আলিফ হোসেনঃ
ত্রয়োদ্বশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী-১ আসনে ধানের শীষের পরাজয় হয়েছে।এনিয়ে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের আদর্শিক নেতা ও কর্মী-সমর্থকদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভোটের রাজনীতিতে গোদাগাড়ী উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়ন (ইউপি) চেয়ারম্যান খাইরুল ইসলাম, পাকড়ি ইউপি চেয়ারম্যান জালাল উদ্দীন, তানোর উপজেলার বাধাইড় ইউনিয়নের (ইউপি) চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ সভাপতি আতাউর রহমান,পাঁচন্দর ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ সভাপতি আব্দুল মতিন, কলমা ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি খাদেমুন নবী বাবু চৌধুরী এবং তালন্দ ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের সভাপতি নাজিমুদ্দিন বাবুর কৌশলের কাছে বিএনপি ধরাশায়ী হয়েছে।
এসব চেয়ারম্যান ও তাদের অনুগত আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা বিএনপির সাইনবোর্ড ব্যবহার এলাকায় ফিরে গোপনে বিএনপির বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন। এ কারণে বিএনপির দুর্গখ্যাত রাজশাহী-১ আসনে বিএনপির পরাজয় হয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ বিএনপির নেতাকর্মীরা এসব চেয়ারম্যানের অপসারণ দাবি করেছেন।
এসব এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। বিএনপির তৃণমুল নেতাদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগের ভোট টানতে গিয়ে নিজের ঘর. সামাল দিতে পারেনি বিএনপি। এ কারণে দলের একটি অংশ ধানের শীষে ভোট দেয়নি।আবার আওয়ামী লীগও তাদের দেয়া কথা রাখেনি। তারা ধানের শীষে ভোট দেবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিএনপির কাছে থেকে নানা সুযোগ-সুবিধা নিয়েছেন।কিন্ত্ত গোপণে ধানের শীষের বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন।
তারা বলেন, রাজনীতির মাঠে বিএনপিকে ব্যবহার করেছে আওয়ামী লীগ। ভোটের খেলায় বিএনপির সঙ্গে আঁতাত করে প্রকাশ্যে আসেন চেয়ারম্যানদের অনুগত আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। কোথাও কোথাও নির্বাচনি প্রচারণায়ও তারা বিএনপির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন। এসব চেয়ারম্যানদের মদদপুষ্ট অধিকাংশ নেতা ধানের শীষে ভোট দেওয়ার কথা বলে নিজ নিজ এলাকায় স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা ও ব্যবসা-বানিজ্য করেছেন।
তবে বিএনপি নেতাদের সঙ্গে প্রকাশ্যে থাকলেও তারা গোপনে ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করেন। অধিকাংশ নেতা গোপনে বিএনপির প্রতিপক্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেন। বিএনপিকে হারাতে তারা ধানের শীষের কথা বলে ধানের শীষের বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন। অথচ বিএনপির সাইনবোর্ড ব্যবহার করে গোপনে তারা ভোটের মাঠে প্রতিপক্ষের নেতাদের নিয়ে সব কৌশল ঠিক করেন।এমনকি সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিয়েও তারা বিএনপি বিরোধী রাজনীতি করেছেন।
স্থানীয়রা জানান,ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী আত্মগোপনে চলে যান। ভোটের আগে হঠাৎ অনেকে এলাকায় ফিরে আসেন। গুঞ্জন রয়েছে ধানের শীষে ভোট দিতে তারা এলাকায় ফেরেন। এলাকায় ফিরে তারা সমাজের নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনায় বসেন। অথচ অতীতের যে কোনো নির্বাচনে এসব ইউনিয়নে জামায়াত এতো ভোট পায়নি। ভোটব্যাংক ছিল বিএনপি ও আওয়ামী লীগের হাতে।
কিন্ত্ত এবার অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করে জামায়াত বিপুল ভোট পেয়েছে। এসব চেয়ারম্যান বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ নিয়েও গোপণে বিএনপিবিরোধী রাজনীতি করেছেন এখানো করছেন বলে গুঞ্জন রয়েছে।
স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা জুলাই বিপ্লবের বিপক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নেয়া আওয়ামী লীগের এসব চেয়ারম্যানের অপসারণ ও প্রশাসক নিয়োগের দাবি করেছেন।
তারা বলছে,এসব চেয়ারম্যানদের বিষয়ে নজরদারি ও তাদের সময়ে ইউনিয়নে বিভিন্ন উন্নযন প্রকল্প বাস্তবায়নে নয়ছয়ের তদন্ত এখন সময়ের দাবি।
তারা বলেন, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হলে,আগামি স্থানীয় নির্বাচনে বিএনপি ক্ষতির মুখে পড়বে।তবে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানগণ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
প্রিন্ট

ফরিদপুরে যৌথ বাহিনীর অভিযানে বিদেশি পিস্তল, গুলি ও ইয়াবাসহ যুবক গ্রেফতার 
আলিফ হোসেন, তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি 





















