জসীমউদ্দীন ইতিঃ
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: আগামীর বাংলাদেশে যে যার যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। ধর্ম দিয়ে কাউকে বিচার করা হবেনা। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) ঠাকুরগাঁওয়ে সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, খালেদা জিয়া বলতেন বাংলাদেশ ছাড়া তার আর কোনো ঠিকানা নেই। বিএনপির প্রতিটি নেতাকর্মী বিশ্বাস করে বাংলাদেশ তাদের প্রথম এবং শেষ ঠিকানা। এজন্য আমরা জনগণের সামনে দাঁড়িয়েছি। জনগণের শক্তিতে দেশ পুনর্গঠন করতে চাই।
তিনি আরো বলেন, একাত্তরের স্বাধীনতার সময় আমরা দেখিনি কে হিন্দু কে মুসলমান কে বোদ্ধ। ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানেও আমরা দেখিনি কে কোন ধর্মের। এই দেশে হাজার বছর ধরে প্রত্যেকটি ধর্মের মানুষ আমরা শান্তিতে বসবাস করেছি। আগামী হাজার বছরেও আমরা চাই প্রত্যেকটি ধর্মের মানুষ শান্তিতে এই দেশে বসবাস করবে।
বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনে মানুষ তাদের কেড়ে নেওয়া অধিকার প্রয়োগ করবে। এই নির্বাচন শুধু জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের নয়, দেশ পুনর্গঠনেরও নির্বাচন।
নারীদের নিয়ে তারেক রহমান বলেন, নারীকে কর্মের সঙ্গে সম্পৃক্ত না করলে দেশ এগিয়ে যাবে না। খালেদা জিয়া বিনামূল্যে নারীদের শিক্ষার ব্যবস্থা করেছিলেন। আমরা নারীদের স্বাবলম্বী করতে চাই। প্রত্যেক নারীর কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে চাই।
ফ্যামিলি কার্ডের পাশাপাশি কৃষি কার্ড নিয়ে তিনি বলেন, কৃষকদের কাছে কৃষি কার্ড পৌঁছাতে চাই। এর মাধ্যমে সহজে ঋণ নেওয়া যাবে। ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষঋণ মওকুফ করতে চাই। এনজিও থেকে ক্ষুদ্র ঋণ যেসব নেওয়া হয়েছে, সেসব সরকারের হয়ে জনগণের পক্ষ থেকে পরিশোধ করতে চাই।
উত্তর জেলা ঠাকুরগাঁও নিয়ে তিনি বলেন, এই এলাকা কৃষনির্ভর। কৃষকদের পাশে যেমন দাঁড়াব তেমনভাবে এই এলাকায় কৃষিনির্ভর শিল্প বিকশিত করব, যাতে কর্মসংস্থান হয়। বহু যুবক আছে যারা বেকার। যুবকদের ট্রেনিং দিয়ে দক্ষ শ্রমিক করতে চাই। আমরা আন্দোলন সংগ্রাম করেছি। মানুষকে সঙ্গে নিয়ে দেশ পুনর্গঠন করতে চাই। এই কাজ করতে হলে জনগণের সহযোগিতা লাগবে।
এ সময় জনগণের কিছু দাবি নিয়ে কথা বলেন তারেক রহমান। তিনি জানান, পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁওয়ে চিনিকল, তাঁতশিল্প গড়ে তুলতে চাই। ক্যাডেট কলেজ করার দাবি আছে, সেই চেষ্টাও করা হবে। সমগ্র এলাকায় হিমাগার করে দিতে চাই। এই এলাকায় মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় করারও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, নির্বাচনি জনসভায় এক দল আরেক দলের বিপক্ষে কথা বললে জনগণের কোনো লাভ হবে না। জনগণ জানতে চায় আমরা মানুষের জন্য কী করব। এজন্য আমরা আমাদের পরিকল্পনা তুলে ধরেছি।
তিনি আরও বলেন, ২৪ সালে অভ্যুত্থান দিয়ে দেশকে রক্ষা করেছি। এখন দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। বিএনপি ক্ষমতায় এলে যত দ্রুত সম্ভব ঠাকুরগাঁও এয়ারপোর্ট চালু করা হবে।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমীন, সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী সহ অন্যান্যরা।
প্রিন্ট

বিএনপি প্রার্থী স্বামীর জন্য ধানের শীষে ভোট চাইলেন চীনা স্ত্রী 
জসীমউদ্দীন ইতি, ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি 





















