ঢাকা , বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo বিএনপি প্রার্থী স্বামীর জন্য ধানের শীষে ভোট চাইলেন চীনা স্ত্রী Logo আপনারা যাকে খুশি তাকে ভোট দেন, কিন্তু স্বাধীনতাবিরোধীদের ভোট দেবেন না —ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা ফখরুল Logo সীমানা নির্ধারণ নিয়ে আদমদীঘিতে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা Logo গোমস্তাপুরে ভারতীয় নাগরিক রণজিৎ মন্ডলকে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ফেরত দিল বিজিবি Logo রাজবাড়ী-২ আসনের ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী সাইয়েদ জামিল Logo ভোলাহাটে রেশম চাষের ব্যাপক চাহিদা Logo মাদারীপুরে পরকীয়ার অভিযোগঃ ঘুমন্ত স্বামীর পুরুষাঙ্গ কাটলেন স্ত্রী, অভিযুক্ত আটক Logo ফরিদপুরের ভাটি কানাইপুরে ডাকাতি সংঘটিত Logo সদরপুরে নিম্ম আয়ের মানুষের ভীড় বাড়ছে ফুটপাতের পুরানো শীতবস্ত্রের দোকানে Logo মধুখালীর রায়পুর ইউনিয়নে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চেয়ে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসন

বদলে গেছে পোস্টার বিহীন নির্বাচনের চিত্র

আব্দুস সালাম তালুকদারঃ

 

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ (নাচেল-গোমস্তাপুর-ভোলাহাট ) আসনে এবারের নির্বাচনের দৃশ্যপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। দেওয়ালে নেই পোস্টার, গাছে ঝোলানো নেই ব্যানার কিংবা বিদ্যুতের খুঁটিতে নেই রঙিন ফেস্টুন। নির্বাচন এলেই যে চিরচেনা চিত্র চোখে পড়তো, তার অনুপস্থিতিতে শহর ও গ্রাম-উভয় এলাকাতেই ফিরেছে এক অভূতপূর্ব পরিচ্ছন্নতা। পরিবেশের জন্য এটি ইতিবাচক হলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে ভোটের চিরাচরিত উৎসবমুখর আমেজে কিছুটা ভাটা পড়েছে।

 

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কঠোর নির্দেশনায় এবার পোস্টার ও অপচনশীল সব ধরনের প্রচারসামগ্রী পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ফলে নাচোল, গোমস্তাপুর ও ভোলাহাট এলাকার সর্বত্র দৃশ্যমান পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রার্থীরা এখন প্রচার চালাচ্ছেন মাইকিং, ব্যক্তিগত শুভেচ্ছা বিনিময়, গণসংযোগ ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে । এ আসনের সুধীজন ও পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো এই উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও সাধারণ ভোটারদের একটি বড় অংশ বলছেন, পোস্টার না থাকায় প্রার্থীদের সম্পর্কে জানার সুযোগ কমে গেছে।

 

বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের প্রবীণ ও নিম্ন আয়ের ভোটাররা যারা ডিজিটাল প্রচারণার বাইরে- তারা কিছুটা বিভ্রান্তিতে পড়েছেন। গোমস্তাপুর উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের বাসিন্দা ইসরাইল জানান, অনলাইনের প্রচার বয়স্ক মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে না।

 

নাচোল উপজেলার কসবা ইউনিয়নের সোনাচন্ডি হাট এলাকার প্রবীণ ভোটার মিলন জানান, আমার স্মার্টফোন নেই। পোস্টার না থাকায় বুঝতেই পারি না কে প্রার্থী। মাঝে মাঝে মাইকিং শুনলে শুধু বোঝা যায় ভোট আসছে।

 

এ আসনের বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী আলহাজ্ব আমিনুল ইসলাম , দশ দলীয় ঐক্যজোটের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুঃ মিজানুর রহমান , জাতীয় পার্টির প্রার্থী মুঃ খুরশিদ আলম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রার্থী মোঃ ইব্রাহিম খলিল ও বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী মোঃ সাদেকুল ইসলাম জানান, পোস্টার না থাকলেও আমরা জনগণের দোরগোড়ায় গিয়ে কথা বলছি। সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমেই তাদের কাছে আমাদের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছি। তবে গ্রামাঞ্চলের অনেক ভোটার এখনও ডিজিটাল প্রচারণার বাইরে থাকায় গণসংযোগ ও উঠান বৈঠক আরও বাড়ানো প্রয়োজন হচ্ছে। প্রার্থীদের প্রচারণার একটু বেগ পেতে হলেও  পরিবেশবান্ধব এই নির্বাচনী প্রচারণাকে সকল প্রার্থীই স্বাগত জানিয়েছে।

 

এ বিষয়ে গোমস্তাপুর উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাকির মুন্সী জানান, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী পরিবেশবান্ধব নির্বাচন নিশ্চিত করতেই পোস্টার ও ব্যানার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সকল প্রার্থীই এটা মেনে নিয়ে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। এ আসনে পরিবেশবান্ধব নির্বাচনী প্রচারণা নিশ্চিত করতে নির্বাচনী এলাকায় সার্বক্ষণিক ২জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নির্বাচনী এলাকা পর্যবেক্ষণ করছে। প্রার্থীদের উঠান বৈঠক, গণসংযোগ ও মাইকিংয়ের ওপর গুরুত্ব দিতে বলা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

পোস্টারহীন এই নির্বাচন একদিকে যেমন পরিবেশ রক্ষায় নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, অন্যদিকে ভোটের চেনা আমেজ হারিয়ে ফেলায় ভোটারদের উপস্থিতি ও অংশগ্রহণে কী প্রভাব পড়ে সেদিকেই এখন নজর স্থানীয়দের।


প্রিন্ট
Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ভেড়ামারায় জরাজীর্ণ কমিউনিটি ক্লিনিক ভবন

error: Content is protected !!

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসন

বদলে গেছে পোস্টার বিহীন নির্বাচনের চিত্র

আপডেট টাইম : ০৮:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬
আব্দুস সালাম তালুকদার, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি :

আব্দুস সালাম তালুকদারঃ

 

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ (নাচেল-গোমস্তাপুর-ভোলাহাট ) আসনে এবারের নির্বাচনের দৃশ্যপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। দেওয়ালে নেই পোস্টার, গাছে ঝোলানো নেই ব্যানার কিংবা বিদ্যুতের খুঁটিতে নেই রঙিন ফেস্টুন। নির্বাচন এলেই যে চিরচেনা চিত্র চোখে পড়তো, তার অনুপস্থিতিতে শহর ও গ্রাম-উভয় এলাকাতেই ফিরেছে এক অভূতপূর্ব পরিচ্ছন্নতা। পরিবেশের জন্য এটি ইতিবাচক হলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে ভোটের চিরাচরিত উৎসবমুখর আমেজে কিছুটা ভাটা পড়েছে।

 

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কঠোর নির্দেশনায় এবার পোস্টার ও অপচনশীল সব ধরনের প্রচারসামগ্রী পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ফলে নাচোল, গোমস্তাপুর ও ভোলাহাট এলাকার সর্বত্র দৃশ্যমান পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রার্থীরা এখন প্রচার চালাচ্ছেন মাইকিং, ব্যক্তিগত শুভেচ্ছা বিনিময়, গণসংযোগ ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে । এ আসনের সুধীজন ও পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো এই উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও সাধারণ ভোটারদের একটি বড় অংশ বলছেন, পোস্টার না থাকায় প্রার্থীদের সম্পর্কে জানার সুযোগ কমে গেছে।

 

বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের প্রবীণ ও নিম্ন আয়ের ভোটাররা যারা ডিজিটাল প্রচারণার বাইরে- তারা কিছুটা বিভ্রান্তিতে পড়েছেন। গোমস্তাপুর উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের বাসিন্দা ইসরাইল জানান, অনলাইনের প্রচার বয়স্ক মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে না।

 

নাচোল উপজেলার কসবা ইউনিয়নের সোনাচন্ডি হাট এলাকার প্রবীণ ভোটার মিলন জানান, আমার স্মার্টফোন নেই। পোস্টার না থাকায় বুঝতেই পারি না কে প্রার্থী। মাঝে মাঝে মাইকিং শুনলে শুধু বোঝা যায় ভোট আসছে।

 

এ আসনের বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী আলহাজ্ব আমিনুল ইসলাম , দশ দলীয় ঐক্যজোটের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুঃ মিজানুর রহমান , জাতীয় পার্টির প্রার্থী মুঃ খুরশিদ আলম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রার্থী মোঃ ইব্রাহিম খলিল ও বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী মোঃ সাদেকুল ইসলাম জানান, পোস্টার না থাকলেও আমরা জনগণের দোরগোড়ায় গিয়ে কথা বলছি। সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমেই তাদের কাছে আমাদের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছি। তবে গ্রামাঞ্চলের অনেক ভোটার এখনও ডিজিটাল প্রচারণার বাইরে থাকায় গণসংযোগ ও উঠান বৈঠক আরও বাড়ানো প্রয়োজন হচ্ছে। প্রার্থীদের প্রচারণার একটু বেগ পেতে হলেও  পরিবেশবান্ধব এই নির্বাচনী প্রচারণাকে সকল প্রার্থীই স্বাগত জানিয়েছে।

 

এ বিষয়ে গোমস্তাপুর উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাকির মুন্সী জানান, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী পরিবেশবান্ধব নির্বাচন নিশ্চিত করতেই পোস্টার ও ব্যানার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সকল প্রার্থীই এটা মেনে নিয়ে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। এ আসনে পরিবেশবান্ধব নির্বাচনী প্রচারণা নিশ্চিত করতে নির্বাচনী এলাকায় সার্বক্ষণিক ২জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নির্বাচনী এলাকা পর্যবেক্ষণ করছে। প্রার্থীদের উঠান বৈঠক, গণসংযোগ ও মাইকিংয়ের ওপর গুরুত্ব দিতে বলা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

পোস্টারহীন এই নির্বাচন একদিকে যেমন পরিবেশ রক্ষায় নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, অন্যদিকে ভোটের চেনা আমেজ হারিয়ে ফেলায় ভোটারদের উপস্থিতি ও অংশগ্রহণে কী প্রভাব পড়ে সেদিকেই এখন নজর স্থানীয়দের।


প্রিন্ট