ঢাকা , রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

রাগ দমন: মুমিনের প্রকৃত শক্তি যেভাবে প্রকাশ পায়

ধর্ম ডেস্ক: দৈনন্দিন জীবনে বিভিন্ন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি কিংবা ছোটখাটো ঝামেলার কারণে মানুষের মনে প্রচণ্ড ক্ষোভ বা রাগ জন্ম নেওয়া খুবই স্বাভাবিক একটি মানবিক অনুভূতি। রাস্তায় চলাচলের সময় যানজট বা অন্য কোনো বাহনের আকস্মিক ধাক্কায় মেজাজ হারিয়ে ফেলা কিংবা গরমের মধ্যে ভোগান্তিতে পড়ে বিরক্তি প্রকাশ করা আমাদের অনেকেরই পরিচিত অভিজ্ঞতা। তবে এই ক্ষণিকের উত্তেজনার বশে মানুষ প্রায়শই এমন সব কথা বলে ফেলে বা আচরণ করে বসে, যা পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার পর গভীর অনুশোচনার জন্ম দেয়। একবার মুখ থেকে বেরিয়ে যাওয়া বা রাগের মাথায় করা কাজের ফল অনেক সময় আর ফেরানোর উপায় থাকে না, যা পরবর্তীতে দীর্ঘস্থায়ী মানসিক কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

বিজ্ঞান ও মনোবিজ্ঞানও এই বাস্তবতার সত্যতা স্বীকার করেছে এবং গবেষণায় দেখা গেছে যে তীব্র রাগের মুহূর্তে মানুষের মস্তিষ্কের বিচারবুদ্ধি ও আত্মনিয়ন্ত্রণের কেন্দ্রটি সঠিকভাবে কাজ করে না। এই সময় মানুষের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা ব্যাহত হয় বিধায় ভুল পদক্ষেপ নেওয়ার আশঙ্কা বহুগুণ বেড়ে যায়। ইসলাম ধর্মেও এই আবেগ নিয়ন্ত্রণের ওপর অত্যন্ত জোরালো গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে এবং পবিত্র কোরআনে মুত্তাকি বা পরহেজগার বান্দাদের অন্যতম প্রধান গুণ হিসেবে রাগ দমনের কথা বলা হয়েছে। সুরা আলে ইমরানের ১৩৪ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা সেই সমস্ত সৎকর্মশীল বান্দাদের প্রশংসা করেছেন, যারা সচ্ছল ও অসচ্ছল উভয় অবস্থাতেই আল্লাহর পথে ব্যয় করেন এবং নিজেদের রাগ সংবরণ করে মানুষকে ক্ষমা করে দেন।

ইসলামের দৃষ্টিতে প্রকৃত শক্তিশালী মানুষ সেই নয় যে শারীরিক শক্তিতে অন্যকে কুস্তিতে পরাস্ত করতে পারে, বরং আসল শক্তিধর হলো সেই ব্যক্তি যে রাগের চরম মুহূর্তেও নিজের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রাখতে সক্ষম হয়। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) তাঁর অনুসারীদের রাগ না করার উপদেশ বারবার দিয়েছেন এবং এর ক্ষতিকর দিক থেকে দূরে থাকার তাগিদ দিয়েছেন। রাগের তীব্রতা কমাতে তিনি খুব চমৎকার কিছু বাস্তবসম্মত পরামর্শও দিয়েছেন, যেমন—কারও রাগ হলে তিনি যেন দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় বসে পড়েন এবং তাতেও রাগ না কমলে শুয়ে পড়েন। এই শারীরিক পরিবর্তনের মাধ্যমে শরীরের ভেতরের উত্তেজনা ও আগ্রাসী মানসিকতা অনেকটাই প্রশমিত হয়, যা মানুষকে ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে রক্ষা করতে পারে।

মহানবী (সা.)-এর বর্ণাঢ্য জীবনেও রাগ দমনের এমন অনেক অনুপম দৃষ্টান্ত রয়েছে যা মানবজাতির জন্য অনুসরণীয় এক আদর্শ। একবার এক বেদুইন এসে তাঁর গায়ের চাদর সজোরে টেনে ধরলেও এবং এর ফলে কাঁধে দাগ বসে যাওয়ার মতো শারীরিক কষ্ট পেলেও তিনি কোনো রাগ বা প্রতিশোধের পথ বেছে নেননি, বরং মুচকি হেসে তাকে সাহায্য করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তাই জীবনের যেকোনো কঠিন মুহূর্তে কিংবা রাগ ও ক্ষোভের উদ্রেক হলে তা প্রকাশ না করে সংবরণ করা এবং ক্ষমা প্রদর্শনের গুণটি অর্জন করা জরুরি। রাগের মুহূর্তে একটু থেমে যাওয়া, শারীরিক অবস্থান পরিবর্তন করা কিংবা তিন সেকেন্ডের জন্য নীরব থাকার মতো ছোট কৌশলগুলো মানুষকে বহু অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি ও আজীবন অনুশোচনা থেকে রক্ষা করতে পারে।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

Ishtiaque Ahmed

জনপ্রিয় সংবাদ

জেলেনস্কির সাথে বিরোধ, রাশিয়ার ওপর কয়েকটি নিষেধাজ্ঞা আটকে দিলেন ট্রাম্প

error: Content is protected !!

রাগ দমন: মুমিনের প্রকৃত শক্তি যেভাবে প্রকাশ পায়

আপডেট টাইম : ৫০ মিনিট আগে
সময়ের প্রত্যাশা ডেস্ক : :

ধর্ম ডেস্ক: দৈনন্দিন জীবনে বিভিন্ন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি কিংবা ছোটখাটো ঝামেলার কারণে মানুষের মনে প্রচণ্ড ক্ষোভ বা রাগ জন্ম নেওয়া খুবই স্বাভাবিক একটি মানবিক অনুভূতি। রাস্তায় চলাচলের সময় যানজট বা অন্য কোনো বাহনের আকস্মিক ধাক্কায় মেজাজ হারিয়ে ফেলা কিংবা গরমের মধ্যে ভোগান্তিতে পড়ে বিরক্তি প্রকাশ করা আমাদের অনেকেরই পরিচিত অভিজ্ঞতা। তবে এই ক্ষণিকের উত্তেজনার বশে মানুষ প্রায়শই এমন সব কথা বলে ফেলে বা আচরণ করে বসে, যা পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার পর গভীর অনুশোচনার জন্ম দেয়। একবার মুখ থেকে বেরিয়ে যাওয়া বা রাগের মাথায় করা কাজের ফল অনেক সময় আর ফেরানোর উপায় থাকে না, যা পরবর্তীতে দীর্ঘস্থায়ী মানসিক কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

বিজ্ঞান ও মনোবিজ্ঞানও এই বাস্তবতার সত্যতা স্বীকার করেছে এবং গবেষণায় দেখা গেছে যে তীব্র রাগের মুহূর্তে মানুষের মস্তিষ্কের বিচারবুদ্ধি ও আত্মনিয়ন্ত্রণের কেন্দ্রটি সঠিকভাবে কাজ করে না। এই সময় মানুষের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা ব্যাহত হয় বিধায় ভুল পদক্ষেপ নেওয়ার আশঙ্কা বহুগুণ বেড়ে যায়। ইসলাম ধর্মেও এই আবেগ নিয়ন্ত্রণের ওপর অত্যন্ত জোরালো গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে এবং পবিত্র কোরআনে মুত্তাকি বা পরহেজগার বান্দাদের অন্যতম প্রধান গুণ হিসেবে রাগ দমনের কথা বলা হয়েছে। সুরা আলে ইমরানের ১৩৪ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা সেই সমস্ত সৎকর্মশীল বান্দাদের প্রশংসা করেছেন, যারা সচ্ছল ও অসচ্ছল উভয় অবস্থাতেই আল্লাহর পথে ব্যয় করেন এবং নিজেদের রাগ সংবরণ করে মানুষকে ক্ষমা করে দেন।

ইসলামের দৃষ্টিতে প্রকৃত শক্তিশালী মানুষ সেই নয় যে শারীরিক শক্তিতে অন্যকে কুস্তিতে পরাস্ত করতে পারে, বরং আসল শক্তিধর হলো সেই ব্যক্তি যে রাগের চরম মুহূর্তেও নিজের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রাখতে সক্ষম হয়। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) তাঁর অনুসারীদের রাগ না করার উপদেশ বারবার দিয়েছেন এবং এর ক্ষতিকর দিক থেকে দূরে থাকার তাগিদ দিয়েছেন। রাগের তীব্রতা কমাতে তিনি খুব চমৎকার কিছু বাস্তবসম্মত পরামর্শও দিয়েছেন, যেমন—কারও রাগ হলে তিনি যেন দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় বসে পড়েন এবং তাতেও রাগ না কমলে শুয়ে পড়েন। এই শারীরিক পরিবর্তনের মাধ্যমে শরীরের ভেতরের উত্তেজনা ও আগ্রাসী মানসিকতা অনেকটাই প্রশমিত হয়, যা মানুষকে ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে রক্ষা করতে পারে।

মহানবী (সা.)-এর বর্ণাঢ্য জীবনেও রাগ দমনের এমন অনেক অনুপম দৃষ্টান্ত রয়েছে যা মানবজাতির জন্য অনুসরণীয় এক আদর্শ। একবার এক বেদুইন এসে তাঁর গায়ের চাদর সজোরে টেনে ধরলেও এবং এর ফলে কাঁধে দাগ বসে যাওয়ার মতো শারীরিক কষ্ট পেলেও তিনি কোনো রাগ বা প্রতিশোধের পথ বেছে নেননি, বরং মুচকি হেসে তাকে সাহায্য করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তাই জীবনের যেকোনো কঠিন মুহূর্তে কিংবা রাগ ও ক্ষোভের উদ্রেক হলে তা প্রকাশ না করে সংবরণ করা এবং ক্ষমা প্রদর্শনের গুণটি অর্জন করা জরুরি। রাগের মুহূর্তে একটু থেমে যাওয়া, শারীরিক অবস্থান পরিবর্তন করা কিংবা তিন সেকেন্ডের জন্য নীরব থাকার মতো ছোট কৌশলগুলো মানুষকে বহু অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি ও আজীবন অনুশোচনা থেকে রক্ষা করতে পারে।