ঢাকা , রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

কুড়িগ্রামে বাস ভাংচুর ও চালকসহ ৩ শ্রমিককে মারধরের অভিযোগে মানববন্ধন

কাজল ইসলামঃ

কুড়িগ্রাম ভুরুঙ্গামারী হতে ঢাকামুখী যাত্রীবাহী একটি বাস ভাংচুর এবং চালক, হেলপার ও সুপারভাইজারকে মারধরের অভিযোগে জেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক শাপলা চত্বরে অবরোধ করে মানববন্ধন করেছেন বাস শ্রমিকরা।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাত ৯ টা থেকে প্রায় ২ থেকে ৩ ঘন্টা রাস্তায় একাধিক বাস থামিয়ে মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করা হয়েছে। এ সময় জেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়ে জন সাধারণে ভোগান্তি দেখা দেয়। মানববন্ধনকারী শ্রমিকদের কাছে থেকে জানা যায়, ভুরুঙ্গামারী হতে ঢাকামুখী একটি যাত্রীবাহী বাস ‘মা নাদিয়া পরিবহন’ ধরলা ব্রীজের বাণিজ্য মেলার নিকটবর্তী হলে কয়েকজন বখাটে ছেলে শিল্প ও বাণিজ্য মেলা থেকে বের হয়ে বাসটি থামানোর চেষ্টা করেন। বাসটি তাদের অতিক্রম করে আসলে ধরলা ব্রীজের টোল ঘরে টোল প্রদানের সময় ওই কয়েকজন বখাটে ছেলে বাসটিকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুঁড়ে।

পরিস্থিতি অস্বাভাবিক বুঝতে পেয়ে বাস চালক দ্রুত বাসটি সেখান থেকে নিরাপদে সড়িয়ে নিলেও। পরবর্তীতে কুড়িগ্রাম রিভার ভিউ স্কুল মোড়ে ও শিল্পকলা একাডেমির সামনে পুনরায় বাসটিকে আটক করে আক্রমণ করেন ওই যুবকগুলো। এ সময় বাসে থাকা চালক, হেলপারসহ সুপারভাইজারকে মারধর করেন তারা। মারধরের একপর্যায় ওই ৩ (তিন) ব্যক্তি গুরুতর আহত হয় বলে অভিযোগ করেন বাস শ্রমিকরা।

এ ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে কুড়িগ্রাম বাস মিনিবাস শ্রমিকরা রাত ৯ টার সময় জেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক শাপলা চত্বর অবরোধ করে মানববন্ধন করেন। মানববন্ধনে দাবি করে শ্রমিকরা জানান, মেলায় কিছু উশৃংখল ছেলে সন্ত্রাসী কায়দায় মেলার সামনে ‘মা নাদিয়া পরিবহন’ নামক বাসটি আটকানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে এ ঘটনা ঘটায়। এমন নিন্দনীয় ঘটনার ফলে মেলা বন্ধের দাবি ও ২৪ ঘন্টার মধ্যে দোষীদের গ্রেপ্তার করার দাবি জানানো হয়। অন্যর্থায় ফের মানববন্ধনের হুশিয়ারি দেন শ্রমিক নেতারা।

পরে পরিস্থিতি শান্ত করতে ঘটনাস্থলে কুড়িগ্রাম সদর থানার পুলিশ উপস্থিত হয়ে শ্রমিকদের দাবিগুলোর কথা শোনেন। এরপর কুড়িগ্রাম সদর থানার অফিসার ইনচার্জ কামাল হোসেন বলেন, বাস ভাংচুর ও শ্রমিকদের উপর হামলার ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। খুব দ্রুত তাদের গ্রেপ্তার করা হবে। এবং মেলা বন্ধের বিষয় তিনি বলেন এটা জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার মহোদয়ের বিষয়। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এ বিষয় সিদ্ধান্ত নেবেন।

পুলিশের আশ্বাস পেয়ে দীর্ঘ প্রায় ৩ ঘন্টা পর মানববন্ধন প্রত্যাহার করে নেন শ্রমিকরা। এবং হুশিয়ারি দিয়ে বলেন দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পুনরায় মানববন্ধন করা হবে।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

নাটোরে সড়ক দুর্ঘটনায় স্কুল শিক্ষক নিহত

error: Content is protected !!

কুড়িগ্রামে বাস ভাংচুর ও চালকসহ ৩ শ্রমিককে মারধরের অভিযোগে মানববন্ধন

আপডেট টাইম : ১৪ ঘন্টা আগে
কাজল ইসলাম, জেলা প্রতিনিধি, কুড়িগ্রাম :

কাজল ইসলামঃ

কুড়িগ্রাম ভুরুঙ্গামারী হতে ঢাকামুখী যাত্রীবাহী একটি বাস ভাংচুর এবং চালক, হেলপার ও সুপারভাইজারকে মারধরের অভিযোগে জেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক শাপলা চত্বরে অবরোধ করে মানববন্ধন করেছেন বাস শ্রমিকরা।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাত ৯ টা থেকে প্রায় ২ থেকে ৩ ঘন্টা রাস্তায় একাধিক বাস থামিয়ে মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করা হয়েছে। এ সময় জেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়ে জন সাধারণে ভোগান্তি দেখা দেয়। মানববন্ধনকারী শ্রমিকদের কাছে থেকে জানা যায়, ভুরুঙ্গামারী হতে ঢাকামুখী একটি যাত্রীবাহী বাস ‘মা নাদিয়া পরিবহন’ ধরলা ব্রীজের বাণিজ্য মেলার নিকটবর্তী হলে কয়েকজন বখাটে ছেলে শিল্প ও বাণিজ্য মেলা থেকে বের হয়ে বাসটি থামানোর চেষ্টা করেন। বাসটি তাদের অতিক্রম করে আসলে ধরলা ব্রীজের টোল ঘরে টোল প্রদানের সময় ওই কয়েকজন বখাটে ছেলে বাসটিকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুঁড়ে।

পরিস্থিতি অস্বাভাবিক বুঝতে পেয়ে বাস চালক দ্রুত বাসটি সেখান থেকে নিরাপদে সড়িয়ে নিলেও। পরবর্তীতে কুড়িগ্রাম রিভার ভিউ স্কুল মোড়ে ও শিল্পকলা একাডেমির সামনে পুনরায় বাসটিকে আটক করে আক্রমণ করেন ওই যুবকগুলো। এ সময় বাসে থাকা চালক, হেলপারসহ সুপারভাইজারকে মারধর করেন তারা। মারধরের একপর্যায় ওই ৩ (তিন) ব্যক্তি গুরুতর আহত হয় বলে অভিযোগ করেন বাস শ্রমিকরা।

এ ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে কুড়িগ্রাম বাস মিনিবাস শ্রমিকরা রাত ৯ টার সময় জেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক শাপলা চত্বর অবরোধ করে মানববন্ধন করেন। মানববন্ধনে দাবি করে শ্রমিকরা জানান, মেলায় কিছু উশৃংখল ছেলে সন্ত্রাসী কায়দায় মেলার সামনে ‘মা নাদিয়া পরিবহন’ নামক বাসটি আটকানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে এ ঘটনা ঘটায়। এমন নিন্দনীয় ঘটনার ফলে মেলা বন্ধের দাবি ও ২৪ ঘন্টার মধ্যে দোষীদের গ্রেপ্তার করার দাবি জানানো হয়। অন্যর্থায় ফের মানববন্ধনের হুশিয়ারি দেন শ্রমিক নেতারা।

পরে পরিস্থিতি শান্ত করতে ঘটনাস্থলে কুড়িগ্রাম সদর থানার পুলিশ উপস্থিত হয়ে শ্রমিকদের দাবিগুলোর কথা শোনেন। এরপর কুড়িগ্রাম সদর থানার অফিসার ইনচার্জ কামাল হোসেন বলেন, বাস ভাংচুর ও শ্রমিকদের উপর হামলার ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। খুব দ্রুত তাদের গ্রেপ্তার করা হবে। এবং মেলা বন্ধের বিষয় তিনি বলেন এটা জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার মহোদয়ের বিষয়। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এ বিষয় সিদ্ধান্ত নেবেন।

পুলিশের আশ্বাস পেয়ে দীর্ঘ প্রায় ৩ ঘন্টা পর মানববন্ধন প্রত্যাহার করে নেন শ্রমিকরা। এবং হুশিয়ারি দিয়ে বলেন দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পুনরায় মানববন্ধন করা হবে।