ঢাকা , সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

লালপুরে হিন্দু পরিবারের কাছে চাঁদা দাবি সেভেন স্টারেরঃ তদন্তে পুলিশ, পাশে রাজনৈতিক নেতারা

রাশিদুল ইসলাম রাশেদঃ

 

নাটোরের লালপুরে একটি হিন্দু পাড়ার কয়েকটি পরিবারের উদ্দেশ্যে লিখা এক চিরকুটের মাধ্যমে ২০ হাজার টাকা করে চাঁদা দাবি করেছে সেভেন স্টার নামে কথিত একটি দুর্বৃত্ত গ্রুপ। টাকা না দিলে পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকি দেওয়া হয় ওই চিরকুটে। এ ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। রোববার (২’রা আগস্ট ২০২৬) ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পরপরই তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। পাশাপাশি স্থানীয় বিএনপি ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতারা আতঙ্কিত পরিবারগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের নিরাপত্তা ও সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। এতে পরিস্থিতি অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে আসে।

জানা গেছে, শনিবার (১ আগস্ট) দিবাগত রাতে উপজেলার লালপুর ইউনিয়নের বাকনাই (পালপাড়া) গ্রামের স্বর্গীয় বৈদ্যনাথ পালের ছেলে নারায়ণ কুমার পালের বাড়ির বারান্দায় অজ্ঞাত পরিচয়ের ব্যক্তিরা একটি হুমকিমূলক চিঠি রেখে যায়। রাত প্রায় ১১টার দিকে নারায়ণ পালের ছেলে অরুণ কুমার পাল চিঠিটি দেখতে পান। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে পুরো পালপাড়ার হিন্দু পরিবারগুলোর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

চিঠিতে প্রতিটি হিন্দু পরিবারকে একটি নির্দিষ্ট বিকাশ নম্বরে ২০ হাজার টাকা পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে বিষয়টি কাউকে জানাতে নিষেধ করা হয় এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে টাকা না পাঠালে পরিবারের সদস্যদের হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়। এছাড়া একটি পরিবারে পৌঁছানো চিঠি অন্য পরিবারগুলোর কাছেও পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশনা দেয়া হয় ওই চিরকুটে।
নারায়ণ কুমার পাল জানান, ঘটনার পর থেকে তারা কিছুটা উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। তিনি দ্রুত এ বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করবেন বলে জানিয়েছেন।

লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম পলাশ বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। হুমকিপত্রের উৎস শনাক্ত এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে। পাশাপাশি এলাকায় অতিরিক্ত নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

ঘটনার পর আতঙ্কিত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন উপজেলা বিএনপির নেতারা। উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হারুনার রশিদ পাপ্পু বলেন, মুঠোফোনে হুমকির শিকার পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলে তাদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, লালপুরে সব ধর্মের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে সম্প্রীতির সঙ্গে বসবাস করে আসছে। তাঁর দাবি, বিএনপি ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়ে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক ছিদ্দিক আলী মিষ্টু জানান, আতঙ্কিত পরিবারগুলোর সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। দ্রুত তাদের সঙ্গে কথা বলা হবে।

উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা আবুল কালাম আজাদ বলেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব। তিনি বলেন, তাদের পাশে থাকা এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে। খুব শিগগিরই তারা আতঙ্কিত পরিবারগুলোর সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করবেন।

এদিকে, সেভেন স্টারের দেয়া হুমকিপত্রে উল্লেখ করা বিকাশ নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনটি রিসিভ করেনি কেউ।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

আলফাডাঙ্গায় প্রেমিকের ফাঁদে মাদ্রাসাছাত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, দলীয় প্রধান পুলিশের হাতে আটক

error: Content is protected !!

লালপুরে হিন্দু পরিবারের কাছে চাঁদা দাবি সেভেন স্টারেরঃ তদন্তে পুলিশ, পাশে রাজনৈতিক নেতারা

আপডেট টাইম : ২৩ ঘন্টা আগে
রাশিদুল ইসলাম রাশেদ, লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি :

রাশিদুল ইসলাম রাশেদঃ

 

নাটোরের লালপুরে একটি হিন্দু পাড়ার কয়েকটি পরিবারের উদ্দেশ্যে লিখা এক চিরকুটের মাধ্যমে ২০ হাজার টাকা করে চাঁদা দাবি করেছে সেভেন স্টার নামে কথিত একটি দুর্বৃত্ত গ্রুপ। টাকা না দিলে পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকি দেওয়া হয় ওই চিরকুটে। এ ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। রোববার (২’রা আগস্ট ২০২৬) ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পরপরই তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। পাশাপাশি স্থানীয় বিএনপি ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতারা আতঙ্কিত পরিবারগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের নিরাপত্তা ও সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। এতে পরিস্থিতি অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে আসে।

জানা গেছে, শনিবার (১ আগস্ট) দিবাগত রাতে উপজেলার লালপুর ইউনিয়নের বাকনাই (পালপাড়া) গ্রামের স্বর্গীয় বৈদ্যনাথ পালের ছেলে নারায়ণ কুমার পালের বাড়ির বারান্দায় অজ্ঞাত পরিচয়ের ব্যক্তিরা একটি হুমকিমূলক চিঠি রেখে যায়। রাত প্রায় ১১টার দিকে নারায়ণ পালের ছেলে অরুণ কুমার পাল চিঠিটি দেখতে পান। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে পুরো পালপাড়ার হিন্দু পরিবারগুলোর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

চিঠিতে প্রতিটি হিন্দু পরিবারকে একটি নির্দিষ্ট বিকাশ নম্বরে ২০ হাজার টাকা পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে বিষয়টি কাউকে জানাতে নিষেধ করা হয় এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে টাকা না পাঠালে পরিবারের সদস্যদের হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়। এছাড়া একটি পরিবারে পৌঁছানো চিঠি অন্য পরিবারগুলোর কাছেও পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশনা দেয়া হয় ওই চিরকুটে।
নারায়ণ কুমার পাল জানান, ঘটনার পর থেকে তারা কিছুটা উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। তিনি দ্রুত এ বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করবেন বলে জানিয়েছেন।

লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম পলাশ বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। হুমকিপত্রের উৎস শনাক্ত এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে। পাশাপাশি এলাকায় অতিরিক্ত নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

ঘটনার পর আতঙ্কিত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেন উপজেলা বিএনপির নেতারা। উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হারুনার রশিদ পাপ্পু বলেন, মুঠোফোনে হুমকির শিকার পরিবারগুলোর সঙ্গে কথা বলে তাদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, লালপুরে সব ধর্মের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে সম্প্রীতির সঙ্গে বসবাস করে আসছে। তাঁর দাবি, বিএনপি ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়ে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক ছিদ্দিক আলী মিষ্টু জানান, আতঙ্কিত পরিবারগুলোর সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। দ্রুত তাদের সঙ্গে কথা বলা হবে।

উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা আবুল কালাম আজাদ বলেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব। তিনি বলেন, তাদের পাশে থাকা এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে। খুব শিগগিরই তারা আতঙ্কিত পরিবারগুলোর সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করবেন।

এদিকে, সেভেন স্টারের দেয়া হুমকিপত্রে উল্লেখ করা বিকাশ নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনটি রিসিভ করেনি কেউ।