ঢাকা , রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

নগরকান্দায় নিখোঁজের ৬ ঘণ্টা পর স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার, হত্যার অভিযোগ

মোঃ নুরুল ইসলাম:

 

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার চরযশোরদী ইউনিয়নের তারাকান্দি গ্রামে নিখোঁজের প্রায় ছয় ঘণ্টা পর দ্বিতীয় শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় পরিবার পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ তুলেছে। পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনজনকে থানায় নিয়ে গেছে এবং ঘটনার তদন্ত চলছে।

 

নিহত মাহফুজা আক্তার (৭) তারাকান্দি গ্রামের মো. ইদ্রিস আলী মোল্লা ও রওশনআরা বেগমের মেয়ে। সে রাখালগাছি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

 

পরিবার সূত্রে জানা যায়, শনিবার (১ আগস্ট) বিকেল ৫টার দিকে মাহফুজা বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়। পরিবারের দাবি, একই গ্রামের বাবলু শেখের নাতনি জান্নাতি (১০) কয়েক দফা মাহফুজার খোঁজ নিয়ে পরে তাকে সঙ্গে করে তাদের বাড়িতে নিয়ে যায়। পরে জান্নাতি আবার এসে মাহফুজার বাবাকে জানায়, মাহফুজা নাকি তার এক বান্ধবীর বাড়িতে গেছে।

 

সন্ধ্যার পরও মাহফুজা বাড়ি ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। রাত প্রায় ১১টার দিকে তারাকান্দি গ্রামের বাবলু শেখের ভিটায় শিশুটির মরদেহ পড়ে থাকার খবর পান তারা।

 

খবর পেয়ে নগরকান্দা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

 

পরিবারের সদস্যদের দাবি, মাহফুজার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত ও কাটার চিহ্ন ছিল।

 

নিহতের বাবা মো. ইদ্রিস আলী মোল্লা অভিযোগ করে বলেন, “বাড়ির সামনে সরকারি রেলওয়ের জায়গায় ঘাস লাগানো নিয়ে বাবলু শেখের সঙ্গে আমাদের দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। সেই বিরোধের জের ধরে পরিকল্পিতভাবে আমার মেয়েকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।”

 

তবে অভিযোগের বিষয়ে বাবলু শেখ পলাতক থাকায় তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

 

পুলিশ জানায়, তদন্তের স্বার্থে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনজনকে থানায় নেওয়া হয়েছে। তারা হলেন— জরিনা বেগম (৫০), স্বামী: বাবলু শেখ; ফাতেমা (২২), পিতা: বাবলু শেখ; এবং সূর্য (১৪)।

 

এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

 

নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানী আজাদ বলেন, “লাশ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

 

এদিকে ঘটনার পর অভিযোগের মুখে থাকা বাবলু শেখ তার মেয়ে জান্নাতিকে নিয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে গেছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

 

 

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

আগামী বছর থেকেই ঠাকুরগাঁও মেডিকেল কলেজে শিক্ষার্থী ভর্তি শুরু হবে: মির্জা ফখরুল

error: Content is protected !!

নগরকান্দায় নিখোঁজের ৬ ঘণ্টা পর স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার, হত্যার অভিযোগ

আপডেট টাইম : ৭ ঘন্টা আগে
মোঃ নুরুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টার :

মোঃ নুরুল ইসলাম:

 

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার চরযশোরদী ইউনিয়নের তারাকান্দি গ্রামে নিখোঁজের প্রায় ছয় ঘণ্টা পর দ্বিতীয় শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় পরিবার পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ তুলেছে। পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনজনকে থানায় নিয়ে গেছে এবং ঘটনার তদন্ত চলছে।

 

নিহত মাহফুজা আক্তার (৭) তারাকান্দি গ্রামের মো. ইদ্রিস আলী মোল্লা ও রওশনআরা বেগমের মেয়ে। সে রাখালগাছি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

 

পরিবার সূত্রে জানা যায়, শনিবার (১ আগস্ট) বিকেল ৫টার দিকে মাহফুজা বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়। পরিবারের দাবি, একই গ্রামের বাবলু শেখের নাতনি জান্নাতি (১০) কয়েক দফা মাহফুজার খোঁজ নিয়ে পরে তাকে সঙ্গে করে তাদের বাড়িতে নিয়ে যায়। পরে জান্নাতি আবার এসে মাহফুজার বাবাকে জানায়, মাহফুজা নাকি তার এক বান্ধবীর বাড়িতে গেছে।

 

সন্ধ্যার পরও মাহফুজা বাড়ি ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। রাত প্রায় ১১টার দিকে তারাকান্দি গ্রামের বাবলু শেখের ভিটায় শিশুটির মরদেহ পড়ে থাকার খবর পান তারা।

 

খবর পেয়ে নগরকান্দা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

 

পরিবারের সদস্যদের দাবি, মাহফুজার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত ও কাটার চিহ্ন ছিল।

 

নিহতের বাবা মো. ইদ্রিস আলী মোল্লা অভিযোগ করে বলেন, “বাড়ির সামনে সরকারি রেলওয়ের জায়গায় ঘাস লাগানো নিয়ে বাবলু শেখের সঙ্গে আমাদের দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। সেই বিরোধের জের ধরে পরিকল্পিতভাবে আমার মেয়েকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।”

 

তবে অভিযোগের বিষয়ে বাবলু শেখ পলাতক থাকায় তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

 

পুলিশ জানায়, তদন্তের স্বার্থে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনজনকে থানায় নেওয়া হয়েছে। তারা হলেন— জরিনা বেগম (৫০), স্বামী: বাবলু শেখ; ফাতেমা (২২), পিতা: বাবলু শেখ; এবং সূর্য (১৪)।

 

এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

 

নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানী আজাদ বলেন, “লাশ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

 

এদিকে ঘটনার পর অভিযোগের মুখে থাকা বাবলু শেখ তার মেয়ে জান্নাতিকে নিয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে গেছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।