ঢাকা , শুক্রবার, ২৪ মে ২০২৪, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo ঢাকায় সংবাদ সম্মেলনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে আঞ্জুমান আরা Logo দৌলতপুরে ব্র্যাক শাখা অফিসের উদ্বোধন Logo তানোরে ইউপি চেয়ারম্যানের মৃত্যুতে শোকসভা ও মিলাদ Logo তানোরে গরু মোটাতাজা করণে নিষিদ্ধ ওষুধের রমরমা বাণিজ্যে Logo উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দায়েরঃ ভোট গ্রহণের ৫ দিন আগে যশোর সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচন স্থগিত Logo যশোরে ৭০ লাখ টাকা ফেরত না দিয়ে প্রতারণার অভিযোগে আদালতে মামলা Logo তানোর পোস্ট অফিস থেকে টাকা গায়েবঃ ফেরত পেতে গ্রাহকের আত্মহত্যার হুমকি Logo নড়াইল সদর উপজেলা নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ ও বিতর্কিত করার চেষ্টার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন Logo বোয়ালমারীতে চেয়ারম্যান প্রার্থী লিটু শরীফের গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে মতবিনিময় Logo প্রেম প্রস্তাবে ব্যর্থ হয়ে এডিস নিক্ষেপকারী যুবকের যাবজ্জীবন কারাদন্ড
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন।

তানোরে পলিনেট হাউস প্রকল্পে অনিয়ম!

রাজশাহীর তানোরে কৃষি বিভাগের পলিনেট হাউস (গ্রীণহাউস) প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকার কৃষকদের মাঝে চরম অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। জানা গেছে, তিন ফসলি জমি বা গভীর-অগভীর নলকুপের স্কীমের সেচ সুবিধাভুক্ত জমিতে পলিনেট হাউস প্রকল্প বাস্তবায়নের কোনো সুযোগ নাই। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে নীতিমালা লঙ্ঘন করে মোহনপুর গ্রামে পলিনেট হাউস প্রকল্প দেয়া হয়েছে।
জানা গেছে,পলিনেট হাউস তৈরি করা হয় নেট, পলি এবং লোহা বা বাঁশের অবকাঠামো দিয়ে।চারপাশে
নেট দিয়ে ঘেরা হয়। আর ওপরের অংশে থাকে পলিথিন বা কোনো কোনো ক্ষেত্রে ত্রিপল।পলিনেট
হাউস তৈরি করতে প্রয়োজন তাপমাত্রা সহনশীল বিশেষ পলিথিন ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণকারী মেশিন।
পলিনেটের ওপরে শেড দিয়ে তাপ নিয়ন্ত্রণ করা হয় কৃত্রিম উপায়ে। এখানে উৎপাদিত চারা প্রায় ২০ দিন পর রোপণযোগ্য হয়। মূলত অতিবৃষ্টি ও অকাল বন্যায় চারা রাখতে না পারায় বিকল্প এই ব্যবস্থা।
স্থানীয়রা জানান, উপজেলার  পাঁচন্দর ইউনিয়নের (ইউপি) মোহনপুর গ্রামের মৌসুমি বেগমের সেমি-ডিপের স্কীমের মধ্যে তিন ফসলি জমিতে পলিনেট হাউস প্রকল্প দেয়া হয়েছে। কৃষকদের অভিযোগ আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে মোহনপুর গ্রামের রইস উদ্দিন টিপুকে পলিনেট হাউস প্রকল্প দেয়া হয়েছে। স্থানীয় কৃষক লুৎফর রহমান, আকতার হোসেন ও রফিকুল ইসলাম অভিযোগ প্রকল্পের বিপরীতে প্রায় ২৪ লাখ টাকা বরাদ্দ থাকলেও মাত্র ৬ থেকে ৭ লাখ টাকার কাজ করা হয়েছে। সরেজমিন তদন্ত করা হলে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যাবে।
জানা গেছে, যেসব উঁচু জমিতে সেচ সুবিধা নাই বৃষ্টি নির্ভর একটি ফসল উৎপাদন অথবা পতিত পড়ে থাকে। সেই সব জমিতে পলিনেট হাউসের মাধ্যমে উচ্চমূল্যের ফসল যেমন টমেটো, ক্যাপসিকাম, ব্রকলি, রকমেলন, রঙিন তরমুজ, রঙিন ফুলকপি, বাঁধাকপি, লেটুস এসব সবজির পাশাপাশি চারা উৎপাদনের সুযোগ তৈরি করা হয়। এর ফলে সবজি চাষে যেমন বৈচিত্র্য আসবে, তেমনি অনেকেরই আয়ের নতুন উৎস হবে। পলিথিনের আচ্ছাদন থাকায় এতে সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি ভেতরে প্রবেশে বাধা পায় এবং অতিবৃষ্টি বা প্রাকৃতিক দুর্যোগেও ফসল অক্ষত থাকে।
অসময়ে সবজি চাষের জন্য পলিনেট হাউস দেশে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির নতুন সংযোজন। এর মাধ্যমে শীতকালীন সবজিগুলো যেমন সহজেই গ্রীষ্মকালে উৎপাদন করা সম্বব তেমনি গ্রীষ্মকালে সবজিও শীতকালে উৎপাদন করা সম্বব।এবিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল্লাহ আহম্মেদ এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করে পলিনেট হাউস প্রকল্প দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন,এই পদ্ধতিতে প্রযুক্তির মাধ্যমে ভারী বৃষ্টিপাত, তাপ, কীটপতঙ্গ ও ভাইরাসজনিত রোগের মতো প্রতিকূল পরিস্থিতি থেকে নিরাপদে শাকসবজি, ফলমূলসহ কৃষি উৎপাদন সম্ভব।
Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

ঢাকায় সংবাদ সম্মেলনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে আঞ্জুমান আরা

error: Content is protected !!

তানোরে পলিনেট হাউস প্রকল্পে অনিয়ম!

আপডেট টাইম : ০৭:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ মে ২০২৪
রাজশাহীর তানোরে কৃষি বিভাগের পলিনেট হাউস (গ্রীণহাউস) প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকার কৃষকদের মাঝে চরম অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। জানা গেছে, তিন ফসলি জমি বা গভীর-অগভীর নলকুপের স্কীমের সেচ সুবিধাভুক্ত জমিতে পলিনেট হাউস প্রকল্প বাস্তবায়নের কোনো সুযোগ নাই। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে নীতিমালা লঙ্ঘন করে মোহনপুর গ্রামে পলিনেট হাউস প্রকল্প দেয়া হয়েছে।
জানা গেছে,পলিনেট হাউস তৈরি করা হয় নেট, পলি এবং লোহা বা বাঁশের অবকাঠামো দিয়ে।চারপাশে
নেট দিয়ে ঘেরা হয়। আর ওপরের অংশে থাকে পলিথিন বা কোনো কোনো ক্ষেত্রে ত্রিপল।পলিনেট
হাউস তৈরি করতে প্রয়োজন তাপমাত্রা সহনশীল বিশেষ পলিথিন ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণকারী মেশিন।
পলিনেটের ওপরে শেড দিয়ে তাপ নিয়ন্ত্রণ করা হয় কৃত্রিম উপায়ে। এখানে উৎপাদিত চারা প্রায় ২০ দিন পর রোপণযোগ্য হয়। মূলত অতিবৃষ্টি ও অকাল বন্যায় চারা রাখতে না পারায় বিকল্প এই ব্যবস্থা।
স্থানীয়রা জানান, উপজেলার  পাঁচন্দর ইউনিয়নের (ইউপি) মোহনপুর গ্রামের মৌসুমি বেগমের সেমি-ডিপের স্কীমের মধ্যে তিন ফসলি জমিতে পলিনেট হাউস প্রকল্প দেয়া হয়েছে। কৃষকদের অভিযোগ আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে মোহনপুর গ্রামের রইস উদ্দিন টিপুকে পলিনেট হাউস প্রকল্প দেয়া হয়েছে। স্থানীয় কৃষক লুৎফর রহমান, আকতার হোসেন ও রফিকুল ইসলাম অভিযোগ প্রকল্পের বিপরীতে প্রায় ২৪ লাখ টাকা বরাদ্দ থাকলেও মাত্র ৬ থেকে ৭ লাখ টাকার কাজ করা হয়েছে। সরেজমিন তদন্ত করা হলে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যাবে।
জানা গেছে, যেসব উঁচু জমিতে সেচ সুবিধা নাই বৃষ্টি নির্ভর একটি ফসল উৎপাদন অথবা পতিত পড়ে থাকে। সেই সব জমিতে পলিনেট হাউসের মাধ্যমে উচ্চমূল্যের ফসল যেমন টমেটো, ক্যাপসিকাম, ব্রকলি, রকমেলন, রঙিন তরমুজ, রঙিন ফুলকপি, বাঁধাকপি, লেটুস এসব সবজির পাশাপাশি চারা উৎপাদনের সুযোগ তৈরি করা হয়। এর ফলে সবজি চাষে যেমন বৈচিত্র্য আসবে, তেমনি অনেকেরই আয়ের নতুন উৎস হবে। পলিথিনের আচ্ছাদন থাকায় এতে সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি ভেতরে প্রবেশে বাধা পায় এবং অতিবৃষ্টি বা প্রাকৃতিক দুর্যোগেও ফসল অক্ষত থাকে।
অসময়ে সবজি চাষের জন্য পলিনেট হাউস দেশে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির নতুন সংযোজন। এর মাধ্যমে শীতকালীন সবজিগুলো যেমন সহজেই গ্রীষ্মকালে উৎপাদন করা সম্বব তেমনি গ্রীষ্মকালে সবজিও শীতকালে উৎপাদন করা সম্বব।এবিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল্লাহ আহম্মেদ এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করে পলিনেট হাউস প্রকল্প দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন,এই পদ্ধতিতে প্রযুক্তির মাধ্যমে ভারী বৃষ্টিপাত, তাপ, কীটপতঙ্গ ও ভাইরাসজনিত রোগের মতো প্রতিকূল পরিস্থিতি থেকে নিরাপদে শাকসবজি, ফলমূলসহ কৃষি উৎপাদন সম্ভব।