ঢাকা , শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন।

মুকসুদপুরে ইউপি চেয়ারম্যান সালাউদ্দিনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ৯ ইউপি সদস্যের

গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর উপজেলার ৮ নং মহারাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ সালাউদ্দিন মিয়ার বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, অর্থ আত্নসাৎ, স্বেচ্ছাচারিতাসহ বিধি বর্হিভূত কর্মকান্ডের অভিযোগ উঠেছে । পরিষদের সাধারন সদস্য মোঃ কবির মোল্লা, জাহিদুল ইসলাম, আবদুল মান্নান খান, মোঃ মজিবর রহমান, ইমান আলী, সাদেকুর রহমান, রেহানা ও হেনাসহ ৯জন সদস্য জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে লিখিতভাবে এ অভিযোগ করেন ।

তারা লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, ভূমি হস্তান্তরের ০১% বরাদ্দের টাকা আত্নসাৎ, টিয়ার, কাবিখা, কাবিটা, এলজিএসপি, টিসিবি, ভিজিডি, কৃষি বিজ-সার এর বিষয় গুলো নিয়ে পরিষদে কোন প্রকার মিটিং, আলাপ আলোচনা ছাড়াই তাদের খেয়াল খুসি মত তা বন্টন ও নিজে কাজ করে থাকেন।

এছাড়া মহারাজপুর ইউনিয়নের সকল হাট- বাজারের ২০২১-২২ ইং ও ২০২২-২৩ ইং অর্থ বছরের ট্রেডলাইসেন্স বাবদ যথা ক্রমে প্রায় ৪ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা গ্রাম পুলিশ দ্বারা উত্তোলন করে আত্নসাৎ করেন। বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতার নাম পূর্নস্থাপন বাবদ অনলাইনের কথা বলে সদস্য নিকট থেকে জনপ্রতি ৫০০ থেকে ১০০০/= টাকা আদায় করে থাকেন। টি সি বি ও বি জি ডি এর যতো নাম পরিষদে আসে উক্ত বরাদ্ধকৃর্ত মালের ৩৫০ থেকে ৪০০ নাম চেয়ারম্যান তার নিজ নামে বরাদ্ধ রাখে এবং কিছু নিজ লোকদের দিয়ে বাকি মালা-মাল গুলো গোপনে নিজস্ব ব্যবসায়ীদের নিকট বিক্রি করেন থাকেন।

জন্মনিবন্ধে জন প্রতি ৫০ টাকা নেওয়ার কথা থাকলেও পরিষদের সেবা ফি’র নামে ১৫০ থেকে ৩০০ টাকা নেওয়া হয়ে থাকে। সরকারি বরাদ্বকৃর্ত গভীর নলকুপ প্রতি সদস্যদের একটি করে দিয়ে বাকি টিউবয়েল চেয়ারম্যান পরিষদের উদ্যোক্তার যোগসাজসে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে বিক্রয় করেন এবং সরকারি বরাদ্বকৃর্ত সেনিট্রেশন লেট্টিন প্রকল্পের অসহায় ও দুঃস্থ পরিবারের নিটক হতে ৫০০ টাকা করে আদায় করেছেন।

ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের ছৈয়ার মোড় থেকে বিশাল একটি বট গাছের ডাল বিক্রি করে ১০০০০/= টাকা স্থানীয় একটি মসজিদে দিয়ে বাকি টাকা চেয়ারম্যান আত্নসাৎ করেন এবং কানার বাজারের রাস্তার পুরাতন ই্টের ছলিং উঠিয়ে তা বিক্রি করে তিনি টাকা নিয়ে যান।

ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের মাওলানা মিজানের বাড়ি হতে ছদের মাথা নামক স্থানে একটি (২,০০০০০) দুই লক্ষ টাকার কাবিখা বরাদ্ধ করে উক্ত বরাদ্ধ থেকে ১ লক্ষের বেশি টাকা আত্নসাৎকরেন বলেও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। উক্ত ওয়ার্ডেও লোহাচুড়া বাজার সংস্কারের নামে একটি গাছ ৫৫ হাজার টাকায় বিক্রি করেন। উক্ত টাকা সহ সাথে বরাদ্ধ কৃর্ত ২ লক্ষ টাকার কাজ করে প্রায় ১ লক্ষ টাকা আত্নসাৎ করেন। ইউনিয়নের ০৩ নং ওয়ার্ডের বেলতলা হতে একটি পাকা রাস্থা নির্মানের জন্য স্থানীয় এক বাসিন্দার নিকট থেকে নগদ ১০ হাজার টাকা নিয়ে আত্নসাৎ করেন। এবং উক্ত ওয়ার্ডে অধ্যবদি পর্যন্ত কোন উন্নয়ন মূলক প্রজেক্ট প্রদান করেনি।

ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের বনগ্রাম ব্রিজ সংলগ্ন পূর্ব পার্শ্বে ১ লক্ষ ৬০ হাজার টাকার মাটির প্রকল্প বরাদ্ধ করে মাত্র ৩৬ হাজার টাকায় ভেকু দিয়ে মাটি কেটে বাকি টাকা আত্নসাৎ করেন। ইউনিয়নের ০৬ নং ওয়ার্ডের মুকসুদপুর-বরইতলা সড়কের পাকা রাস্তা হতে দেলোয়ারের বাড়ি পর্যন্ত পুরাতন ই্টের ছলিং উঠিয়ে পুনরায় নির্মান করে উল্লেখিত প্রকল্পের অর্থ আত্নসাৎ করেন।

ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের মজিবর মুন্সীর বাড়ি হতে নাজু শিকদারের বাড়ি পর্যন্তু ডানিডা প্রকল্পের কাজে ভেকু ব্যবহার করে নামে-বে নামে অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড বনগ্রাম শাখায় একাউন্ট করে টাকা উত্তোলন করে প্রায় ৫ থেকে ৬ লক্ষ টাকা আত্নসাৎ করেন। ৯নং ওয়ার্ডে ডানিডা প্রজেক্টের ১৬ লক্ষ টাকার কাজ হলেও তিনি ভেকু দিয়ে মাত্র ৬ থেকে ৭ লক্ষ টাকায় কাজ উঠিয়ে বাকি টাকা চেয়ারম্যানসহ তার সিন্ডিকেট আত্নসাৎ করে।

চেয়ারম্যানের গ্রামে কাবিখা, কাবিট ও ডানিডা প্রজেক্টের মোট ৪টি কাজ চলমান রয়েছে। উক্ত ডানিডা প্রজেক্টের অগ্রণি ব্যাংক লিমিটেড বনগ্রাম শাখায় নামে বে-নামে মহিলাদের নামে ভুয়া একাউন্ট করে টাকা উত্তোলন করে আত্নসাৎ করেন।

মুকসুদপুর-বরইতলা আঞ্চলিক সড়কের মহারাজপুর ইউনিয়নের হাড়ভাঙ্গা নামক স্থান থেকে ১০/১২টি সরকারি শিশু গাছ ও মহারাজপুর ইউনিয়নের মিলিকশ্রীরামপুর ব্রিজ সংলগ্ন স্থান থেকে ২০ থেকে ২৫টি বিভিন্ন প্রাকারের গাছ বিক্রি করে উক্ত টাকা আত্নসাৎ করেন।

অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ সালাউদ্দিন মিয়া তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ওরা আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ দিয়েছে তা সত্য নয় । আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য এ মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছে ।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস.এম ইমাম রাজী টুলু জানান, এ ব্যাপারে আমি অভিযোগ পেয়েছি । তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।


প্রিন্ট
Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

error: Content is protected !!

মুকসুদপুরে ইউপি চেয়ারম্যান সালাউদ্দিনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ৯ ইউপি সদস্যের

আপডেট টাইম : ০৩:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৩
বাদশা মিয়া, মুকসুদপুর (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি :

গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর উপজেলার ৮ নং মহারাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ সালাউদ্দিন মিয়ার বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, অর্থ আত্নসাৎ, স্বেচ্ছাচারিতাসহ বিধি বর্হিভূত কর্মকান্ডের অভিযোগ উঠেছে । পরিষদের সাধারন সদস্য মোঃ কবির মোল্লা, জাহিদুল ইসলাম, আবদুল মান্নান খান, মোঃ মজিবর রহমান, ইমান আলী, সাদেকুর রহমান, রেহানা ও হেনাসহ ৯জন সদস্য জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে লিখিতভাবে এ অভিযোগ করেন ।

তারা লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, ভূমি হস্তান্তরের ০১% বরাদ্দের টাকা আত্নসাৎ, টিয়ার, কাবিখা, কাবিটা, এলজিএসপি, টিসিবি, ভিজিডি, কৃষি বিজ-সার এর বিষয় গুলো নিয়ে পরিষদে কোন প্রকার মিটিং, আলাপ আলোচনা ছাড়াই তাদের খেয়াল খুসি মত তা বন্টন ও নিজে কাজ করে থাকেন।

এছাড়া মহারাজপুর ইউনিয়নের সকল হাট- বাজারের ২০২১-২২ ইং ও ২০২২-২৩ ইং অর্থ বছরের ট্রেডলাইসেন্স বাবদ যথা ক্রমে প্রায় ৪ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা গ্রাম পুলিশ দ্বারা উত্তোলন করে আত্নসাৎ করেন। বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতার নাম পূর্নস্থাপন বাবদ অনলাইনের কথা বলে সদস্য নিকট থেকে জনপ্রতি ৫০০ থেকে ১০০০/= টাকা আদায় করে থাকেন। টি সি বি ও বি জি ডি এর যতো নাম পরিষদে আসে উক্ত বরাদ্ধকৃর্ত মালের ৩৫০ থেকে ৪০০ নাম চেয়ারম্যান তার নিজ নামে বরাদ্ধ রাখে এবং কিছু নিজ লোকদের দিয়ে বাকি মালা-মাল গুলো গোপনে নিজস্ব ব্যবসায়ীদের নিকট বিক্রি করেন থাকেন।

জন্মনিবন্ধে জন প্রতি ৫০ টাকা নেওয়ার কথা থাকলেও পরিষদের সেবা ফি’র নামে ১৫০ থেকে ৩০০ টাকা নেওয়া হয়ে থাকে। সরকারি বরাদ্বকৃর্ত গভীর নলকুপ প্রতি সদস্যদের একটি করে দিয়ে বাকি টিউবয়েল চেয়ারম্যান পরিষদের উদ্যোক্তার যোগসাজসে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে বিক্রয় করেন এবং সরকারি বরাদ্বকৃর্ত সেনিট্রেশন লেট্টিন প্রকল্পের অসহায় ও দুঃস্থ পরিবারের নিটক হতে ৫০০ টাকা করে আদায় করেছেন।

ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের ছৈয়ার মোড় থেকে বিশাল একটি বট গাছের ডাল বিক্রি করে ১০০০০/= টাকা স্থানীয় একটি মসজিদে দিয়ে বাকি টাকা চেয়ারম্যান আত্নসাৎ করেন এবং কানার বাজারের রাস্তার পুরাতন ই্টের ছলিং উঠিয়ে তা বিক্রি করে তিনি টাকা নিয়ে যান।

ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের মাওলানা মিজানের বাড়ি হতে ছদের মাথা নামক স্থানে একটি (২,০০০০০) দুই লক্ষ টাকার কাবিখা বরাদ্ধ করে উক্ত বরাদ্ধ থেকে ১ লক্ষের বেশি টাকা আত্নসাৎকরেন বলেও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। উক্ত ওয়ার্ডেও লোহাচুড়া বাজার সংস্কারের নামে একটি গাছ ৫৫ হাজার টাকায় বিক্রি করেন। উক্ত টাকা সহ সাথে বরাদ্ধ কৃর্ত ২ লক্ষ টাকার কাজ করে প্রায় ১ লক্ষ টাকা আত্নসাৎ করেন। ইউনিয়নের ০৩ নং ওয়ার্ডের বেলতলা হতে একটি পাকা রাস্থা নির্মানের জন্য স্থানীয় এক বাসিন্দার নিকট থেকে নগদ ১০ হাজার টাকা নিয়ে আত্নসাৎ করেন। এবং উক্ত ওয়ার্ডে অধ্যবদি পর্যন্ত কোন উন্নয়ন মূলক প্রজেক্ট প্রদান করেনি।

ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের বনগ্রাম ব্রিজ সংলগ্ন পূর্ব পার্শ্বে ১ লক্ষ ৬০ হাজার টাকার মাটির প্রকল্প বরাদ্ধ করে মাত্র ৩৬ হাজার টাকায় ভেকু দিয়ে মাটি কেটে বাকি টাকা আত্নসাৎ করেন। ইউনিয়নের ০৬ নং ওয়ার্ডের মুকসুদপুর-বরইতলা সড়কের পাকা রাস্তা হতে দেলোয়ারের বাড়ি পর্যন্ত পুরাতন ই্টের ছলিং উঠিয়ে পুনরায় নির্মান করে উল্লেখিত প্রকল্পের অর্থ আত্নসাৎ করেন।

ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের মজিবর মুন্সীর বাড়ি হতে নাজু শিকদারের বাড়ি পর্যন্তু ডানিডা প্রকল্পের কাজে ভেকু ব্যবহার করে নামে-বে নামে অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড বনগ্রাম শাখায় একাউন্ট করে টাকা উত্তোলন করে প্রায় ৫ থেকে ৬ লক্ষ টাকা আত্নসাৎ করেন। ৯নং ওয়ার্ডে ডানিডা প্রজেক্টের ১৬ লক্ষ টাকার কাজ হলেও তিনি ভেকু দিয়ে মাত্র ৬ থেকে ৭ লক্ষ টাকায় কাজ উঠিয়ে বাকি টাকা চেয়ারম্যানসহ তার সিন্ডিকেট আত্নসাৎ করে।

চেয়ারম্যানের গ্রামে কাবিখা, কাবিট ও ডানিডা প্রজেক্টের মোট ৪টি কাজ চলমান রয়েছে। উক্ত ডানিডা প্রজেক্টের অগ্রণি ব্যাংক লিমিটেড বনগ্রাম শাখায় নামে বে-নামে মহিলাদের নামে ভুয়া একাউন্ট করে টাকা উত্তোলন করে আত্নসাৎ করেন।

মুকসুদপুর-বরইতলা আঞ্চলিক সড়কের মহারাজপুর ইউনিয়নের হাড়ভাঙ্গা নামক স্থান থেকে ১০/১২টি সরকারি শিশু গাছ ও মহারাজপুর ইউনিয়নের মিলিকশ্রীরামপুর ব্রিজ সংলগ্ন স্থান থেকে ২০ থেকে ২৫টি বিভিন্ন প্রাকারের গাছ বিক্রি করে উক্ত টাকা আত্নসাৎ করেন।

অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ সালাউদ্দিন মিয়া তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ওরা আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ দিয়েছে তা সত্য নয় । আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য এ মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছে ।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস.এম ইমাম রাজী টুলু জানান, এ ব্যাপারে আমি অভিযোগ পেয়েছি । তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।


প্রিন্ট