রনি আহমেদ রাজুঃ
মাগুরার রাজনীতিকে যে গুলির শব্দ কাঁপিয়ে দিয়েছিল, সেই হত্যাকাণ্ডের এক অভিযুক্ত আসামি অবশেষে গ্রেপ্তার হয়েছে। বহুল আলোচিত ছাত্রদল নেতা মেহেদী হাসান রাব্বি হত্যার আসামি, মাগুরা জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি রুহুল মল্লিক দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর আইনের হাতে ধরা পড়েছে।
শুক্রবার বিকাল ০৪ ঘটিকায় পৌর এলাকার পারনান্দুয়ালীতে আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় এলাকাবাসী রুহুল মল্লিককে শনাক্ত করে। মুহূর্তেই উত্তেজিত জনতা তাকে গণপিটুনি দেয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করতে গেলে জনতার সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে পুলিশ রুহুল মল্লিককে মাগুরা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করে। কর্তব্যরত চিকিৎসক জানিয়েছেন, তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট আওয়ামী সরকার পতন আন্দোলনের উত্তাল সময়ে প্রকাশ্য রাজপথে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন মাগুরা জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাব্বি। ওই হত্যাকাণ্ডে মাগুরা জেলাজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় এবং দেশজুড়েও আলোড়ন তোলে।
এ ঘটনায় ছাত্রলীগ নেতা রুহুল মল্লিকসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হলেও দীর্ঘদিন ধরে মূল অভিযুক্তরা অধরা থেকে যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব ও নিরাপত্তা বলয়ের আড়ালে থেকেই এতদিন আত্মগোপনে ছিলেন রুহুল মল্লিক।
তার গ্রেপ্তারে মাগুরার রাজনীতিতে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরেছে বলে মনে করছেন অনেকে। তবে এখনো প্রশ্ন রয়ে গেছে এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের মূল পরিকল্পনাকারীরা কি আদৌ আইনের আওতায় আসবে?
নিহত রাব্বির পরিবার ও সহযোদ্ধাদের দাবি, এই হত্যাকাণ্ড কেবল একজন রাজনৈতিক নেতার মৃত্যু নয়, এটি গণতন্ত্রের ওপর সরাসরি আঘাত। তারা দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি করেন, ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
প্রিন্ট

বিএনপি প্রার্থী স্বামীর জন্য ধানের শীষে ভোট চাইলেন চীনা স্ত্রী 
রনি আহমেদ রাজু, নিজস্ব প্রতিনিধি 





















