ঢাকা , শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

বাঘা পৌরসভার প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ৪ লাখ টাকা ঘুষ দাবি ও হামলা চেষ্টার অভিযোগ

আব্দুল হামিদ মিঞাঃ

 

রাজশাহীর বাঘা পৌরসভার এক প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে কোভিড-১৯ প্রকল্প ও এডিপির কাজের বিল ছাড় করতে ৪ লাখ টাকা ঘুষ দাবি এবং হামলার চেষ্টার অভিযোগ তুলেছেন এক ঠিকাদার। ঘটনাটি জানিয়ে ভুক্তভোগী ঠিকাদার সংবাদিকদের কাছে লিখিত বিবৃতি দিয়েছেন।

 

লিখিত বিবৃতিতে ঠিকাদার রবিউল ইসলাম দাবি করেন, বাঘা পৌরসভার কোভিড-১৯ প্রকল্পের আওতায় ৪টি প্যাকেজের প্রায় ১ কোটি ২৫ লাখ টাকার কাজ তিনি ৬ মাস আগে শেষ করেছেন। কিন্তু ৫ মাস ধরে বিলের জন্য তাগিদ দিলে পৌরসভার প্রকৌশলী তাজুল ইসলাম তার কাছে ৩ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন বলে অভিযোগ করেন।

 

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরের এডিপি প্রকল্পের আওতায় টেন্ডার আইডি ১২৫৮০১৬ এর ২৫০ মিটার রাস্তার কাজ তার সহধর্মিণীর প্রতিষ্ঠান “মায়ের দোয়া কনস্ট্রাকশন” পায়। ০৩/০৬/২০২৬ তারিখে কাজের গাঁথুনি নিয়ে আপত্তি তুলে প্রকৌশলী তাজুল ইসলাম নতুন করে ১ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন।

 

ভুক্তভোগীর দাবি, ০৪/০৬/২০২৬ তারিখ সকালে বিলের তাগিদে গেলে প্রকৌশলী পূর্বের ৩ লাখ ও নতুন ১ লাখ টাকাসহ মোট ৪ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানালে অন্য ঠিকাদারদের সামনে তার ফাইল ছুড়ে ফেলে দিয়ে হামলার উদ্দেশ্য চেয়ার তুলেন বলে লিখিত বিবৃতিতে উল্লেখ করেন তিনি। ঠিকাদার রবিউল ইসলাম “হামলাকারী, ঘুষখোর, দুর্নীতিবাজ” প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত ও উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

 

এ বিষয়ে বাঘা পৌরসভার প্রকৌশলী তাজুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন , ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরের এডিপি প্রকল্পের আওতায় ২৫০ মিটার রাস্তার কাজ সিডিউল মোতাবেক না করার কারণে ঠিকাদার রবিউল ইসলামকে সিডিউল মোতাবেক কাজের তাগিদ দেন। এটিই ছিল আমার বিরুদ্ধে অভিযোগের মূল কারণ। কাজ ভালো না হলে জনসাধারণ আমাদেরই বলে। আর কাজের ভালো মন্দ দেখভালের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনেক সময় অভিযোগের মুখে পড়তে হয়। কোভিড-১৯ প্রকল্পের আওতায় ৪টি প্যাকেজের প্রায় ১ কোটি ২৫ লাখ টাকার বিল প্রসঙ্গে তাজুল ইসলাম বলেন, পৌর সভার ফান্ড থেকে ৮০% টাকা দেওয়া হয়েছে। বাকি ২০%টাকা পিডি অফিস দিবে। সেখানে কাজের গুণগত মানের প্রমাণ সহ ফাইল পাঠানোর পর বিল দেয়।

 

বাঘা পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাম্মী আক্তার বলেন, প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে কাজের গুণগত মান নিয়ে তার সাথে বাকবিতন্ডা হয়েছে বলে প্রকোশলী তাকে জানিয়েছেন।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

বাঘায় বিশ্ব পরিবেশ দিবসে র‌্যালি ও আলোচনা সভা

error: Content is protected !!

বাঘা পৌরসভার প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ৪ লাখ টাকা ঘুষ দাবি ও হামলা চেষ্টার অভিযোগ

আপডেট টাইম : ১০:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
আব্দুল হামিদ মিঞা, বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি :

আব্দুল হামিদ মিঞাঃ

 

রাজশাহীর বাঘা পৌরসভার এক প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে কোভিড-১৯ প্রকল্প ও এডিপির কাজের বিল ছাড় করতে ৪ লাখ টাকা ঘুষ দাবি এবং হামলার চেষ্টার অভিযোগ তুলেছেন এক ঠিকাদার। ঘটনাটি জানিয়ে ভুক্তভোগী ঠিকাদার সংবাদিকদের কাছে লিখিত বিবৃতি দিয়েছেন।

 

লিখিত বিবৃতিতে ঠিকাদার রবিউল ইসলাম দাবি করেন, বাঘা পৌরসভার কোভিড-১৯ প্রকল্পের আওতায় ৪টি প্যাকেজের প্রায় ১ কোটি ২৫ লাখ টাকার কাজ তিনি ৬ মাস আগে শেষ করেছেন। কিন্তু ৫ মাস ধরে বিলের জন্য তাগিদ দিলে পৌরসভার প্রকৌশলী তাজুল ইসলাম তার কাছে ৩ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন বলে অভিযোগ করেন।

 

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরের এডিপি প্রকল্পের আওতায় টেন্ডার আইডি ১২৫৮০১৬ এর ২৫০ মিটার রাস্তার কাজ তার সহধর্মিণীর প্রতিষ্ঠান “মায়ের দোয়া কনস্ট্রাকশন” পায়। ০৩/০৬/২০২৬ তারিখে কাজের গাঁথুনি নিয়ে আপত্তি তুলে প্রকৌশলী তাজুল ইসলাম নতুন করে ১ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন।

 

ভুক্তভোগীর দাবি, ০৪/০৬/২০২৬ তারিখ সকালে বিলের তাগিদে গেলে প্রকৌশলী পূর্বের ৩ লাখ ও নতুন ১ লাখ টাকাসহ মোট ৪ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন। ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানালে অন্য ঠিকাদারদের সামনে তার ফাইল ছুড়ে ফেলে দিয়ে হামলার উদ্দেশ্য চেয়ার তুলেন বলে লিখিত বিবৃতিতে উল্লেখ করেন তিনি। ঠিকাদার রবিউল ইসলাম “হামলাকারী, ঘুষখোর, দুর্নীতিবাজ” প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত ও উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

 

এ বিষয়ে বাঘা পৌরসভার প্রকৌশলী তাজুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন , ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরের এডিপি প্রকল্পের আওতায় ২৫০ মিটার রাস্তার কাজ সিডিউল মোতাবেক না করার কারণে ঠিকাদার রবিউল ইসলামকে সিডিউল মোতাবেক কাজের তাগিদ দেন। এটিই ছিল আমার বিরুদ্ধে অভিযোগের মূল কারণ। কাজ ভালো না হলে জনসাধারণ আমাদেরই বলে। আর কাজের ভালো মন্দ দেখভালের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনেক সময় অভিযোগের মুখে পড়তে হয়। কোভিড-১৯ প্রকল্পের আওতায় ৪টি প্যাকেজের প্রায় ১ কোটি ২৫ লাখ টাকার বিল প্রসঙ্গে তাজুল ইসলাম বলেন, পৌর সভার ফান্ড থেকে ৮০% টাকা দেওয়া হয়েছে। বাকি ২০%টাকা পিডি অফিস দিবে। সেখানে কাজের গুণগত মানের প্রমাণ সহ ফাইল পাঠানোর পর বিল দেয়।

 

বাঘা পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাম্মী আক্তার বলেন, প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে কাজের গুণগত মান নিয়ে তার সাথে বাকবিতন্ডা হয়েছে বলে প্রকোশলী তাকে জানিয়েছেন।