ঢাকা , সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo সদরপুরে নিম্ম আয়ের মানুষের ভীড় বাড়ছে ফুটপাতের পুরানো শীতবস্ত্রের দোকানে Logo মধুখালীর রায়পুর ইউনিয়নে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চেয়ে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু Logo মধুখালীতে দোয়া মাহফিল ও গণমাধ্যম কর্মিদের সাথে মতবিনিময় Logo বাঘায় মুক্তিযোদ্ধার সাথে সংসদ সদস্য প্রার্থী চাঁদের মতবিনিময় Logo শিবগঞ্জে চোখ উপড়ে পাহারাদারকে হত্যা Logo মধুখালীতে সাংবাদিক সাগর চক্রবর্তীর মোটরসাইকেল চুরি Logo বালিয়াকান্দিতে মোবাইলকোট পরিচালনায় দুই ট্রলি চালককে জরিমানা  Logo বগুড়া পৌরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্য পালশা ডে নাইট শর্ট পিচ ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত Logo তানোর বিএনপির রাজনীতিতে জাহাঙ্গীরকে দায়িত্বশীল পদে দেখতে চায় তৃণমুল Logo কালুখালীতে জাতীয় সমবায় দিবস পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ

মোহনপুরে কেশরহাট বাজারে গর্ভবতী গরু জবাই করে মাংস বিক্রির অভিযোগ

ফিরোজ আলম:

রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার কেশরহাট পৌর বাজারে গর্ভবতী গরু জবাই করে মাংস বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

কেশরহাট পৌর বাজারটি উপজেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র। প্রতিদিন এ বাজারে হাজারো মানুষের ক্রয়-বিক্রয় ও যাতায়াত রয়েছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, বাজারের জবাইখানায় প্রতিদিন নিয়মিত দুই থেকে তিনটি গরু জবাই করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, এসবের মধ্যে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মা-গরু জবাই করা হয়ে থাকে।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) ভোরে বাজারের জবাইখানায় কসাইরা একটি মা-গরু জবাই করেন। জবাইয়ের পর জানা যায়, গরুটি গর্ভবতী ছিল এবং তার পেট থেকে একটি গর্ভস্থ বাছুর পাওয়া যায়। এরপর গরুটির মাংস প্রস্তুত করে বাজারের বিভিন্ন হোটেল ও সাধারণ মানুষের কাছে বিক্রি করা হয়।

বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাজারে চলাচলকারী সাধারণ মানুষ পশু জবাইখানার পাশের পুকুরে একটি মৃত গরুর বাছুর পড়ে থাকতে দেখেন। বাছুরটির একটি পা কাটা ছিল। বিষয়টি দ্রুত ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে এবং জনমনে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়।

এ ঘটনায় সচেতন মহলের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছেতাহলে কি প্রতিদিনই বাজারে গর্ভবতী বা অসুস্থ গরু জবাই করে মাংস বিক্রি ও ভক্ষণ করা হচ্ছে? স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি কেশরহাট বাজারে পশু জবাই ও মাংস বিক্রির কার্যক্রম কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ এবং জবাইকৃত পশুর বর্জ্য নির্দিষ্ট স্থানে সংরক্ষণ ও অপসারণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর আসাদুল ইসলাম বলেন,

“খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে থানা পুলিশের সঙ্গে কথা বলেছি। আগেও কসাইদের সতর্ক করা হয়েছিল পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে গরু জবাই করতে। কিন্তু তারা ভোরের আগে নিয়ম না মেনে গরু জবাই করে মাংস বিক্রি করে। এদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

মোহনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মঈনুদ্দীন জানান,

“ঘটনাস্থল থেকে জবাইকৃত গাভি গরুর মৃত বাছুরটি উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির জন্য উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. খন্দকার সাগর আহম্মেদ বলেন,

“অফিস থেকে ঘটনাস্থলে লোক পাঠানো হয়েছে। রোগাক্রান্ত বা গর্ভবতী গরু জবাই করে মাংস বিক্রি করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

মোহনপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও কেশরহাট পৌর প্রশাসক জোবায়দা সুলতানা বলেন,

“বিষয়টি ইতোমধ্যে অবগত হয়েছি। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য ও গণমাধ্যমকর্মীদের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। যারা এই অবৈধ কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


প্রিন্ট
Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ
error: Content is protected !!

জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ

মোহনপুরে কেশরহাট বাজারে গর্ভবতী গরু জবাই করে মাংস বিক্রির অভিযোগ

আপডেট টাইম : ১৩ ঘন্টা আগে
ফিরোজ আলম, মোহনপুর (রাজশাহী) প্রতিনিধি :

ফিরোজ আলম:

রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার কেশরহাট পৌর বাজারে গর্ভবতী গরু জবাই করে মাংস বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

কেশরহাট পৌর বাজারটি উপজেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র। প্রতিদিন এ বাজারে হাজারো মানুষের ক্রয়-বিক্রয় ও যাতায়াত রয়েছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, বাজারের জবাইখানায় প্রতিদিন নিয়মিত দুই থেকে তিনটি গরু জবাই করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, এসবের মধ্যে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই মা-গরু জবাই করা হয়ে থাকে।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) ভোরে বাজারের জবাইখানায় কসাইরা একটি মা-গরু জবাই করেন। জবাইয়ের পর জানা যায়, গরুটি গর্ভবতী ছিল এবং তার পেট থেকে একটি গর্ভস্থ বাছুর পাওয়া যায়। এরপর গরুটির মাংস প্রস্তুত করে বাজারের বিভিন্ন হোটেল ও সাধারণ মানুষের কাছে বিক্রি করা হয়।

বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাজারে চলাচলকারী সাধারণ মানুষ পশু জবাইখানার পাশের পুকুরে একটি মৃত গরুর বাছুর পড়ে থাকতে দেখেন। বাছুরটির একটি পা কাটা ছিল। বিষয়টি দ্রুত ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে এবং জনমনে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়।

এ ঘটনায় সচেতন মহলের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছেতাহলে কি প্রতিদিনই বাজারে গর্ভবতী বা অসুস্থ গরু জবাই করে মাংস বিক্রি ও ভক্ষণ করা হচ্ছে? স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি কেশরহাট বাজারে পশু জবাই ও মাংস বিক্রির কার্যক্রম কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ এবং জবাইকৃত পশুর বর্জ্য নির্দিষ্ট স্থানে সংরক্ষণ ও অপসারণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর আসাদুল ইসলাম বলেন,

“খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে থানা পুলিশের সঙ্গে কথা বলেছি। আগেও কসাইদের সতর্ক করা হয়েছিল পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে গরু জবাই করতে। কিন্তু তারা ভোরের আগে নিয়ম না মেনে গরু জবাই করে মাংস বিক্রি করে। এদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

মোহনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মঈনুদ্দীন জানান,

“ঘটনাস্থল থেকে জবাইকৃত গাভি গরুর মৃত বাছুরটি উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির জন্য উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. খন্দকার সাগর আহম্মেদ বলেন,

“অফিস থেকে ঘটনাস্থলে লোক পাঠানো হয়েছে। রোগাক্রান্ত বা গর্ভবতী গরু জবাই করে মাংস বিক্রি করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

মোহনপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও কেশরহাট পৌর প্রশাসক জোবায়দা সুলতানা বলেন,

“বিষয়টি ইতোমধ্যে অবগত হয়েছি। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য ও গণমাধ্যমকর্মীদের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। যারা এই অবৈধ কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


প্রিন্ট