ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ১০ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন।

চেয়ারম্যান পদে জামানত এক লাখ, এমপি প্রার্থীর ২০ হাজার

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট টাইম : ১১:৫৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
  • ২২ বার পঠিত

-ফাইল ছবি।

উপজেলা নির্বাচনে পরিচালনা ও আচরণবিধিমালায় প্রার্থীর জামানত ১০ থেকে ১৫ গুণ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এ ক্ষেত্রে চেয়ারম্যান পদে জামানত হবে ১ লাখ টাকা। যদিও সংসদ সদস্য প্রার্থীদের জামানত ২০ হাজার টাকা।

 

এ ছাড়া নির্বাচনে সাদা-কালোর পাশাপাশি রঙিন পোস্টারের ব্যবহারেরও সুযোগ রাখা হয়েছে। এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ২৫০ জন ভোটারের স্বাক্ষরের বিধান বাতিল ও জামানত বাজেয়াপ্তের বিধানেও কড়াকড়ি আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সাংবিধানিক এ সংস্থাটি। ইসির মতে, এসব সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে নির্বাচনে ভুঁইফোড় প্রার্থী এড়ানো সম্ভব হবে।

 

তবে রাজনৈতিক ও বিশেষজ্ঞ মহল বলছে, স্থানীয় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচনের বিষয়ে ইসির নেওয়া সিদ্ধান্তে ভুঁইফোড় প্রার্থীদের এড়ানো সম্ভব তো হবেই না; বরং বিত্তবানরাই প্রার্থী হওয়ার সুযোগ পাবেন। রাজনীতিতে নিবেদিত বা যারা সত্যিকার অর্থে সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করতে চাইছেন, তাদের নির্বাচনে অংশ নেওয়া কঠিন হয়ে যাবে। সাধারণ মানুষ যাতে আর উপজেলা পরিষদে জনপ্রতিনিধিত্ব করতে না পারে, সেই পরিকল্পনাই করা হচ্ছে বলে মনে করেন তারা।

 

উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থীর জামানত বাড়ানোর কারণ জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক নির্বাচন কমিশনার বলেন, নির্বাচন এলে অনেক অযাচিত ব্যক্তি প্রার্থী হয়ে যান। বিষয়টি অনেক সময় হাসির ব্যাপার হয়ে ওঠে। কমিশন মনে করে, গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিরা নির্বাচনে আসুক। তাতে নির্বাচন আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে।

 

কিন্তু স্থানীয় সরকার বিভাগের সাবেক সচিব আবু আলম শহীদ খান বলেন, ‘নির্বাচন এখন ধনিকশ্রেণির কার্যক্রমে পরিণত হয়েছে। যাদের টাকা আছে, লোকবল আছে, পেশিশক্তি আছে, তারাই নির্বাচনের মাঠে টিকে থাকতে পারবে। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের ফলে যারা সৎ রাজনীতিবিদ বা সাধারণ মানুষের সেবা করতে চাইছেন, তাদের জন্য নির্বাচন করা কঠিন হয়ে যাবে। নির্বাচন যাতে তাদের জন্য কঠিন হয়ে যায়, এ জন্য এমন বিধিমালা সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

 

স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার বিধান শিথিল করার বিষয়টি সাধুবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে যে সমর্থনসূচক সই মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দিতে হয়, এটা অসাংবিধানিক ছিল। এটা আগেই বাতিল করা প্রয়োজন ছিল।’

 

বর্তমানে সংসদীয় আসনের জন্য প্রার্থীদের জামানত ২০ হাজার টাকা। উপজেলা নির্বাচনে ১০ হাজার টাকা। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ১০ হাজার টাকা জামানত রাখতে হয়। পৌরসভা নির্বাচনে ভোটার সংখ্যার হিসাবে জামানতের টাকা ধার্য হয়। ভোটার অনুপাতে সর্বনিম্ন ১৫ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৩০ হাজার টাকা জামানত হয়ে থাকে। একইভাবে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জামানতের টাকা নির্ধারণ করা হয়। মেয়র প্রার্থীর ক্ষেত্রে ভোটার অনুপাতে সর্বনিম্ন ২০ হাজার থেকে শুরু করে এক লাখ টাকা জামানত দিতে হয়।

 

আসন্ন উপজেলার ভোট সামনে রেখে নির্বাচন ও আচরণবিধিতে সংশোধনের উদ্যোগ নেয় নির্বাচন কমিশন। ২০ ফেব্রুয়ারি কমিশনের ২৮তম সভা শেষে এ নিয়ে একগুচ্ছ প্রস্তাব কমিশন সভায় অনুমোদন করা হয়েছে। চেয়ারম্যান পদে ৭৫ হাজার টাকা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

 

জামানতের পরিমাণ ১০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি। ভাইস চেয়ারম্যান পদে জামানত ৫ হাজার থেকে বাড়িয়ে এ ছাড়া জামানত রক্ষা করতে হলে প্রার্থীদের প্রদত্ত ১৫ শতাংশ করার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। বর্তমানে কোনো প্রার্থীকে জামানত রক্ষা করতে হলে প্রদত্ত ভোটের ১৫ শতাংশ পেতে হবে। এ ছাড়া সাদা-কালো পোস্টারের পাশাপাশি রঙিন পোস্টার ছাপানো যাবে।

 

এর মধ্যেই স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার বিধান শিথিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে হলে ২৫০ ভোটারের সমর্থনসূচক সই মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দিতে হয়। ইসির এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে সমর্থনসূচক সই জমা দিতে হবে না। তবে ইসির এসব সিদ্ধান্ত এখনই কার্যকর হচ্ছে না। সিদ্ধান্তগুলো ভেটিংয়ের (পরীক্ষা) জন্য পাঠানো হবে আইন মন্ত্রণালয়ে। মন্ত্রণালয় যাচাই-বাছাই করে তা আবার ইসির কাছে ফেরত পাঠাবে। ইসি পর্যালোচনা করে তা আবার আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠালে প্রজ্ঞাপন জারি হবে।

 

আগামী মে মাসে চার ধাপে ৪৮১টি উপজেলা পরিষদের নির্বাচন করবে ইসি। সম্ভাব্য তারিখ অনুযায়ী, প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণ ৪ মে, দ্বিতীয় ধাপে ১১ মে, তৃতীয় ধাপে ১৮ মে এবং চতুর্থ ধাপের ভোট হবে ২৫ মে।

 

তবে দ্বাদশ জাতীয় সংসদের মতো এবারও উপজেলা নির্বাচনে না যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপিসহ সমমনা দলগুলো। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ইতিমধ্যে জানিয়েছে, তারা এবার স্থানীয় সরকারের কোনো নির্বাচনে দলীয় প্রতীক দেবে না। ফলে এবারের উপজেলা পরিষদ নির্বাচন হবে মূলত স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে।

 

ইসির বিধিমালা পরিবর্তনের বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ উপজেলা পরিষদ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও দুমকি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ড. হারুন-অর-রশীদ হাওলাদার বলেন, ‘কী কারণে নির্বাচন কমিশন জামানতের পরিমাণ বাড়িয়েছে, জানি না।  একজন সংসদ সদস্য প্রার্থীর জামানতের চেয়ে উপজেলা চেয়ারম্যানের জামানত ৫ গুণ বেশি হয় কী করে। পরিবর্তন করতে হলে আগে সংসদ সদস্যদের নিয়ম পরিবর্তন করুক। তারপর না হয় উপজেলায় আসবে। তা ছাড়া এমন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে আর্থিকভাবে দুর্বল প্রার্থীরা নির্বাচনে আসতে পারবে না।’

 

জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন যেসব বিধিমালা সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে এর মধ্যে কিছু কিছু অযৌক্তিক বিষয় রয়েছে। তারা একজন উপজেলা চেয়ারম্যানের জামানত ১ লাখ টাকার প্রস্তাব দিয়েছে। কোন যুক্তিতে তারা এ ধরনের প্রস্তাব করেছে, জানি না। তা ছাড়া রঙিন পোস্টারের প্রয়োজন কেন? আমার দল এ বিষয়ে কী মনে করে, আমি এখনো জানি না। তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি এটা অনেক বেশি।’ তিনি বলেন, ‘রাজনীতি তো শুধু টাকাওয়ালারা করবে না। অন্যদেরও করতে হবে। কিন্তু এই আইন হলে প্রার্থী খুঁজে পাবে না।’

 

নব্বইয়ের দশকের পর সংসদে বিত্তবান ও ব্যবসায়ীদের সংখ্যা বাড়তে শুরু করে। এখন তারা সংখ্যাগরিষ্ঠ। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) হলফনামায় দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে জানিয়েছে, দ্বাদশ সংসদ সদস্যদের মধ্যে ৬৭ শতাংশ ব্যবসায়ী। আর কোটিপতি ৯০ শতাংশ।

 

সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘ইসি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাতে টাকাওয়ালাদের নির্বাচনে সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। আমি মনে করি, এটা অযৌক্তিক। এমন আইনের ফলে স্থানীয় নির্বাচনেও ব্যবসায়ীদের আধিপত্য বাড়বে। আমি মনে করি, এটি একটি বিরাজনীতিকরণের প্রক্রিয়া।’ নির্বাচন কমিশনের এমন সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসা উচিত বলে মনে করেন তিনি।

 

২০ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশনের সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভা শেষে ইসি সচিব মো. জাহাংগীর আলম সাংবাদিকদের এসব সিদ্ধান্তের কথা জানান। তবে ইসি সিদ্ধান্ত নিলেও এখনই এসব সিদ্ধান্ত কার্যকর হচ্ছে না। ইসির এসব সিদ্ধান্ত ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হবে আইন মন্ত্রণালয়ে। মন্ত্রণালয় যাচাই-বাছাই করে তা আবার ইসির কাছে ফেরত পাঠাবে। তারপর ইসি পর্যালোচনা করে তা আবার আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠালে প্রজ্ঞাপন জারি হবে।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসাবে গোপালগঞ্জে যোগদান করলেন উখিং মে

error: Content is protected !!

চেয়ারম্যান পদে জামানত এক লাখ, এমপি প্রার্থীর ২০ হাজার

আপডেট টাইম : ১১:৫৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

উপজেলা নির্বাচনে পরিচালনা ও আচরণবিধিমালায় প্রার্থীর জামানত ১০ থেকে ১৫ গুণ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এ ক্ষেত্রে চেয়ারম্যান পদে জামানত হবে ১ লাখ টাকা। যদিও সংসদ সদস্য প্রার্থীদের জামানত ২০ হাজার টাকা।

 

এ ছাড়া নির্বাচনে সাদা-কালোর পাশাপাশি রঙিন পোস্টারের ব্যবহারেরও সুযোগ রাখা হয়েছে। এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ২৫০ জন ভোটারের স্বাক্ষরের বিধান বাতিল ও জামানত বাজেয়াপ্তের বিধানেও কড়াকড়ি আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সাংবিধানিক এ সংস্থাটি। ইসির মতে, এসব সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে নির্বাচনে ভুঁইফোড় প্রার্থী এড়ানো সম্ভব হবে।

 

তবে রাজনৈতিক ও বিশেষজ্ঞ মহল বলছে, স্থানীয় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচনের বিষয়ে ইসির নেওয়া সিদ্ধান্তে ভুঁইফোড় প্রার্থীদের এড়ানো সম্ভব তো হবেই না; বরং বিত্তবানরাই প্রার্থী হওয়ার সুযোগ পাবেন। রাজনীতিতে নিবেদিত বা যারা সত্যিকার অর্থে সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করতে চাইছেন, তাদের নির্বাচনে অংশ নেওয়া কঠিন হয়ে যাবে। সাধারণ মানুষ যাতে আর উপজেলা পরিষদে জনপ্রতিনিধিত্ব করতে না পারে, সেই পরিকল্পনাই করা হচ্ছে বলে মনে করেন তারা।

 

উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থীর জামানত বাড়ানোর কারণ জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক নির্বাচন কমিশনার বলেন, নির্বাচন এলে অনেক অযাচিত ব্যক্তি প্রার্থী হয়ে যান। বিষয়টি অনেক সময় হাসির ব্যাপার হয়ে ওঠে। কমিশন মনে করে, গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিরা নির্বাচনে আসুক। তাতে নির্বাচন আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে।

 

কিন্তু স্থানীয় সরকার বিভাগের সাবেক সচিব আবু আলম শহীদ খান বলেন, ‘নির্বাচন এখন ধনিকশ্রেণির কার্যক্রমে পরিণত হয়েছে। যাদের টাকা আছে, লোকবল আছে, পেশিশক্তি আছে, তারাই নির্বাচনের মাঠে টিকে থাকতে পারবে। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের ফলে যারা সৎ রাজনীতিবিদ বা সাধারণ মানুষের সেবা করতে চাইছেন, তাদের জন্য নির্বাচন করা কঠিন হয়ে যাবে। নির্বাচন যাতে তাদের জন্য কঠিন হয়ে যায়, এ জন্য এমন বিধিমালা সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

 

স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার বিধান শিথিল করার বিষয়টি সাধুবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে যে সমর্থনসূচক সই মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দিতে হয়, এটা অসাংবিধানিক ছিল। এটা আগেই বাতিল করা প্রয়োজন ছিল।’

 

বর্তমানে সংসদীয় আসনের জন্য প্রার্থীদের জামানত ২০ হাজার টাকা। উপজেলা নির্বাচনে ১০ হাজার টাকা। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ১০ হাজার টাকা জামানত রাখতে হয়। পৌরসভা নির্বাচনে ভোটার সংখ্যার হিসাবে জামানতের টাকা ধার্য হয়। ভোটার অনুপাতে সর্বনিম্ন ১৫ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৩০ হাজার টাকা জামানত হয়ে থাকে। একইভাবে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জামানতের টাকা নির্ধারণ করা হয়। মেয়র প্রার্থীর ক্ষেত্রে ভোটার অনুপাতে সর্বনিম্ন ২০ হাজার থেকে শুরু করে এক লাখ টাকা জামানত দিতে হয়।

 

আসন্ন উপজেলার ভোট সামনে রেখে নির্বাচন ও আচরণবিধিতে সংশোধনের উদ্যোগ নেয় নির্বাচন কমিশন। ২০ ফেব্রুয়ারি কমিশনের ২৮তম সভা শেষে এ নিয়ে একগুচ্ছ প্রস্তাব কমিশন সভায় অনুমোদন করা হয়েছে। চেয়ারম্যান পদে ৭৫ হাজার টাকা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

 

জামানতের পরিমাণ ১০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি। ভাইস চেয়ারম্যান পদে জামানত ৫ হাজার থেকে বাড়িয়ে এ ছাড়া জামানত রক্ষা করতে হলে প্রার্থীদের প্রদত্ত ১৫ শতাংশ করার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। বর্তমানে কোনো প্রার্থীকে জামানত রক্ষা করতে হলে প্রদত্ত ভোটের ১৫ শতাংশ পেতে হবে। এ ছাড়া সাদা-কালো পোস্টারের পাশাপাশি রঙিন পোস্টার ছাপানো যাবে।

 

এর মধ্যেই স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার বিধান শিথিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে হলে ২৫০ ভোটারের সমর্থনসূচক সই মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দিতে হয়। ইসির এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে সমর্থনসূচক সই জমা দিতে হবে না। তবে ইসির এসব সিদ্ধান্ত এখনই কার্যকর হচ্ছে না। সিদ্ধান্তগুলো ভেটিংয়ের (পরীক্ষা) জন্য পাঠানো হবে আইন মন্ত্রণালয়ে। মন্ত্রণালয় যাচাই-বাছাই করে তা আবার ইসির কাছে ফেরত পাঠাবে। ইসি পর্যালোচনা করে তা আবার আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠালে প্রজ্ঞাপন জারি হবে।

 

আগামী মে মাসে চার ধাপে ৪৮১টি উপজেলা পরিষদের নির্বাচন করবে ইসি। সম্ভাব্য তারিখ অনুযায়ী, প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণ ৪ মে, দ্বিতীয় ধাপে ১১ মে, তৃতীয় ধাপে ১৮ মে এবং চতুর্থ ধাপের ভোট হবে ২৫ মে।

 

তবে দ্বাদশ জাতীয় সংসদের মতো এবারও উপজেলা নির্বাচনে না যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপিসহ সমমনা দলগুলো। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ইতিমধ্যে জানিয়েছে, তারা এবার স্থানীয় সরকারের কোনো নির্বাচনে দলীয় প্রতীক দেবে না। ফলে এবারের উপজেলা পরিষদ নির্বাচন হবে মূলত স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে।

 

ইসির বিধিমালা পরিবর্তনের বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ উপজেলা পরিষদ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও দুমকি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ড. হারুন-অর-রশীদ হাওলাদার বলেন, ‘কী কারণে নির্বাচন কমিশন জামানতের পরিমাণ বাড়িয়েছে, জানি না।  একজন সংসদ সদস্য প্রার্থীর জামানতের চেয়ে উপজেলা চেয়ারম্যানের জামানত ৫ গুণ বেশি হয় কী করে। পরিবর্তন করতে হলে আগে সংসদ সদস্যদের নিয়ম পরিবর্তন করুক। তারপর না হয় উপজেলায় আসবে। তা ছাড়া এমন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে আর্থিকভাবে দুর্বল প্রার্থীরা নির্বাচনে আসতে পারবে না।’

 

জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন যেসব বিধিমালা সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে এর মধ্যে কিছু কিছু অযৌক্তিক বিষয় রয়েছে। তারা একজন উপজেলা চেয়ারম্যানের জামানত ১ লাখ টাকার প্রস্তাব দিয়েছে। কোন যুক্তিতে তারা এ ধরনের প্রস্তাব করেছে, জানি না। তা ছাড়া রঙিন পোস্টারের প্রয়োজন কেন? আমার দল এ বিষয়ে কী মনে করে, আমি এখনো জানি না। তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি এটা অনেক বেশি।’ তিনি বলেন, ‘রাজনীতি তো শুধু টাকাওয়ালারা করবে না। অন্যদেরও করতে হবে। কিন্তু এই আইন হলে প্রার্থী খুঁজে পাবে না।’

 

নব্বইয়ের দশকের পর সংসদে বিত্তবান ও ব্যবসায়ীদের সংখ্যা বাড়তে শুরু করে। এখন তারা সংখ্যাগরিষ্ঠ। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) হলফনামায় দেওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে জানিয়েছে, দ্বাদশ সংসদ সদস্যদের মধ্যে ৬৭ শতাংশ ব্যবসায়ী। আর কোটিপতি ৯০ শতাংশ।

 

সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘ইসি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাতে টাকাওয়ালাদের নির্বাচনে সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। আমি মনে করি, এটা অযৌক্তিক। এমন আইনের ফলে স্থানীয় নির্বাচনেও ব্যবসায়ীদের আধিপত্য বাড়বে। আমি মনে করি, এটি একটি বিরাজনীতিকরণের প্রক্রিয়া।’ নির্বাচন কমিশনের এমন সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসা উচিত বলে মনে করেন তিনি।

 

২০ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশনের সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভা শেষে ইসি সচিব মো. জাহাংগীর আলম সাংবাদিকদের এসব সিদ্ধান্তের কথা জানান। তবে ইসি সিদ্ধান্ত নিলেও এখনই এসব সিদ্ধান্ত কার্যকর হচ্ছে না। ইসির এসব সিদ্ধান্ত ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হবে আইন মন্ত্রণালয়ে। মন্ত্রণালয় যাচাই-বাছাই করে তা আবার ইসির কাছে ফেরত পাঠাবে। তারপর ইসি পর্যালোচনা করে তা আবার আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠালে প্রজ্ঞাপন জারি হবে।