তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি
রাজশাহীর তানোর ও মান্দার সীমান্তবর্তী নওগাঁর নিয়ামতপুরে ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন ১৫ কিলোমিটার সড়ক সম্প্রসারণের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। স্থানীয় এলজিইডি কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে যথাযথ মান বজায় রেখেই নির্মাণ কাজ চলছে। সড়ক নির্মাণে বালুর পরিবর্তে মাটি এবং ইটের গুঁড়া ও টুকরা ব্যবহারের অভিযোগ সঠিক নয় সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বাস্তব বিবর্জিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
উপজেলার শ্রীমন্তপুর ইউনিয়নের (ইউপি) বটতলী বাজার থেকে বাহাদুরপুর ইউনিয়নের (ইউপি) বরিয়া জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সংযোগ সড়কটির দুই পাশ প্রশস্তকরণের কাজ চলছে। ওই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পটির নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২০ কোটি টাকা।
অন্যদিকে সড়ক নির্মাণে বেইজ ও সাব-বেইজ স্তরে নির্ধারিত মানের উপকরণ ব্যবহার এবং যথাযথভাবে কমপ্যাকশন করা হয়েছে। ব্যবহৃত খোয়ার প্রকৃত মান এবং নির্মাণকাজের অনিয়ম নিয়ে যে অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে তা সত্যি নয়। একটি গোষ্ঠী অবৈধ সুবিধা আদায় করতে ব্যর্থ হয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন ও নির্মাণ কাজ বিলম্বিত করতে অসৎ উদ্দেশ্যে অপপ্রচার শুরু করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাস্তার নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হলে পুরো এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা ও আর্থসামাজিক চিত্র বদলে যাবে। জেলা ও উপজেলা সদরে সহজ হবে যাতায়াত ব্যবস্থা। এদিকে এই সড়ক নির্মাণ কাজ ঘিরে এলাকাবাসীর মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে, বিরাজ করছে উৎসবের আবহ। এই সড়ক নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হলে সুফল পাবেন এই সড়কে যাতায়াত করা কয়েকটি এলাকার মানুষ, পথচারী ও যানবাহন চালকগণ। সহজ হবে জেলা ও উপজেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা। এই সড়কে চলাচল করা স্থানীয়দের জন্য ছিল নিত্য ভোগান্তি। বৃষ্টির দিনে সড়কে বিভিন্ন স্থানে পানি কাদা জমায় হেঁটে যাওয়া ছিল দুর্বিষহ। তবে সড়কে নির্মাণ কাজ করায় অবশেষে সেই দুর্দিন কাটিয়ে সুদিন ফিরছে এলাকায় বইছে স্বস্তির হাওয়া।
অপরদিকে এই সড়ক নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হলে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেবে এলাকাবাসীর জন্য। নিরাপদ ও আরামদায়ক যাতায়াতের সুযোগ সৃষ্টি হবে সেই আশায় কৃষক, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের মুখে এখন আনন্দের হাসি। স্থানীয় রিকশাচালক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, তিনি প্রতিদিন বিভিন্ন সড়কে ভ্যান চালান। এই সড়কে অনেক কষ্ট করতে হতো। সড়ক নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ায় এখন সুদিন ফিরেছে, চলাচল অনেক সহজ হয়েছে। অটোরিকশাচালক কাবিল জানান, আগে এই সড়কে যাতায়াতে সময় ও ব্যাটারির চার্জ খরচ বেড়ে যেত। সড়ক নির্মাণ সম্পন্ন হলে যাত্রীদের আরাম, আমাদেরও স্বস্তি।
স্থানীয়রা মনে করছেন, এই সড়ক এই অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন প্রাণ সঞ্চার করবে। কৃষিপণ্য দ্রুত বাজারজাতকরণ, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার এবং সাধারণ মানুষের কর্মজীবনে আসবে নতুন গতি ও স্বাচ্ছন্দ্য। স্থানীয়রা বলছে, একটি গোষ্ঠী অবৈধ সুবিধা আদায় করতে ব্যর্থ হয়ে সড়কের কাজ বিলম্বিত এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও পরিকল্পিতভাবে গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে মিথ্যা তথ্য দিয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি এসব গায়েবি অভিযোগের গুরুত্ব না দিয়ে দ্রুত সড়ক নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা হোক। এই সড়ক নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হলে নাগরিক সেবার মান বৃদ্ধি পাবে, একইসঙ্গে এলাকার আর্থসামাজিক উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে, সহজ হবে জেলা-উপজেলা সদরের সঙ্গে কয়েকটি এলাকার মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থা। এদিকে এখনো সড়কের কাজ সম্পন্ন হয়নি, ঠিকাদারকে এখনো কোনো বিল দেওয়া হয়নি, এলজিইডি এখনো সড়ক বুঝে নেয়নি, তাহলে এখানে অনিয়মের প্রশ্ন আসছে কেন? সড়কের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন না হতেই কাজ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তোলা কতটা যৌক্তিক।
স্থানীয় বাসিন্দা আবুল, আব্দুর রহমান, আলী আসগরসহ অনেকে বলেন, সড়কের নির্মাণ কাজ বিলম্বিত করতে একটি গোষ্ঠী শুরু থেকেই অহেতুক গায়েবি অভিযোগ উত্থাপন করে আসছে। তারা বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে বিটুমিন, পাথর তেল এবং শ্রমিকের মজুরি বেশি এমনিতেই ঠিকাদারগণ বিপাকে রয়েছে। এমতাবস্থায় বারবার খণ্ডিত অভিযোগ উত্থাপন করে রাস্তার নির্মাণ কাজ বিলম্বিত ও প্রশ্নবিদ্ধ করা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। তারা এসব অভিযোগ আমলে না নিয়ে দ্রুত রাস্তার নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করার দাবি করেছেন।
সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে এই সড়ক নির্মাণ নিয়ে যে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে, তা সত্যি নয়, মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রকাশিত সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে নিয়ামতপুর উপজেলা প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম বলেন, রাস্তার নির্মাণ কাজে অনিয়মের কোনো সুযোগ নাই। তিনি বলেন, নিয়মিত রাস্তার নির্মাণ কাজ তদারকি করা হচ্ছে, তিনি নিজেও তদারকি করছেন। এ বিষয়ে উপ-সহকারী প্রকৌশলী জহুরুল ইসলাম বলেন, রাস্তা নির্মাণ কাজের শুরু থেকেই নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে, এখানে অনিয়মের কোনো সুযোগ নাই।

কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন 
সময়ের প্রত্যাশা ডেস্ক : 





















