দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ রোগীরা

error: Content is protected !!

কুমারখালী হাসপাতালের আবাসিক ভবনে মুরগির খামার, দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ রোগীরা

আপডেট টাইম : ১১ ঘন্টা আগে
ইসমাইল হোসেন বাবু, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার :

ইসমাইল হোসেন বাবু:

 

কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের এখন নাকে রুমাল দিয়ে পথ চলতে হচ্ছে। কারণ, হাসপাতালের আবাসিক ভবনের ছাদটি পরিণত হয়েছে একটি পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক মুরগির খামারে। হাসপাতালের আয়া পলি খাতুনের গড়ে তোলা এই খামারের বিষ্ঠার দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও স্বজনরা।

 

হাসপাতালের মূল ভবনের ঠিক পাশেই আবাসিক ভবন। হাসপাতালের গাইনি বিভাগ, অপারেশন থিয়েটার ও প্রসূতি মায়েরা চিকিৎসাধীন। ঠিক তার পাশেই আছে সেই মুরগির খামার। বাতাস হলেই ছাদ থেকে আসছে মুরগির বিষ্ঠার তীব্র দুর্গন্ধ।

 

খামারের মালিক হাসপাতালের আয়া পলি খাতুন বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “এক মাস হলো খামারটি করেছি। খামারে শতাধিক ব্রয়লার মুরগি রয়েছে। এখন ২১ দিন বয়স হয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হয়েছে তাই গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে, তা ছাড়া গন্ধ হয় না। আজকেই ছাদ থেকে মুরগিগুলো সরিয়ে ফেলব।”

 

পলি খাতুন আরও বলেন, “খামারের বিষয়ে স্যার (উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা) জানেন। আমি তাকে খামারে মুরগি তোলার ব্যাপারে জানিয়েছিলাম।”

 

এ বিষয়ে কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শামীমা আক্তার বলেন, “ওই কোয়ার্টার হাসপাতালের পেছনে অবস্থিত। দীর্ঘদিন কোয়ার্টারটি পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। সে কারণে চুরির ঘটনা ঘটেছিল। একসময় মাদকাসক্তদের আড্ডাখানায় পরিণত হয়েছিল ভবনটি। সেখানে টিকটক করত। তাই আমার আগে যিনি কর্মকর্তা ছিলেন, তিনি পলি খাতুনকে ওখানে থাকতে দিয়েছিলেন, যাতে ভবনের নিরাপত্তা থাকে।”

 

তিনি আরও বলেন, “ওই কোয়ার্টারের ছাদে মুরগির খামার গড়ে তোলার বিষয়টি আমার জানা ছিল না। গতকাল এ বিষয়ে জানলাম। ইতোমধ্যে মুরগি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আমি পলি খাতুনকে শোকজ করেছি। একইসঙ্গে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।”

 

কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন ডা. শেখ মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, “এ বিষয়ে আমি অবগত হয়েছি। সেখানে অল্প সংখ্যক মুরগি ছিল। ইতোমধ্যেই মুরগিগুলো সরিয়ে ফেলা হয়েছে।”

 

হাসপাতাল চত্বরের এই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিয়ে এখন স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, সাধারণ মানুষ যেখানে ন্যূনতম স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার চেষ্টা করে, সেখানে সরকারি হাসপাতালের ভেতরে এমন অব্যবস্থাপনা লজ্জাজনক। অবশ্যই এর বিচার হতে হবে।