ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

কাস্টমস শর্ত আরোপ করায় বেনাপোল বন্দরে মাছ আমদানি কমছে

সাজেদুর রহমানঃ

 

কাস্টমস নতুন শর্তারোপ করায় বেনাপোল বন্দর দিয়ে মাছ আমদানি কমে গেছে। নির্ধারিত শুল্কের চেয়ে বেশি শুল্ক আদায় করায় মাছ আমদানিতে নিরুৎসাহিত হচ্ছে আমদানিকারকরা। সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব।

 

বেনাপোল কাস্টমস সূত্রে জানা যায়, ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে মাছ আমদানি হয়েছে ৩৫ হাজার ৪৯৩ মেট্রিক টন। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা কমে আমদানি হয়েছে ১৭ হাজার ১১৮ মেট্রিক টন। ২০২৩-২৪ অর্থবছরের চেয়ে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১৮ হাজার ৩৭৫ মেট্রিক টন মাছ কম আমদানি হয়েছে। সোমবার (১১ আগস্ট) বেনাপোল স্থলবন্দরে ৬ ট্রাক মাছ আমদানি হয়েছে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার ৭ ট্রাক মাছ আমদানি হয়েছিল। গত শনিবার ও রোববার কোনো মাছ আমদানি হয়নি। এরআগে বেনাপোল বন্দরে প্রতিদিন
১৫-২০ ট্রাক মাছ আমদানি হইত। অথচ শেষ ৫ দিনে ১৩ ট্রাক মাছ আমদানি হয়েছে।

 

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সামুদ্রিক মাছ শুল্কায়ন নির্ধারণ করেছে ৫০ সেন্ট মার্কিন ডলার অথচ বেনাপোল কাস্টম হাউস প্রতি কেজি শুল্কায়ন করছে ৭৫ সেন্ট এতে প্রতি কেজি মাছে অতিরিক্ত ২০ টাকা রাজস্ব দিতে হচ্ছে। তবে রাজস্ব বোর্ডের নির্ধারণ করা মিঠা পানির মাছ কেজি প্রতি ১.৫০ মার্কিন ডলার মূল্যে শুল্কায়ন হচ্ছে।

 

কাস্টমস কর্তৃপক্ষ ব্যবসায়ীদের জানিয়েছেন প্রতি ট্রাকে ৮০ শতাংশ মিঠাপানির মাছ ও ২০ শতাংশ সামুদ্রিক মাছ থাকতে হবে। এই শর্তে মাছ আমদানি করলে লোকসানের মুখে পড়তে হবে আমদানিকারকদের।

 

আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স জান্নাত এন্টারপ্রাইজের মালিক আল ফেরদৌস আলফা বলেন, অতিরিক্ত শুল্ক ও অযৌক্তিক শর্তের কারণে আমরা চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছি। আগের তুলনায় ট্রাকপ্রতি মাছ আমদানিতে প্রায় ২৫ শতাংশ খরচ বেড়েছে। মাছ পরীক্ষনের সময় শতভাগ বক্স খুলাই বরফ গলে মাছ নষ্ঠ হচ্ছে। ফলে লাভের পরিবর্তে লোকসান হচ্ছে বেশি।

 

বেনাপোল আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান বলেন, মাছ আমদানি হতে বেনাপোল বন্দর থেকে সরকার প্রতিদিন প্রায় দেড় থেকে দুই কোটি টাকা রাজস্ব আয় করত। আগে গ্রোস ওজন ১৩৫ কেজি থেকে বরফ ও কার্টনের ওজন বাদ দিয়ে নিট ওজন ৬৬ কেজিতে শুল্কায়ন করা হতো। বর্তমানে গ্রোস ওজন ১০০ কেজি থেকে নীট ওজন ৫৫ কেজি হিসেবে শুল্ককর পরিশোধ করতে হচ্ছে।

 

সে হিসেবে আমদানিকারকে অতিরিক্ত শুল্ক দিতে হচ্ছে। মাছ পরীক্ষনের সময় প্রতিটি বক্স খুলছে ফলে বরফ গলে মাছ নষ্ট হচ্ছে। বিষয়টি কাস্টম কর্তৃপক্ষ কে জানালেও কোনো সমাধান হয়নি। আমদানি খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় মাছ আমদানি বন্ধ রাখা ছাড়া উপায় নেই।

 

বেনাপোল কাস্টমসের উপ-কমিশনার মীর্জা রাফেজা সুলতানা বলেন, মাছ আমদানিতে বাধা নেই, মিঠা পানির মাছ ৮০ শতাংশ ও সামুদ্রিক মাছ ২০ শতাংশ শুল্ক দিতে হবে এটি সঠিক নয়। মাছ ব্যবসায়ীরা মিঠা পানির মাছ ও সামুদ্রিক মাছ আমদানিতে যে ঘোষণা দেবে তার সঙ্গে আমদানি পণ্যের কোনো মিল থাকে না। যার ফলে গত সপ্তাহে আমদানিকৃত মাছের বেশ কয়েকটি চালানে অনিয়মের সত্যতা পাওয়ায় জরিমানা করা হয়েছে। বৈধভাবে মাছ আমদানিতে বেনাপোল কাস্টমসের সর্বাত্মক সহযোগিতা থাকবে।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

বাগাতিপাড়ায় উপজেলা সমবায় কর্মকর্তার বিদায় সংবর্ধনা

error: Content is protected !!

কাস্টমস শর্ত আরোপ করায় বেনাপোল বন্দরে মাছ আমদানি কমছে

আপডেট টাইম : ০৮:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ অগাস্ট ২০২৫
সাজেদুর রহমান, বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি :

সাজেদুর রহমানঃ

 

কাস্টমস নতুন শর্তারোপ করায় বেনাপোল বন্দর দিয়ে মাছ আমদানি কমে গেছে। নির্ধারিত শুল্কের চেয়ে বেশি শুল্ক আদায় করায় মাছ আমদানিতে নিরুৎসাহিত হচ্ছে আমদানিকারকরা। সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব।

 

বেনাপোল কাস্টমস সূত্রে জানা যায়, ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে মাছ আমদানি হয়েছে ৩৫ হাজার ৪৯৩ মেট্রিক টন। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা কমে আমদানি হয়েছে ১৭ হাজার ১১৮ মেট্রিক টন। ২০২৩-২৪ অর্থবছরের চেয়ে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১৮ হাজার ৩৭৫ মেট্রিক টন মাছ কম আমদানি হয়েছে। সোমবার (১১ আগস্ট) বেনাপোল স্থলবন্দরে ৬ ট্রাক মাছ আমদানি হয়েছে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার ৭ ট্রাক মাছ আমদানি হয়েছিল। গত শনিবার ও রোববার কোনো মাছ আমদানি হয়নি। এরআগে বেনাপোল বন্দরে প্রতিদিন
১৫-২০ ট্রাক মাছ আমদানি হইত। অথচ শেষ ৫ দিনে ১৩ ট্রাক মাছ আমদানি হয়েছে।

 

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সামুদ্রিক মাছ শুল্কায়ন নির্ধারণ করেছে ৫০ সেন্ট মার্কিন ডলার অথচ বেনাপোল কাস্টম হাউস প্রতি কেজি শুল্কায়ন করছে ৭৫ সেন্ট এতে প্রতি কেজি মাছে অতিরিক্ত ২০ টাকা রাজস্ব দিতে হচ্ছে। তবে রাজস্ব বোর্ডের নির্ধারণ করা মিঠা পানির মাছ কেজি প্রতি ১.৫০ মার্কিন ডলার মূল্যে শুল্কায়ন হচ্ছে।

 

কাস্টমস কর্তৃপক্ষ ব্যবসায়ীদের জানিয়েছেন প্রতি ট্রাকে ৮০ শতাংশ মিঠাপানির মাছ ও ২০ শতাংশ সামুদ্রিক মাছ থাকতে হবে। এই শর্তে মাছ আমদানি করলে লোকসানের মুখে পড়তে হবে আমদানিকারকদের।

 

আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স জান্নাত এন্টারপ্রাইজের মালিক আল ফেরদৌস আলফা বলেন, অতিরিক্ত শুল্ক ও অযৌক্তিক শর্তের কারণে আমরা চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছি। আগের তুলনায় ট্রাকপ্রতি মাছ আমদানিতে প্রায় ২৫ শতাংশ খরচ বেড়েছে। মাছ পরীক্ষনের সময় শতভাগ বক্স খুলাই বরফ গলে মাছ নষ্ঠ হচ্ছে। ফলে লাভের পরিবর্তে লোকসান হচ্ছে বেশি।

 

বেনাপোল আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান বলেন, মাছ আমদানি হতে বেনাপোল বন্দর থেকে সরকার প্রতিদিন প্রায় দেড় থেকে দুই কোটি টাকা রাজস্ব আয় করত। আগে গ্রোস ওজন ১৩৫ কেজি থেকে বরফ ও কার্টনের ওজন বাদ দিয়ে নিট ওজন ৬৬ কেজিতে শুল্কায়ন করা হতো। বর্তমানে গ্রোস ওজন ১০০ কেজি থেকে নীট ওজন ৫৫ কেজি হিসেবে শুল্ককর পরিশোধ করতে হচ্ছে।

 

সে হিসেবে আমদানিকারকে অতিরিক্ত শুল্ক দিতে হচ্ছে। মাছ পরীক্ষনের সময় প্রতিটি বক্স খুলছে ফলে বরফ গলে মাছ নষ্ট হচ্ছে। বিষয়টি কাস্টম কর্তৃপক্ষ কে জানালেও কোনো সমাধান হয়নি। আমদানি খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় মাছ আমদানি বন্ধ রাখা ছাড়া উপায় নেই।

 

বেনাপোল কাস্টমসের উপ-কমিশনার মীর্জা রাফেজা সুলতানা বলেন, মাছ আমদানিতে বাধা নেই, মিঠা পানির মাছ ৮০ শতাংশ ও সামুদ্রিক মাছ ২০ শতাংশ শুল্ক দিতে হবে এটি সঠিক নয়। মাছ ব্যবসায়ীরা মিঠা পানির মাছ ও সামুদ্রিক মাছ আমদানিতে যে ঘোষণা দেবে তার সঙ্গে আমদানি পণ্যের কোনো মিল থাকে না। যার ফলে গত সপ্তাহে আমদানিকৃত মাছের বেশ কয়েকটি চালানে অনিয়মের সত্যতা পাওয়ায় জরিমানা করা হয়েছে। বৈধভাবে মাছ আমদানিতে বেনাপোল কাস্টমসের সর্বাত্মক সহযোগিতা থাকবে।