ইসমাইল হােসেন বাবুঃ
কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার ১৯৯৬ সালের এসএসসি ও সমমান ব্যাচের বন্ধুদের নিয়ে ঈদের দ্বিতীয় দিন অনুষ্ঠিত হয়েছে এক মনোজ্ঞ বন্ধু মিলন মেলা। বন্ধুত্ব আর স্মৃতির পরশে ভরপুর সারাদিন ছিল অত্র মিলন মেলার আয়োজনে।’স্মৃতির টানে প্রিয় প্রাঙ্গণে, এসো মিলি প্রাণের বন্ধনে’ এই আয়োজন হয়ে ওঠে একক অনন্য। বর্ণাঢ্য এই আয়োজনে বন্ধুত্বের আবেগ ও স্মৃতির রেশে ভরপুর হয়ে ওঠে পুরো অনুষ্ঠান।অংশগ্রহণকারী বন্ধু, অনেকের স্ত্রী ও সন্তানরা গান, কবিতা, চেয়ার খেলা এবং ফুটবল খেলাসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পর্ব উপভোগ করেন। দিনব্যাপী চলা এই আয়োজনে কুমারখালী উপজেলার প্রবীণ শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং তাদের সন্তানদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানকে আরও আলোকিত করে তোলে।
.
মঙ্গলবার সকালে একটি র্যালির মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। যেখানে ব্যান্ড পার্টির সুরের তালে তালে বন্ধুরা কুমারখালী শহর প্রদক্ষিণ করে। র্যালিতে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিল আনন্দ আর উচ্ছ্বাস। যা অনুষ্ঠানের গুরুত্ব ও সফলতার অসাধারণ সম্মিলন যোগ করে। মিলন মেলার মাধ্যমে বন্ধুত্বের বন্ধন আরও দৃঢ় হয়েছে এবং নতুন করে একত্রিত হওয়ার অভিজ্ঞতা সঞ্চালিত করেছে। আয়োজকদের আন্তরিক প্রয়াস অভিষিক্ত করেছে সবার মনে। যা ভবিষ্যতে আরো বৃহত্তর আয়োজনের ভিত্তি গড়ে দিবে, এমনই মন্তব্য করেছেন অংশগ্রহণকারী। একই সঙ্গে এই সম্প্রতির মেল বন্ধন সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করবে বলেও মন্তব্য করেন তারা।
.
‘বন্ধু মিলন মেলা’ ‘৯৬’ এর আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল কুমারখালী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক এবং কুমারখালী পৌরসভার সাবেক মেয়র আলহাজ্ব নুরুল ইসলাম আনছার প্রামানিকের। তবে তিনি উপস্থিত থাকেননি। গুণী শিক্ষক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে কুমারখালী এমএন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (অবঃ) আব্দুল মুত্তালিব মিঞাকে প্রধান অতিথি করার প্রস্তাব করেন। কারণ তাঁর শিক্ষকও আব্দুল মুত্তালিব মিঞা। একারণে তাঁর সম্মানে প্রধান অতিথির দায়িত্ব ছেড়ে দেন।
.
এছাড়া অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কুমারখালী এমএন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (অবঃ) মোঃ শহিদুল ইসলাম এবং দুর্গাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (অবঃ) মোঃ বীর মুক্তিযোদ্ধা শামছুল আলম। তবে বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেননি।
.
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কুমারখালী এমএন মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদ সভাপতি এ্যাডভোকেট জাকারিয়া আনছার মিলন। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্যও দেন তিনি। এসময় তিনি বন্ধুত্বের ঐক্যের আহ্বান জানান।
.
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, কুমারখালী জেএন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ মকছেদ আলী, ভেড়ামারা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ (অব.) মোঃ মফিজুর রহমান, কুমারখালী এমএন পাইলট হাইস্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক দিলীপ কুমার সরকার, কুমারখালী সরকারী পাইলট বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) সন্তোষ কুমার মোদক, কুমারখালী ইসলামীয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মোঃ রেজাউল করিম, কুমারখালী ইসলামীয়া ফাজিল মাদ্রাসার অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবু সাঈদ মোঃ রফিকুল ইসলাম এবং কুমারখালী পৌর ৩ নং ওয়ার্ড সাস কমিটি প্রধান বাবলু বিশ্বাস।
.
অনুষ্ঠানে শ্রদ্ধাভাজন শিক্ষকরা প্রিয় ছাত্রদের পেয়ে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন। এসময় তাঁরা শিক্ষকতা জীবনের নানা স্মৃতিচারণ করেন। একইসঙ্গে প্রিয় ছাত্রদের নিয়ে নানা কথায় হাস্যরসও যোগ করেন। যা পুরো আয়োজনে বিশেষ আকর্ষণ হয়ে ওঠে।
.
অনুষ্ঠান সূচির মধ্যে ছিল: সকাল ৮টায় বন্ধুদের উপস্থিতি, টি-শার্ট, ক্যাপ ও মধ্যাহ্নভোজের টোকেন বিতরণ, সকাল ৯টায় আনন্দ র্যালী, সকাল ১০টায় আলোচনা সভা, বেলা সাড়ে ১১টায় গুণী শিক্ষক সংবর্ধনা ও সম্মাননা স্মারক প্রদান, দুপুর ১টায় মধ্যাহ্নভোজন ও নামাজের বিরতি, দুপুর ২ টায় বন্ধুদের স্মৃতিচারণ, বিকেল সাড়ে ৩টায় বন্ধুদের প্রীতি ফুটবল ম্যাচ ও বান্ধবীদের মিউজিক্যাল চেয়ার, বিকেল সাড়ে ৪টায় ছোট শিশুদের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, বিকেল ৫টায় পুরস্কার বিতরণ।
.
এ অনুষ্ঠান আয়োজনে বিশেষ ভূমিকা রাখায় ‘৯৬ এর বন্ধু জাকারিয়া মিলন, রবিউল আলম বাবু মাস্টার, মাহমুদ শরীফ, আরিফ, চুন্নু, হায়দার, জহিরুল, শাহজালাল, মোস্তফা, আরজু, আলমগীরকে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা হয়। তবে এই বর্ণাঢ্য আয়োজনের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও উদ্যোক্তা কুমারখালী এমএন মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদ সভাপতি এ্যাডভোকেট জাকারিয়া আনছার মিলনের নাম বারবার উচ্চারণ করা হয়।
.
পুরো অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত উপস্থাপনায় মুগ্ধ করেন, ‘৯৬ বন্ধু মালা পাল এবং আফজাল টিটো ও রনজক রিজভী, অনুষ্ঠানের পরতে পরতে মুগ্ধতা ছড়ান তারা। একই সঙ্গে অনুষ্ঠানে নানাভাবে বৈচিত্র এনে সবাইকে আকর্ষণ আরো বাড়িয়ে দেন। এতে বন্ধুদের একঘেয়েমি একেবারেই কাজ করেনি। একদিকে গড়াই নদীর হাওয়া আর অন্যদিকে নান্দনিকতা এক অন্যরকম পরশ বুলিয়ে যায় সবার মাঝে। সবাই এমন আয়োজনকে নিয়মিত করার আহ্বান জানায়।
প্রিন্ট