ঢাকা , বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo বিএনপি প্রার্থী স্বামীর জন্য ধানের শীষে ভোট চাইলেন চীনা স্ত্রী Logo আপনারা যাকে খুশি তাকে ভোট দেন, কিন্তু স্বাধীনতাবিরোধীদের ভোট দেবেন না —ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা ফখরুল Logo সীমানা নির্ধারণ নিয়ে আদমদীঘিতে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা Logo গোমস্তাপুরে ভারতীয় নাগরিক রণজিৎ মন্ডলকে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ফেরত দিল বিজিবি Logo রাজবাড়ী-২ আসনের ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী সাইয়েদ জামিল Logo ভোলাহাটে রেশম চাষের ব্যাপক চাহিদা Logo মাদারীপুরে পরকীয়ার অভিযোগঃ ঘুমন্ত স্বামীর পুরুষাঙ্গ কাটলেন স্ত্রী, অভিযুক্ত আটক Logo ফরিদপুরের ভাটি কানাইপুরে ডাকাতি সংঘটিত Logo সদরপুরে নিম্ম আয়ের মানুষের ভীড় বাড়ছে ফুটপাতের পুরানো শীতবস্ত্রের দোকানে Logo মধুখালীর রায়পুর ইউনিয়নে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চেয়ে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

দৌলতপুরে জামাই হত্যার দায়ে শাশুড়ি ও স্ত্রী কারাগারে

ইসমাইল হােসেন বাবুঃ

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে জামাই হত্যার দায়ে স্ত্রী ও শাশুড়িকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠিয়েছে দৌলতপুর থানা পুলিশ। মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) তাদের গ্রেফতার করে বুধবার দুপুরে কারাগারে প্রেরণ করা হয়।

 

পুলিশ ও নিহতের পারিবার সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের মাজদিয়াড় কান্দিপাড়া গ্রামের হাজী আকবর হোসেনের ছেলে আনিকুল ইসলাম (৩৬) পার্শ্ববতী মরিচা ইউনিয়নের বৈরাগীরচর কারিতলা গ্রামের বাদশা মালিথার ছেলে লাবলু রহমানের স্ত্রী আনিকা খাতুনের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে সম্পর্কটি গভীর হলে আনিকুল ইসলাম তার স্ত্রী আনিকা খাতুনকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গোপনে বিবাহ করেন।

 

বিষয়টি জানাজানি হলে আনিকুল ইসলামের প্রথম স্ত্রী রোজিনা খাতুন (২৬) তার পিতার পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি অবহিত করেন। এরপর আনিকুল ইসলামকে পারিবারিকভাবে গালিমন্দ, শাসন ও হুমকি দিয়ে মানসিক চাপে রাখা হয়। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে প্রথম স্ত্রী তাকে তালাক দিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান।

 

অভিযোগ রয়েছে, গত ৭ ডিসেম্বর শাশুড়ি পারভিনা খাতুন ও দ্বিতীয় স্ত্রী আনিকা খাতুন আনিকুল ইসলামকে ঘাস মারার বিষ পান করিয়ে হত্যার চেষ্টা করেন। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হওয়ায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। দীর্ঘ ২১ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ২৬ডিসেম্বর জামাই আনিকুল ইসলাম মারা যান।

 

এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই আসলাম উদ্দিন বাদী হয়ে আনিকুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী আনিকা খাতুন, তার শাশুড়ি পারভিনা খাতুন এবং শ্বশুর আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে কুষ্টিয়া আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। এরপর দৌলতপুর থানা পুলিশের একটি দল রাজশাহী বোয়ালিয়া উপজেলার মহানগরী গ্রামের একটি বাড়ি থেকে আনিকা খাতুনও তার মা পারভিনা খাতুনকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের পর তাদের দৌলতপুর থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফুর রহমান বলেন, আদালতের নির্দেশে মামলার অভিযুক্ত আনিকা খাতুন ওপারভিনা খাতুনকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বুধবার তাদের ৪আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।


প্রিন্ট
Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ভেড়ামারায় জরাজীর্ণ কমিউনিটি ক্লিনিক ভবন

error: Content is protected !!

দৌলতপুরে জামাই হত্যার দায়ে শাশুড়ি ও স্ত্রী কারাগারে

আপডেট টাইম : ১১:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬
ইসমাইল হোসেন বাবু, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার :

ইসমাইল হােসেন বাবুঃ

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে জামাই হত্যার দায়ে স্ত্রী ও শাশুড়িকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠিয়েছে দৌলতপুর থানা পুলিশ। মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) তাদের গ্রেফতার করে বুধবার দুপুরে কারাগারে প্রেরণ করা হয়।

 

পুলিশ ও নিহতের পারিবার সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের মাজদিয়াড় কান্দিপাড়া গ্রামের হাজী আকবর হোসেনের ছেলে আনিকুল ইসলাম (৩৬) পার্শ্ববতী মরিচা ইউনিয়নের বৈরাগীরচর কারিতলা গ্রামের বাদশা মালিথার ছেলে লাবলু রহমানের স্ত্রী আনিকা খাতুনের সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে সম্পর্কটি গভীর হলে আনিকুল ইসলাম তার স্ত্রী আনিকা খাতুনকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গোপনে বিবাহ করেন।

 

বিষয়টি জানাজানি হলে আনিকুল ইসলামের প্রথম স্ত্রী রোজিনা খাতুন (২৬) তার পিতার পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি অবহিত করেন। এরপর আনিকুল ইসলামকে পারিবারিকভাবে গালিমন্দ, শাসন ও হুমকি দিয়ে মানসিক চাপে রাখা হয়। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে প্রথম স্ত্রী তাকে তালাক দিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান।

 

অভিযোগ রয়েছে, গত ৭ ডিসেম্বর শাশুড়ি পারভিনা খাতুন ও দ্বিতীয় স্ত্রী আনিকা খাতুন আনিকুল ইসলামকে ঘাস মারার বিষ পান করিয়ে হত্যার চেষ্টা করেন। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হওয়ায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। দীর্ঘ ২১ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ২৬ডিসেম্বর জামাই আনিকুল ইসলাম মারা যান।

 

এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই আসলাম উদ্দিন বাদী হয়ে আনিকুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী আনিকা খাতুন, তার শাশুড়ি পারভিনা খাতুন এবং শ্বশুর আবুল কাশেমের বিরুদ্ধে কুষ্টিয়া আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। এরপর দৌলতপুর থানা পুলিশের একটি দল রাজশাহী বোয়ালিয়া উপজেলার মহানগরী গ্রামের একটি বাড়ি থেকে আনিকা খাতুনও তার মা পারভিনা খাতুনকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের পর তাদের দৌলতপুর থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফুর রহমান বলেন, আদালতের নির্দেশে মামলার অভিযুক্ত আনিকা খাতুন ওপারভিনা খাতুনকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বুধবার তাদের ৪আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।


প্রিন্ট