ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার চান্দ্রা ইউনিয়নের মালিগ্রাম আমতলা গ্রামের এক অসহায় বৃদ্ধ দম্পত্তি বিচারের আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। সহায় সম্বল বলতে মালিগ্রাম ১০৬ নং মৌজার বিএস ২৩০ নং খতিয়ানে বিএস ৮৪৫, ৮৪৭, ৮৪৮ দাগে ২৬ শতাংশ রাস্তার পাশে একটু জমি। বৃদ্ধ দম্পতি স্বামী হারুনার রশিদ একজন মানসিক প্রতিবন্ধি ও স্ত্রী পারুলী বেগম একজন কাপড় বিক্রির ফেরিওয়ালা।
সরকারি এক টুকরো জায়গা বরাদ্দ পাওয়ায় সেখানে এক সন্তান সাগরকে নিয়ে তাদের ছোট খাট সংসার। স্বামী মানসিক প্রতিবন্ধি হওয়ায় স্ত্রী ঢাকা থেকে কাপড় কিনে এনে গ্রামে ফেরি করে বিক্রি করে সংসার পরিচালনা করে। অর্থাভাবে স্বামীর ২৬ শতাংশ জায়গা দেখে শুনে রাখার মত সময় ও পরিবেশ না থাকায় সেই জায়গায় রাতের আধারে আওয়ামীলীগ নেতা আছাদুজ্জামান দখল করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
রাতভর অতিরিক্ত শ্রমিক দিয়ে জায়গাটিতে দেওয়াল তুলে নিজের নিয়ন্ত্রনে নিয়ে নেয় আছাদুজ্জামান। স্থানীয় ভাবে চান্দ্রা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খালেক মোল্লা ও ইউপি সদস্য সোবাহান মিলে একাধীকবার দেন দরবার করেও বিষয়টি মীমাংসা করতে ব্যর্থ হয়। এক পর্যায় বৃদ্ধ দম্পতি আদালতের স্মরনাপন্ন হয়ে উক্ত জায়গার উপর ১৪৪ ধারা জারি করেন। ভাঙ্গা থানার সহকারি উপ পরিদর্শক সিরাজুল ইসলাম ১৪৪ ধারা জারি করে উক্ত জায়গার উপর সব ধরনের কর্মকান্ড নিষিদ্ধ ঘোষনা করেন। আছাদুজ্জামান প্রভাবশালীদের ব্যবহার করে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে পুনবায় কাজ শুরু করে। বিষয়টি উক্ত দম্পতি থানা সহ এলাকার গন্যমান্যদের দ্বারস্থ হলেও তার কোন প্রতিকার পাননি। আছাদুজ্জামান বৃদ্ধ দম্পতির জায়গা দখল করে তার কাজ সে সম্পন্ন করে।
বৃদ্ধ দম্পতি হারুনার রশিদ ও স্ত্রী পারুলী বেগম সঠিক বিচারের জন্য সরকারের উদ্ধর্তন কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের কাছে জোর দাবি জানিয়েছে।
এবিষয়ে ভাঙ্গা থানার সহকারি উপ পরিদর্শক সিরাজুল ইসলাম জানায়, আদালতের নির্দেশে উক্ত জায়গার উপর আমরা ১৪৪ ধারা জারি করি। আমাদের কাছে ঐ বৃদ্ধ দম্পতি অভিযোগ করেছিল যে, উক্ত জায়গার উপর কাজ চলমান রয়েছে। আমরা বিকেলে ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করে আদালতের নির্দেশ পালন করব। এলাকার পরিবেশ পুলিশের নিয়ন্ত্রনে রয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি উভয়ের বিবাদমান সমস্যার সমাধান করতে।
১৪৪ ধারা ভঙ্গ করা আছাদুজ্জামান বলেন, জায়গাটি আমাদের দাদী আমাদের পিতা ও ফুফুদের মাঝে বন্টন করে দিয়ে গেছে। আমরা ফুফুদের অংশ কিনে নিলে যত বিপত্তির সৃষ্টি হয়েছে। তারপরও বিষয়টি যখন আদালতে গড়িয়েছে আইনই আমাদের সমাধান দিবে। ১৪৪ ধারা ভঙ্গর বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার কিছু সিমেন্ট থেকে যাওয়ায় আমার মিস্ত্রি কিছুটা কাজ করেছে।

কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন 
বোরহানুজ্জামান আনিস, স্টাফ রিপোর্টার (নগরকান্দা) ফরিদপুর 

























