ঢাকা , সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

আলফাডাঙ্গায় প্রেমিকের ফাঁদে মাদ্রাসাছাত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, দলীয় প্রধান পুলিশের হাতে আটক

মোঃ ইকবাল হোসেন:

 

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় প্রেমের সম্পর্কের ফাঁদে ফেলে ১৪ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রীকে ৬ দিন আটকে রেখে দলবদ্ধ ধর্ষণের (গণধর্ষণ) ন্যাক্কারজনক অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্তকে আটক করে থানা পুলিশে সোপর্দ করেছে বিক্ষুব্ধ স্থানীয় জনতা।

 

​ঘটনাটি ঘটেছে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা ও পার্শ্ববর্তী গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী সীমানায়। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

 

​পুলিশ, ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আলফাডাঙ্গা উপজেলার বুরাইচ ইউনিয়নের শৈলমারি গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ কুদ্দুস মোল্লার মেয়ে শামীমা (১৪) স্থানীয় ইউসুফেরবাগ মাদ্রাসার চতুর্থ জামাতের ছাত্রী। বাড়ির পাশের মুদি দোকানে আসা-যাওয়ার সুবাদে প্রাণ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি (এসআর) মোঃ সাজ্জাদ আলমের (জয়) সাথে তার পরিচয় হয়। সাজ্জাদ বোয়ালমারী উপজেলার গুনবহা গ্রামের বাসিন্দা। পরিচয়ের একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

 

​অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২২ জুলাই (বুধবার) সন্ধ্যায় প্রেমিক সাজ্জাদ কৌশলে প্রলোভন দেখিয়ে ওই ছাত্রীকে নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে তাকে পার্শ্ববর্তী গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলার কোড়ামারি/মুরামারি গ্রামে সাজ্জাদের আত্মীয়ের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সাজ্জাদ এবং তার দুই বন্ধু—প্রাণ কোম্পানির আরেক বিক্রয় প্রতিনিধি শ্রী সৌরভ মন্ডল (পিতা: সত্যি মন্ডল, গ্রাম: ধোপাপাড়া) ও বসুন্ধরা গ্রুপের কর্মী শ্রী জয় কুন্ডু (পিতা: দীপক কুন্ডু, গ্রাম: গুনবহা)—মিলে টানা ছয় দিন ধরে মেয়েটিকে আটকে রেখে পালাক্রমে ধর্ষণ করে।

 

​দীর্ঘ ছয় দিন নিখোঁজ থাকার পর গত ২৮ জুলাই পরিবারের লোকজন সন্ধান পেয়ে কাশিয়ানী উপজেলার উক্ত গ্রাম থেকে ভুক্তভোগী ছাত্রীকে উদ্ধার করে আলফাডাঙ্গায় নিয়ে আসে। বর্তমানে ভিকটিমকে শারীরিক চিকিৎসার জন্য আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

 

​এদিকে ঘটনাটি জানাজানি হলে আলফাডাঙ্গাজুড়ে তীব্র সমালোচনার ঝড় ওঠে। আজ সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে আলফাডাঙ্গা পৌর সদর বাজারের লোকাল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মূল অভিযুক্ত সাজ্জাদ আলমকে দেখতে পায় স্থানীয়রা। পরে তাকে গণপিটুনির হাত থেকে রক্ষা করে ধরে নিয়ে আলফাডাঙ্গা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

 

​আলফাডাঙ্গা থানার পুলিশ জানায়, প্রধান অভিযুক্ত সাজ্জাদ আটক রয়েছে এবং ঘটনায় জড়িত অন্য অভিযুক্তদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো পর্যন্ত থানায় আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি বলে জানা গেছে।

 

​স্থানীয় অধিবাসীরা এ ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জড়িত সকল আসামির দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক কঠিন শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

আলফাডাঙ্গায় প্রেমিকের ফাঁদে মাদ্রাসাছাত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, দলীয় প্রধান পুলিশের হাতে আটক

error: Content is protected !!

আলফাডাঙ্গায় প্রেমিকের ফাঁদে মাদ্রাসাছাত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, দলীয় প্রধান পুলিশের হাতে আটক

আপডেট টাইম : ২ ঘন্টা আগে
মোঃ ইকবাল হোসেন, আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি :

মোঃ ইকবাল হোসেন:

 

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় প্রেমের সম্পর্কের ফাঁদে ফেলে ১৪ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রীকে ৬ দিন আটকে রেখে দলবদ্ধ ধর্ষণের (গণধর্ষণ) ন্যাক্কারজনক অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্তকে আটক করে থানা পুলিশে সোপর্দ করেছে বিক্ষুব্ধ স্থানীয় জনতা।

 

​ঘটনাটি ঘটেছে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা ও পার্শ্ববর্তী গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী সীমানায়। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

 

​পুলিশ, ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আলফাডাঙ্গা উপজেলার বুরাইচ ইউনিয়নের শৈলমারি গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ কুদ্দুস মোল্লার মেয়ে শামীমা (১৪) স্থানীয় ইউসুফেরবাগ মাদ্রাসার চতুর্থ জামাতের ছাত্রী। বাড়ির পাশের মুদি দোকানে আসা-যাওয়ার সুবাদে প্রাণ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি (এসআর) মোঃ সাজ্জাদ আলমের (জয়) সাথে তার পরিচয় হয়। সাজ্জাদ বোয়ালমারী উপজেলার গুনবহা গ্রামের বাসিন্দা। পরিচয়ের একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

 

​অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২২ জুলাই (বুধবার) সন্ধ্যায় প্রেমিক সাজ্জাদ কৌশলে প্রলোভন দেখিয়ে ওই ছাত্রীকে নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে তাকে পার্শ্ববর্তী গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলার কোড়ামারি/মুরামারি গ্রামে সাজ্জাদের আত্মীয়ের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সাজ্জাদ এবং তার দুই বন্ধু—প্রাণ কোম্পানির আরেক বিক্রয় প্রতিনিধি শ্রী সৌরভ মন্ডল (পিতা: সত্যি মন্ডল, গ্রাম: ধোপাপাড়া) ও বসুন্ধরা গ্রুপের কর্মী শ্রী জয় কুন্ডু (পিতা: দীপক কুন্ডু, গ্রাম: গুনবহা)—মিলে টানা ছয় দিন ধরে মেয়েটিকে আটকে রেখে পালাক্রমে ধর্ষণ করে।

 

​দীর্ঘ ছয় দিন নিখোঁজ থাকার পর গত ২৮ জুলাই পরিবারের লোকজন সন্ধান পেয়ে কাশিয়ানী উপজেলার উক্ত গ্রাম থেকে ভুক্তভোগী ছাত্রীকে উদ্ধার করে আলফাডাঙ্গায় নিয়ে আসে। বর্তমানে ভিকটিমকে শারীরিক চিকিৎসার জন্য আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

 

​এদিকে ঘটনাটি জানাজানি হলে আলফাডাঙ্গাজুড়ে তীব্র সমালোচনার ঝড় ওঠে। আজ সোমবার (৩ আগস্ট) দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে আলফাডাঙ্গা পৌর সদর বাজারের লোকাল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মূল অভিযুক্ত সাজ্জাদ আলমকে দেখতে পায় স্থানীয়রা। পরে তাকে গণপিটুনির হাত থেকে রক্ষা করে ধরে নিয়ে আলফাডাঙ্গা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

 

​আলফাডাঙ্গা থানার পুলিশ জানায়, প্রধান অভিযুক্ত সাজ্জাদ আটক রয়েছে এবং ঘটনায় জড়িত অন্য অভিযুক্তদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো পর্যন্ত থানায় আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি বলে জানা গেছে।

 

​স্থানীয় অধিবাসীরা এ ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জড়িত সকল আসামির দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক কঠিন শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।