ইসমাইল হোসেন বাবুঃ
কুষ্টিয়ার মিরপুরে রবিউল ইসলাম (৩৪) নামে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীকে পুলিশ আটক করলে তাকে দলীয় লোক পরিচয়ে ছাড়াতে গেলে জামায়াত ও বিএনপির নেতা পরিচয়দানকারী ৫ জনকে থানা হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।
মাদক নির্মূলে পুলিশের এমন কঠোর মনোভাব স্থানীয়দের প্রশংসা কুড়িয়েছে।
শনিবার (৯ মে) রাতে কুষ্টিয়ার মিরপুর থানায় এ ঘটনা ঘটে। আটককৃত রবিউল ইসলাম কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার নওদা আজমপুর এলাকার রমজান আলীর ছেলে।
থানা হেফাজতে নেওয়া ৫ জন হলেন সদরপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও বিএনপি নেতা এনামুল হক (৪৫), একই এলাকার জামায়াত কর্মী পরিচয়দানকারী সুজন আলী (৩৩), আলাউদ্দিন (৪৩), শফিকুল ইসলাম (২৫) এবং সাইদুল ইসলাম (৩৯)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাতে মিরপুর উপজেলার নওদা আজমপুর গ্রামের চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী রমজান আলীর ছেলে রবিউল ইসলামকে ৮ পিস ইয়াবাসহ আটক করে আমলা ক্যাম্প পুলিশ। রবিউলকে মিরপুর থানায় হস্তান্তর করার পর সেখানে উপস্থিত হন একই এলাকার বিএনপি ও জামায়াতের ওই নেতারা। তারা আটক রবিউলকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলামের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। একপর্যায়ে তারা পুলিশের সঙ্গে তর্কে লিপ্ত হন।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর-ভোড়ামারা) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যপক আব্দুল গফুর বলেন, জামায়াতের কোন নেতাকর্মী ইয়াবা ব্যবসায়ীকে থানায় ছাড়াতে যাবে এটা সম্ভব নয়। হয়তোবা তারা জামায়াতে ভোট দিয়েছিলো। এ বিষয়ে আমার জানা নেই।
অন্যদিকে মিরপুর উপজেলা জামায়াতের আমির রেজাউল করিম বলেন, হেফাজতে নেওয়া চারজন জামায়াতের সমর্থক। তবে প্রতিবেশী রবিউল ইসলামকে ইয়াবাসহ গ্রেফতার করা হয়েছে, বিষয়টি তারা আগে জানতেন না। কী কারণে তাকে আটক করা হয়েছে তা জানতে তারা থানায় গিয়েছিলেন। জামায়াত ইসলামী কোনো অপরাধীকে ছাড়িয়ে নিতে থানায় তদবির করবে, এমন প্রশ্নই আসে না। কেউ অপরাধে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে জামায়াতের কোনো আপস নেই।
এদিকে মিরপুর উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক খন্দকার টিপু সুলতান দাবি করেন, হেফাজতে নেওয়া ব্যক্তি বিএনপি করেনা। তিনি বিএনপির কোন পোষ্টে আছেন এটা পুলিশকে দেখাতে বলেন।
মিরপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নওদা আজমপুর গ্রামের রবিউল ইসলাম নামে মাদকের এক আসামিকে আমলা ক্যাম্প পুলিশ ধরেছিল। আমার কাছে ওই আসামিকে ছাড়ানোর জন্য তদবির করতে আসেন জামায়াতের ৪ জন নেতা এবং বিএনপির একজন বর্তমান মেম্বার। তারা অযৌক্তিক চাপ সৃষ্টি করায় এবং পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ায় তাদের পাঁচজনকেই আমার হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মাদক ব্যবসায়ীদের মদদদাতাদের বিরুদ্ধে পুলিশের এমন কঠোর অবস্থানকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ। আটককৃতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ফরিদপুরে ওজোপাডিকোর উদ্যোগে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত 
ইসমাইল হোসেন বাবু, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার 




















