ঢাকা , শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন।

দেশে সংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরু বলে কিছু নেই, সাংবিধানিকভাবে সবার অধিকার সমানঃ জামায়াতে আমীর

কাজী নূর, যশোর জেলা প্রতিনিধি

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডাক্তার শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আমরা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। সংখ্যালঘু- সংখ্যাগুরু বলে কিছু নেই। সাংবিধানিকভাবে সবার অধিকার সমান। ধর্ম- বর্ণ মিলেমিশে আমরা বসবাস করি। কেউ যদি আপনাদের সংখ্যালঘু বলে, চিৎকার করে বলবেন, আমরা এ রাষ্টের নাগরিক, সবার অধিকার সমান।’

তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের অধিকার কেড়ে নিয়েছে আওয়ামী লীগ। তারাই সবচেয়ে বেশি নির্যাতন করেছে। ২০১৩ সালে জাতিসংঘে চিঠি লিখে নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছিলাম। এখনও বলছি তদন্ত করুন। দোষী প্রমাণিত হলে নিজের বিচার দাবি করছি।’

 

শুক্রবার (২৭ ডিসেম্বর) সকালে যশোর ঈদগাহ ময়দানে জেলা জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর অধ্যাপক গোলাম রসুলের সভাপতিত্বে কর্মী সম্মেলনে দলীয় নেতাকর্মীদের মাধ্যমে দেশবাসীর সহানুভূতি প্রত্যাশা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা যদি দেশের জন্যে কাজ করি, আপনাদের কাছে চারটি জিনিস প্রত্যাশা করি। প্রথমত আমরা আপনাদের ভালোবাসার কাঙাল, একটু ভালোবাসা উপহার দেন; ভালোবাসার সঙ্গে সঙ্গে একটু সমর্থন ও সহযোগিতা চাই; এর পাশাপাশি জাতীয় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আপনাদের যেন পাশে পাই আর এই জাতিকে বদলে ফেলার জন্যে আপনাদের অন্তরে যেন জায়গা পাই। এই চারটি জিনিস যদি দেশবাসী আমাদের উপহার দেয়, আমরা দেশবাসীর কাছে চির কৃতজ্ঞ থাকব। ক্ষমতায় যাওয়ার উদ্দেশ্য আমাদের নয়, দেশে একটা সুশাসন কায়েম করতে চাই।’

 

নারীর অধিকার নিশ্চিতের কথা তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে নারীর অধিকার নিয়ে মিথ্যাচার করা হয়। আমরা নাকি নারীদের বন্দি করে রাখবো। আমরা বলতে চাই, জামায়াতে ইসলামী নারীদের মায়ের জাতি হিসেবেই দেখতে চায়। তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী মূল্যায়ন করা হবে। তাদের মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।’

 

কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, ‘জামায়াত ইসলামী দেশবাসীকে সেবার সুযোগ পেলে এদেশে চাঁদাবাজির অস্তিত্ব থাকবে না। দখলদারের অস্তিত্ব থাকবে না। ঘুষ থাকবে না। আমরা ফ্যাসিবাদ, সাম্রাজ্যবাদের প্রশ্রয়মুক্ত জাতি গড়তে চাই।’

 

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘৫ আগস্টের আগে দেশ দুঃশাসনে পরিপূর্ণ ছিল। আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় এসেছে তখন দুঃশাসন জুলুম করেছে। বিগত সাড়ে ১৫ বছর আওয়ামী লীগের দুঃশাসন, জুলুমের কষ্ট বেশি ছিল। বাংলাদেশ, বিশ্বের মানুষ কল্পনা করতে পারেনি ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট রেজিমের পতন হবে। ফ্যাসিস্ট পতনের এই অর্জনের নেতৃত্ব আমাদের সন্তানদের। ফ্যাসিস্ট সরকার হাতুড়ি, হেলমেট বাহিনী গুলি চালিয়ে এ আন্দোলন দমাতে চেয়েছিল। আমাদের বীরসন্তানরা বিজয় ছিনিয়ে এনেছে। তাদের এই গৌরব, অভিভাবক হিসেবে আমাদেরও।’

 

আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যাদেরকে চোর, ডাকাত হিসেবে চিনি, তাদের সক্ষমতা কতটুকু? কিন্তু কলমের খোঁচায় যারা হাজার হাজার কোটি টাকা ডাকাতি করেছে, তারা বড় চোর-ডাকাত। আওয়ামী লীগ ও তার দোসরা ডাকাতি করে ব্যাংকগুলোকে ফোকলা করে দিয়েছে। ব্যাংকগুলো ব্যবসায়ীদের পুঁজি দিতে পারছে না। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অর্থনীতিকে সচল করার চেষ্টা করছে। আমরা চাই অর্থনীতি আরও গতিশীল হোক। বাজারে সিন্ডিকেট ভাঙতে পারেনি। দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি রয়েছে। বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকার আরও উদ্যোগী হোক। গত ১৫ বছরে শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গেছে। জামায়াত এমন শিক্ষা চায় যেখানে শিক্ষার্থীরা লেখাপড়া শেষ করে শুধু সার্টিফিকেট নয়, একটা চাকরি নিয়ে বের হবে।’

 

কর্মী সম্মেলনে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে- বিপক্ষে আর কত চেতনা বিক্রি করবেন আপনারা? চেতনার বড়ি আর বিক্রি হবে না। ৫৩ বছর জাতিকে সেবাদাসে পরিণত করেছেন। আমরা আর কারও দাসে পরিণত হবো না। আওয়ামী লীগ শোষণ করতে গিয়ে দেশে বিভক্তি সৃষ্টি করেছে। একটা গোষ্ঠীর কাছে সমস্ত বাংলাদেশের রিজিক হাইজ্যাক হয়ে গিয়েছিল। জাতীয় স্বার্থে আর কোনও ছাড় দেওয়া হবে না।’

 

দলের নেতাকর্মীদের সতর্ক করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘একদল চাঁদাবাজি করে চলে গেছে। আরেক দল আসুক, আমরা চায় না। দেশে কি চাঁদাবাজি বন্ধ হয়েছে? হাতবদল হয়েছে। এজন্য তো এতে মানুষ শহীদ হননি। আমরা যেন শহীদের রক্তের সঙ্গে বেঈমানি না করি। এসব ঘৃণিত কাজ করলে শহীদদের সঙ্গে বেঈমানি হবে। আপনারা এই ঘৃণিত কাজ করবেন না। ফুটপাত, হাটঘাট, বালুমহাল, জলমহাল দখল, চাঁদাবাজিতে কোন নেতাকর্মী পা দিবেন না।’

 

মিথ্যা মামলায় নিরীহ মানুষকে হয়রানি প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘মিথ্যা মামলায় নিরীহ, নিরপরাধ মানুষকে হয়রানি বন্ধ করতে হবে। হত্যা মামলায় ৪/৫শ মানুষকে আসামি করা হচ্ছে। একজন মানুষ হত্যায় এতো লোক কীভাবে জড়িত থাকে? প্রকৃত অপরাধীকে আসামিকে মামলা করুন। মামলা করে অর্থবাণিজ্য বন্ধ করতে হবে। প্রকৃত অপরাধীকে আসামি করে বিচার নিশ্চিত হবে।’

 

যশোর জেলা উন্নয়ন বঞ্চনার চিত্র তুলে ধরে জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘ব্রিটিশ আমলের প্রাচীন জেলা যশোর। পুরাতন জেলা হিসেবে যশোরে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। যশোরবাসী ন্যায্য অধিকার বঞ্চিত হয়েছে। পার্ক নেই, মাঠ নেই, জলাকার নেই। উন্নয়নের কথা বলে ক্ষমতায় যাওয়ার আগে মানুষের পা ছুঁয়ে নেয়, ক্ষমতায় গেলে তারা ভুলে যায়। ভাবে পাঁচ বছর পর আবার পা ছুঁয়ে নিলে হয়ে যাবে। মাঝখানে তারা মানুষকে মনে রাখে না।’

 

কর্মী সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসেন, মুহাদ্দিস আবদুল খালেক, মাওলানা আজিজুর রহমান, ঝিনাইদহ জেলা আমীর অধ্যাপক আলী আযম, সাতক্ষীরা জেলা আমীর শহিদুল ইসলাম মুকুল, মাগুরা জেলা আমীর এম বি বাকের, নড়াইল জেলা আমির আতাউর রহমান বাচ্চু, জুলাই অভ্যুথানে শহীদ আবদুল্লাহর পিতা আবদুল জব্বার, যশোর জেলা নায়েবে আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান, যশোর পূর্ব জেলার সাবেক ভারপ্রাপ্ত আমীর মাওলানা আবদুল আজিজ, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি ড. আবদুল মান্নান, যশোর জেলা কর্মপরিষদ সদস্য গাজী এনামুল হক, তৌহিদ হোসেন, ব্যবসায়ী আবদুল কাদের প্রমুখ।


প্রিন্ট
Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

error: Content is protected !!

দেশে সংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরু বলে কিছু নেই, সাংবিধানিকভাবে সবার অধিকার সমানঃ জামায়াতে আমীর

আপডেট টাইম : ০৮:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৪
কাজী নূর, যশোর জেলা প্রতিনিধি :

কাজী নূর, যশোর জেলা প্রতিনিধি

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডাক্তার শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আমরা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। সংখ্যালঘু- সংখ্যাগুরু বলে কিছু নেই। সাংবিধানিকভাবে সবার অধিকার সমান। ধর্ম- বর্ণ মিলেমিশে আমরা বসবাস করি। কেউ যদি আপনাদের সংখ্যালঘু বলে, চিৎকার করে বলবেন, আমরা এ রাষ্টের নাগরিক, সবার অধিকার সমান।’

তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের অধিকার কেড়ে নিয়েছে আওয়ামী লীগ। তারাই সবচেয়ে বেশি নির্যাতন করেছে। ২০১৩ সালে জাতিসংঘে চিঠি লিখে নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছিলাম। এখনও বলছি তদন্ত করুন। দোষী প্রমাণিত হলে নিজের বিচার দাবি করছি।’

 

শুক্রবার (২৭ ডিসেম্বর) সকালে যশোর ঈদগাহ ময়দানে জেলা জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর অধ্যাপক গোলাম রসুলের সভাপতিত্বে কর্মী সম্মেলনে দলীয় নেতাকর্মীদের মাধ্যমে দেশবাসীর সহানুভূতি প্রত্যাশা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা যদি দেশের জন্যে কাজ করি, আপনাদের কাছে চারটি জিনিস প্রত্যাশা করি। প্রথমত আমরা আপনাদের ভালোবাসার কাঙাল, একটু ভালোবাসা উপহার দেন; ভালোবাসার সঙ্গে সঙ্গে একটু সমর্থন ও সহযোগিতা চাই; এর পাশাপাশি জাতীয় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আপনাদের যেন পাশে পাই আর এই জাতিকে বদলে ফেলার জন্যে আপনাদের অন্তরে যেন জায়গা পাই। এই চারটি জিনিস যদি দেশবাসী আমাদের উপহার দেয়, আমরা দেশবাসীর কাছে চির কৃতজ্ঞ থাকব। ক্ষমতায় যাওয়ার উদ্দেশ্য আমাদের নয়, দেশে একটা সুশাসন কায়েম করতে চাই।’

 

নারীর অধিকার নিশ্চিতের কথা তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে নারীর অধিকার নিয়ে মিথ্যাচার করা হয়। আমরা নাকি নারীদের বন্দি করে রাখবো। আমরা বলতে চাই, জামায়াতে ইসলামী নারীদের মায়ের জাতি হিসেবেই দেখতে চায়। তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী মূল্যায়ন করা হবে। তাদের মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।’

 

কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, ‘জামায়াত ইসলামী দেশবাসীকে সেবার সুযোগ পেলে এদেশে চাঁদাবাজির অস্তিত্ব থাকবে না। দখলদারের অস্তিত্ব থাকবে না। ঘুষ থাকবে না। আমরা ফ্যাসিবাদ, সাম্রাজ্যবাদের প্রশ্রয়মুক্ত জাতি গড়তে চাই।’

 

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘৫ আগস্টের আগে দেশ দুঃশাসনে পরিপূর্ণ ছিল। আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় এসেছে তখন দুঃশাসন জুলুম করেছে। বিগত সাড়ে ১৫ বছর আওয়ামী লীগের দুঃশাসন, জুলুমের কষ্ট বেশি ছিল। বাংলাদেশ, বিশ্বের মানুষ কল্পনা করতে পারেনি ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট রেজিমের পতন হবে। ফ্যাসিস্ট পতনের এই অর্জনের নেতৃত্ব আমাদের সন্তানদের। ফ্যাসিস্ট সরকার হাতুড়ি, হেলমেট বাহিনী গুলি চালিয়ে এ আন্দোলন দমাতে চেয়েছিল। আমাদের বীরসন্তানরা বিজয় ছিনিয়ে এনেছে। তাদের এই গৌরব, অভিভাবক হিসেবে আমাদেরও।’

 

আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যাদেরকে চোর, ডাকাত হিসেবে চিনি, তাদের সক্ষমতা কতটুকু? কিন্তু কলমের খোঁচায় যারা হাজার হাজার কোটি টাকা ডাকাতি করেছে, তারা বড় চোর-ডাকাত। আওয়ামী লীগ ও তার দোসরা ডাকাতি করে ব্যাংকগুলোকে ফোকলা করে দিয়েছে। ব্যাংকগুলো ব্যবসায়ীদের পুঁজি দিতে পারছে না। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অর্থনীতিকে সচল করার চেষ্টা করছে। আমরা চাই অর্থনীতি আরও গতিশীল হোক। বাজারে সিন্ডিকেট ভাঙতে পারেনি। দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি রয়েছে। বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকার আরও উদ্যোগী হোক। গত ১৫ বছরে শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গেছে। জামায়াত এমন শিক্ষা চায় যেখানে শিক্ষার্থীরা লেখাপড়া শেষ করে শুধু সার্টিফিকেট নয়, একটা চাকরি নিয়ে বের হবে।’

 

কর্মী সম্মেলনে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে- বিপক্ষে আর কত চেতনা বিক্রি করবেন আপনারা? চেতনার বড়ি আর বিক্রি হবে না। ৫৩ বছর জাতিকে সেবাদাসে পরিণত করেছেন। আমরা আর কারও দাসে পরিণত হবো না। আওয়ামী লীগ শোষণ করতে গিয়ে দেশে বিভক্তি সৃষ্টি করেছে। একটা গোষ্ঠীর কাছে সমস্ত বাংলাদেশের রিজিক হাইজ্যাক হয়ে গিয়েছিল। জাতীয় স্বার্থে আর কোনও ছাড় দেওয়া হবে না।’

 

দলের নেতাকর্মীদের সতর্ক করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘একদল চাঁদাবাজি করে চলে গেছে। আরেক দল আসুক, আমরা চায় না। দেশে কি চাঁদাবাজি বন্ধ হয়েছে? হাতবদল হয়েছে। এজন্য তো এতে মানুষ শহীদ হননি। আমরা যেন শহীদের রক্তের সঙ্গে বেঈমানি না করি। এসব ঘৃণিত কাজ করলে শহীদদের সঙ্গে বেঈমানি হবে। আপনারা এই ঘৃণিত কাজ করবেন না। ফুটপাত, হাটঘাট, বালুমহাল, জলমহাল দখল, চাঁদাবাজিতে কোন নেতাকর্মী পা দিবেন না।’

 

মিথ্যা মামলায় নিরীহ মানুষকে হয়রানি প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘মিথ্যা মামলায় নিরীহ, নিরপরাধ মানুষকে হয়রানি বন্ধ করতে হবে। হত্যা মামলায় ৪/৫শ মানুষকে আসামি করা হচ্ছে। একজন মানুষ হত্যায় এতো লোক কীভাবে জড়িত থাকে? প্রকৃত অপরাধীকে আসামিকে মামলা করুন। মামলা করে অর্থবাণিজ্য বন্ধ করতে হবে। প্রকৃত অপরাধীকে আসামি করে বিচার নিশ্চিত হবে।’

 

যশোর জেলা উন্নয়ন বঞ্চনার চিত্র তুলে ধরে জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘ব্রিটিশ আমলের প্রাচীন জেলা যশোর। পুরাতন জেলা হিসেবে যশোরে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। যশোরবাসী ন্যায্য অধিকার বঞ্চিত হয়েছে। পার্ক নেই, মাঠ নেই, জলাকার নেই। উন্নয়নের কথা বলে ক্ষমতায় যাওয়ার আগে মানুষের পা ছুঁয়ে নেয়, ক্ষমতায় গেলে তারা ভুলে যায়। ভাবে পাঁচ বছর পর আবার পা ছুঁয়ে নিলে হয়ে যাবে। মাঝখানে তারা মানুষকে মনে রাখে না।’

 

কর্মী সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসেন, মুহাদ্দিস আবদুল খালেক, মাওলানা আজিজুর রহমান, ঝিনাইদহ জেলা আমীর অধ্যাপক আলী আযম, সাতক্ষীরা জেলা আমীর শহিদুল ইসলাম মুকুল, মাগুরা জেলা আমীর এম বি বাকের, নড়াইল জেলা আমির আতাউর রহমান বাচ্চু, জুলাই অভ্যুথানে শহীদ আবদুল্লাহর পিতা আবদুল জব্বার, যশোর জেলা নায়েবে আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান, যশোর পূর্ব জেলার সাবেক ভারপ্রাপ্ত আমীর মাওলানা আবদুল আজিজ, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি ড. আবদুল মান্নান, যশোর জেলা কর্মপরিষদ সদস্য গাজী এনামুল হক, তৌহিদ হোসেন, ব্যবসায়ী আবদুল কাদের প্রমুখ।


প্রিন্ট