আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের সংখ্যালঘু দলের নেতা চাক শুমার কড়া ভাষায় মন্তব্য করেছেন যে ইরানে চলমান সংঘাত কোনোভাবেই চলতে দেওয়া যায় না এবং এটি অবিলম্বে বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের নীতিমালার তীব্র সমালোচনা করেন এবং বৈদেশিক ও অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন সংকটের জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দায়ী করেন। তিনি দাবি করেন যে প্রেসিডেন্টের খামখেয়ালি সিদ্ধান্ত এবং প্রশাসনিক দুর্নীতির কারণেই মূলত মধ্যপ্রাচ্যে এই অনভিপ্রেত যুদ্ধের সূত্রপাত হয়েছে। দেশের ভেতরে ও বাইরে তৈরি হওয়া এই বিশৃঙ্খলার জন্য সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের চরম মূল্য দিতে হচ্ছে বলেও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট দলের প্রার্থীরা উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছেন। এই নির্বাচনী ফলাফলের প্রসঙ্গ টেনে চাক শুমার বলেন যে সাধারণ ভোটাররা বর্তমান প্রশাসনের কার্যক্রমে সন্তুষ্ট নন এবং পরিবর্তনের পক্ষেই রায় দিয়েছেন। তার মতে, ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান দলের নেতারা জনগণের মৌলিক প্রয়োজনগুলোকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করেছেন। স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের মূল্য ঊর্ধ্বগতির মতো জনজীবন প্রভাবিতকারী বিষয়গুলোতে নজর না দিয়ে প্রশাসন অপ্রাসঙ্গিক বিষয়ে সময় নষ্ট করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার বিষয়টি তুলে ধরে ডেমোক্র্যাট এই সিনেটর বলেন যে মার্কিন জনগণ আদতে জানে না এই লড়াইয়ে তাদের দেশ কেন লিপ্ত রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন যে প্রশাসনের অদূরদর্শী বিচারবুদ্ধি এবং অনৈতিক সিদ্ধান্তের কারণেই এই রক্তক্ষয়ী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এই যুদ্ধের ফলে দেশে এবং বিদেশে যেসব মার্কিন নাগরিকের প্রাণহানি ঘটেছে, তার দায়ও প্রশাসন এড়াতে পারে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাই অনতিবিলম্বে এই সামরিক সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য জোর দাবি জানান তিনি।
জনগণের মতামত বা প্রচলিত আইনকে উপেক্ষা করে প্রশাসন যদি ভবিষ্যতে কোনো একতরফা পদক্ষেপ গ্রহণ করে, তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন চাক শুমার। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে কংগ্রেসের তদন্তের মুখোমুখি হতে হবে এবং আইন প্রণয়নের মাধ্যমে প্রশাসনের যেকোনো অনৈতিক কাজের লাগাম টেনে ধরা হবে। ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি অনুগত থাকার যে সংস্কৃতি সিনেটে এতদিন বজায় ছিল, তার অবসান ঘটেছে বলেও দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এই শীর্ষ ডেমোক্র্যাট নেতা।

কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন 
সময়ের প্রত্যাশা ডেস্ক : 























