মোঃ রনি আহমেদ রাজু, নিজস্ব প্রতিনিধি: রাজনৈতিক বিরোধ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মাগুরা সদর উপজেলার ১১ নম্বর বেরইল পলিতা ইউনিয়নে সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ, বাড়িঘরে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতির ব্যবহৃত একটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে শতাধিক বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট এবং গোয়ালঘর থেকে বেশ কয়েকটি গরু নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আগামী ডিসেম্বরকে সামনে রেখে এলাকায় রাজনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ১১ নম্বর বেরইল পলিতা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি হাবিব এবং যুবলীগের ঈশানসহ আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তি এলাকায় নিজেদের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন।
এরই ধারাবাহিকতায় আজ আকবর শেখের বাড়িতে খিচুড়ি ভোজের আয়োজন করা হয়। স্থানীয়দের দাবি, ওই আয়োজনে আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা একত্রিত হন। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আকবর শেখসহ কয়েকজন জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন বলে জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় বিএনপির সঙ্গে তাঁদের দূরত্ব তৈরি হয়। পরবর্তী সময়ে তাঁরা আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমঝোতায় জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের আরও দাবি, সাইফুজ্জামান শেখরের অর্থায়নে ওই খিচুড়ি ভোজের আয়োজন করা হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা ও বিরোধ আরও বেড়ে যায় বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
দিনভর প্রশাসনের তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও মাগরিবের আজানের পরপরই পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, কয়েকটি বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। এ সময় ১১ নম্বর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতির ওপর হামলা এবং তাঁর ব্যবহৃত গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
এ ছাড়া এলাকায় শতাধিক বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট এবং গোয়ালঘর থেকে বেশ কয়েকটি গরু নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ও ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
খবর পেয়ে প্রশাসনের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। ঘটনা সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। আতঙ্ক ও উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
অভিযুক্ত হিসেবে যাঁদের নাম উল্লেখ করেছেন স্থানীয়রা: ১. হাবিব, নাছির ও খয়বার — ডহরসিঁড়া। ২. ইয়ার আলী ও আতিয়ার — মনিরামপুর। ৩. ঈশান ও রাজা — ডহরসিঁড়া। ৪. তুহিন ও শহিদ — চারবাজো। ৫. রিজাউল ও গণি শেখ — মনিরামপুর।
এ ছাড়াও আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটে নেতৃত্ব ও সম্পৃক্ততার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য আনতে গেলে কাউকে পাওয়া যায়নি।
এলাকাবাসীর দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন, জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন 
সময়ের প্রত্যাশা ডেস্ক : 






















