আলিফ হোসেন, তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি:
রাজশাহীর পার্শ্ববর্তী নাটোর জেলার বাগাতিপাড়া উপজেলায় নবনিযুক্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামসুল ইসলামের প্রচেষ্টায় বদলে গেছে অফিসপাড়া তথা উপজেলা পরিষদ চত্বর। খুব অল্প সময়েই ইউএনও শামসুল তার মেধা ও কর্মদক্ষতা দিয়ে কাজ করে ইতিমধ্যে তিনি মানবিক ও জনবান্ধব কর্মকর্তা হিসেবে ব্যাপক সুনাম অর্জন এবং পরিচিতি পেয়েছেন সাধারণ মানুষের কাছে। সেপ্রার্থীদের সঙ্গে ইউএনও’র সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ সর্বমহলে প্রশংসিত হচ্ছে। তার আন্তরিকতায় ইউএনও অফিসের দৃশ্যপট পাল্টে গেছে, গতিশীল হয়েছে কাজ, দূর হয়েছে সেপ্রার্থীদের হয়রানি ও ভোগান্তি। তিনি যোগদানের পর থেকে সাধারণ মানুষ কোনো হয়রানি ছাড়াই এই অফিস থেকে কাঙ্ক্ষিত সেবা পেতে শুরু করেছেন। অফিস চত্বরে ফুল বাগান, ছিমছাম অনেকটা নিরিবিলি পরিবেশ। দালালচক্রের দৌরাত্ম্য নেই। সেপ্রার্থীরা আসছেন, সরাসরি ইউএনও সাহেবের সঙ্গে কথা বলে কাজ সারছেন, যথারীতি বিদায় নিচ্ছেন। কোনো হয়রানি বা ভোগান্তি নেই। বেড়েছে সেবার মান।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই মাঠ প্রশাসনের কার্যক্রমে সরাসরি তদারকি বাড়িয়েছেন শামসুল ইসলাম। নাগরিক সেবা সহজীকরণ, উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, শিক্ষা, বাল্যবিয়ে ও মাদক প্রতিরোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি—বিভিন্ন ক্ষেত্রে উপজেলা প্রশাসনের কার্যক্রমে সমন্বয় বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কার্যালয়কেন্দ্রিক কার্যক্রমের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে সরেজমিন পরিদর্শনকে গুরুত্ব দিচ্ছেন ইউএনও। সরকারি বিভিন্ন প্রকল্প ও সেবামূলক কার্যক্রমের বাস্তব অবস্থা জানতে সংশ্লিষ্ট এলাকা পরিদর্শন, উপকারভোগীদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসনের কাছে বিভিন্ন সমস্যা ও অভিযোগ নিয়ে আসা নাগরিকদের কথা সরাসরি শোনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারি সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ যাতে প্রয়োজনীয় তথ্য সহজে পান এবং অযথা হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।
গণশুনানি ও সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে স্থানীয় মানুষের সমস্যা জানার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে তা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনিক সেবাকে আরও সহজ ও জবাবদিহিমূলক করার ক্ষেত্রে এসব কার্যক্রমকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
উন্নয়নকাজে মাঠপর্যায়ের নজরদারি বাড়িয়েছেন তিনি। উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করছেন ইউএনও শামসুল ইসলাম। গ্রামীণ সড়ক, অবকাঠামো, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন উন্নয়নকাজের অগ্রগতি এবং কাজের মান সম্পর্কে খোঁজ নিয়মিত নিচ্ছেন। এছাড়াও প্রতিটি উন্নয়নকাজ সরেজমিন পরিদর্শন করছেন। উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নীতিমালা ও মানদণ্ড অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা তদারকির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বাস্তবায়নকারী সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে। কোনো সমস্যা বা অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেলে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
উপজেলার বয়স্ক, বিধবা ও অন্যান্য ভাতাভোগীদের সরকারি সুবিধা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদারকি করা হচ্ছে। প্রকৃত সুবিধাভোগীদের তালিকা প্রণয়ন এবং সরকারি সহায়তা বিতরণে স্বচ্ছতা বজায় রাখার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করছেন ইউএনও।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা জরুরি পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও উপজেলা প্রশাসনের প্রস্তুতি ও সমন্বয় কার্যক্রমে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
উপজেলায় বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে প্রশাসনের নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি সচেতনতামূলক উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বাল্যবিয়ের খবর পেলে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্টদের সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আইন লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি পরিবার ও স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা তৈরির উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।
উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ প্রশাসন ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে উপজেলা প্রশাসন। নিয়মিত বাজার মনিটরিং, মাদক, বাল্যবিয়ে, সরকারি সম্পত্তি দখলসহ বিভিন্ন সামাজিক ও প্রশাসনিক সমস্যা চিহ্নিত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সরকারি খাল, জলাশয় ও জমি অবৈধ দখলমুক্ত রাখা এবং সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়েও নজরদারি রয়েছে।
মাঠ প্রশাসনের কার্যক্রমে জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে সমন্বয়কে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় পর্যায়ের সমস্যাগুলো দ্রুত প্রশাসনের নজরে আনতে এই যোগাযোগ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে উপজেলা প্রশাসনের কাছে যাওয়ার ক্ষেত্রে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগকে তারা গুরুত্ব দিচ্ছেন।
প্রসঙ্গত, এর আগে ইউএনও শামসুল ইসলাম রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। সে সময় তিনি তার কর্মদক্ষতা দিয়ে গোদাগাড়ী উপজেলা ভূমি অফিসকে মডেল ভূমি অফিসে রূপান্তরিত করেছিলেন। তিনি এতটাই কর্ম ও জনবান্ধব কর্মকর্তা ছিলেন যে, তার বদলি আদেশ ঠেকাতে দলমত নির্বিশেষে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ বিভিন্ন মহলে দৌড়ঝাঁপ ও তদবিরও করেছিলেন। তার অশ্রুসিক্ত বিদায় এখনো গোদাগাড়ীর মানুষের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ করছে, এসব মানুষ এখনো তার শূন্যতা অনুভব করছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) জিয়াউর রহমান বলেন, ইউএনও স্যার এখানে যোগদানের পর উপজেলা পরিষদ চত্বরের দৃশ্যপট পাল্টে গেছে। তিনি বলেন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের তত্ত্বাবধানে প্রতিটি উন্নয়নকাজ ইউএনও স্যার সরেজমিন পরিদর্শন করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট এলাকার উপকারভোগীদের সঙ্গেও নানা বিষয়ে মতবিনিময় করছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ভবসিন্ধু রায় বলেন, ইউএনও স্যার কৃষকববান্ধব, তিনি কৃষকদের উন্নয়নে নানা পদক্ষেপ নিয়েছেন। বিশেষ করে সার বিপণনে শৃঙ্খলা ফেরাতে তিনি নানা উদ্যোগ নিয়েছেন।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, ইউএনও স্যার এখানে যোগদানের পরপরই প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-কর্মচারীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করেছেন। তিনি প্রতিনিয়ত বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করছেন। এতে শিক্ষাক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন সাধিত হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামসুল ইসলাম বলেন, সরকারি দায়িত্ব পালনের মূল লক্ষ্য হচ্ছে জনগণকে নিয়ম অনুযায়ী সেবা দেওয়া। উপজেলা প্রশাসনের সব কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সমন্বয় বজায় রেখে কাজ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের সমস্যা গুরুত্বের সঙ্গে শুনে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাঠ প্রশাসনে নাগরিক সেবা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সামাজিক সমস্যাগুলো মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসন কাজ করছে।
স্থানীয় মানুষের প্রত্যাশা, সরকারি সেবার সুফল যেন উপজেলা সদর থেকে প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের কাছেও সমানভাবে পৌঁছায়। কর্মক্ষেত্রে নিয়মানুবর্তিতা, উদ্ভাবনী ভাবনা এবং দায়িত্বশীল আচরণের কারণে বাগাতিপাড়া উপজেলা প্রশাসনের কার্যক্রমে আগের চেয়ে অনেক বেশি গতিশীলতা এসেছে। একজন দক্ষ ও দূরদর্শী প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে ইউএনও শামসুল ইসলামের এসব জনকল্যাণমুখী পদক্ষেপ উপজেলার টেকসই ও ইতিবাচক পরিবর্তনের চিত্র ফুটিয়ে তুলছে।

কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন 
সময়ের প্রত্যাশা ডেস্ক : 




















