সেলিম সানোয়ার পলাশঃ
রাজশাহীতে বসতভিটার জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে একটি পরিবারের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) এক সদস্য ও তার আত্মীয়-স্বজনদের বিরুদ্ধে। এ ব্যাপারে বুধবার রাতে গোদাগাড়ী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
.
উপজেলার উজানপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মোল্লা ফিরোজ (২৩) এ মামলা করেছেন। ফিরোজের বাবার নাম মাহাতাব উদ্দিন। মামলার প্রধান আসামি মাটিকাটা ইউপির ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য তোজাম্মেল হক (৫৫)। এছাড়া তার ছেলে মো. রাসেলকেও (৩০) আসামি করা হয়েছে।
.
মামলার অন্য আসামিরা হলেন- উজানপাড়া গ্রামের লতিফুর রহমানের ছেলে মো. মিলন (৩০) ও মো. রাসেল (৩০); মৃত আবদুল হাইয়ের ছেলে একরামুল হক (৫০), একরামুল হকের স্ত্রী শ্যামলী বেগম (৪৫) ও তাদের ছেলে আবু তাহের (২২)। ঘটনার পর থেকে তারা পলাতক। মামলায় অজ্ঞাত আরও ৯ থেকে ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
.
মামলার এজাহারের বর্ণনা অনুযায়ী, আমামিদের সঙ্গে বাদী মোল্লা ফিরোজের পরিবারের বসতভিটার জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল। বুধবার (২ এপ্রিল) দুপুরে ফিরোজকে তার বাড়ির সামনে পেয়ে আসামিরা দলবদ্ধ হয়ে হাতে বাঁশের লাঠি, শাবল, লোহার রড ও হাঁসুয়া নিয়ে এসে ঘিরে ফেলেন এবং গালিগালাজ করতে শুরু করেন। ফিরোজ তাদের গালিগালাজ করতে নিষেধ করলে আসামিরা তাকে এলোপাতাড়ি মারপিট করেন।
.
এ সময় ফিরোজের চিৎকারে তার মামা নাসির উদ্দীন (৪৫) তাকে বাঁচানো জন্য এগিয়ে এগিয়ে গেলে আসামিরা হত্যার উদ্দেশ্যে শাবল দিয়ে তার মাথায় আঘাত করেন। এতে রক্তাক্ত জখম হয়। ফিরোজ ও তার মামার চিৎকারে ফিরোজের মা উম্মে সালমা (৪৬) তাদের উদ্ধারের জন্য গেলে তাকেও মারধর করা হয় এবং শ্লীলতাহানি করা হয়। ছিনিয়ে নেওয়া হয় গলার স্বর্ণের চেইন। পরে নানারকম হুমকি দিয়ে আসামিরা চলে যান।
.
ভুক্তভোগী মোল্লা ফিরোজ বলেন, ‘ইউপি সদস্য তোজাম্মেল হক ক্ষমতার দাপটে আমাদের ওপর অন্যায়ভাবে আক্রমণ করেছেন। তার কাছে গ্রামের সবাই অসহায়। আমার মামা মাথায় গুরুত্বর আঘাত পেয়ে এখন মৃত্যুশয্যায়। আমরা তাদের দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার দেখতে চাই।’
.
বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে ইউপি সদস্য তোজাম্মেল হকের মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
.
গোদাগাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন বলেন, ‘আহত ব্যক্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আছেন। এ ঘটনায় ইউপি সদস্যসহ সাতজনের নামে মামলা হয়েছে। আসামিরা ঘটনার পর থেকেই পলাতক। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’
প্রিন্ট