ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

আন্দোলন শেষে শিক্ষকরা প্রতিষ্ঠানে ফিরলেও অধিকাংশ শিক্ষার্থী ক্লাসে ছিলেন অনুপস্থিত

আন্দোলনের মাঠ ছেড়ে গত বুধবার(২আগষ্ট) ক্লাসে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন শিক্ষকরা। বেসরকারি মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের দাবি নিয়ে জুলাইয়ে আন্দোলনে নেমেছিলেন শিক্ষকরা। ২১তম দিনে ক্লাসে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন তারা। সেই মতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরার কথা ছিল বুধবার(২আগষ্ট) । কিন্তু বৃহসপতিবার (৩ আগষ্ট) ক্লাসে আসেননি অধিকাংশ শিক্ষার্থী।

সরেজমিন বৃহসপতিবার (৩ আগষ্ট) উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঘুরে দেখা গেছে, শিক্ষকরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফিরলেও অধিকাংশ শিক্ষার্থীরা ছিলেন অনুপস্থিত। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘদিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের অনুপস্থিতর কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

উপজেলার মনিগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থী শবনুর আক্তার জানান, এর আগে স্কুলে গিয়েছি। পড়া লেখা হয়নি বলে পরে আর স্কুলে যায়নি। পরে নিয়মিত ক্লাশের বিষয়েও জানতে পারিনি। দিঘা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের সপ্তম শ্রেণীর শিক্ষার্থী হুমায়রাতুল কুবরা জানান, তার প্রতিষ্ঠানে অধিকাংশ শিক্ষার্থী স্কুলে আসেনি। তবে যারা এসেছিল তাদের ৪টা ক্লাস হয়েছে।

বৃহসপতিবার (৩ আগষ্ট) কথা হলে উপজেলা সদরে রহমতুল্লাহ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবুল ইসলাম জানান, বৃহসপতিবার অর্ধেক শিক্ষার্থীরা তার প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। তবে আগামী রোববার থেকে আগের মতোই শিক্ষার্থীরা ক্লাসে ফিরবেন বলে আশা করছি। শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরানোর বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চেয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এএফএম হাসানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়। ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, বেসরকারি মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের দাবিতে গত ১১ জুলাই সারা দেশ থেকে বেসরকারি মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঢাকায় আন্দোলনে যোগ দেন। আন্দোলনের ২০তম দিনে (৩১ জুলাই) তারা আমরণ অনশন করার ঘোষণা দেন। ১ আগস্ট শোকের মাসের শুরুর দিন থেকে কাফনের কাপড় পরে আমরণ অনশন শুরু করেন শিক্ষকরা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ারও ঘোষণা দেন তারা।

 

পরে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও শিক্ষা উপমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে দাবি পূরণের ‘আশ্বাস’ পেয়ে শিক্ষকরা আন্দোলন স্থগিত করে ক্লাসের ফেরার ঘোষণা দেন।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

বাগাতিপাড়ায় উপজেলা সমবায় কর্মকর্তার বিদায় সংবর্ধনা

error: Content is protected !!

আন্দোলন শেষে শিক্ষকরা প্রতিষ্ঠানে ফিরলেও অধিকাংশ শিক্ষার্থী ক্লাসে ছিলেন অনুপস্থিত

আপডেট টাইম : ০৯:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ অগাস্ট ২০২৩
আব্দুল হামিদ মিঞা, বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি :

আন্দোলনের মাঠ ছেড়ে গত বুধবার(২আগষ্ট) ক্লাসে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন শিক্ষকরা। বেসরকারি মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের দাবি নিয়ে জুলাইয়ে আন্দোলনে নেমেছিলেন শিক্ষকরা। ২১তম দিনে ক্লাসে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন তারা। সেই মতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরার কথা ছিল বুধবার(২আগষ্ট) । কিন্তু বৃহসপতিবার (৩ আগষ্ট) ক্লাসে আসেননি অধিকাংশ শিক্ষার্থী।

সরেজমিন বৃহসপতিবার (৩ আগষ্ট) উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঘুরে দেখা গেছে, শিক্ষকরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফিরলেও অধিকাংশ শিক্ষার্থীরা ছিলেন অনুপস্থিত। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, দীর্ঘদিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের অনুপস্থিতর কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

উপজেলার মনিগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থী শবনুর আক্তার জানান, এর আগে স্কুলে গিয়েছি। পড়া লেখা হয়নি বলে পরে আর স্কুলে যায়নি। পরে নিয়মিত ক্লাশের বিষয়েও জানতে পারিনি। দিঘা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের সপ্তম শ্রেণীর শিক্ষার্থী হুমায়রাতুল কুবরা জানান, তার প্রতিষ্ঠানে অধিকাংশ শিক্ষার্থী স্কুলে আসেনি। তবে যারা এসেছিল তাদের ৪টা ক্লাস হয়েছে।

বৃহসপতিবার (৩ আগষ্ট) কথা হলে উপজেলা সদরে রহমতুল্লাহ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবুল ইসলাম জানান, বৃহসপতিবার অর্ধেক শিক্ষার্থীরা তার প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। তবে আগামী রোববার থেকে আগের মতোই শিক্ষার্থীরা ক্লাসে ফিরবেন বলে আশা করছি। শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরানোর বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চেয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এএফএম হাসানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়। ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, বেসরকারি মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের দাবিতে গত ১১ জুলাই সারা দেশ থেকে বেসরকারি মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঢাকায় আন্দোলনে যোগ দেন। আন্দোলনের ২০তম দিনে (৩১ জুলাই) তারা আমরণ অনশন করার ঘোষণা দেন। ১ আগস্ট শোকের মাসের শুরুর দিন থেকে কাফনের কাপড় পরে আমরণ অনশন শুরু করেন শিক্ষকরা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ারও ঘোষণা দেন তারা।

 

পরে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও শিক্ষা উপমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে দাবি পূরণের ‘আশ্বাস’ পেয়ে শিক্ষকরা আন্দোলন স্থগিত করে ক্লাসের ফেরার ঘোষণা দেন।