ঢাকা , শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 1728311111

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

টাকা না দেওয়ায় ওয়ার্ড বয়দের হেনস্তায় রোগী মৃত্যুর অভিযোগ

মানিক কুমার দাস, ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ওয়ার্ড বয়দের দাবি করা ৫০০ টাকা না দেওয়ায় রোগীকে হেনস্তা ও অবহেলায় স্বপ্না হালদার (৩২) নামের এক নারীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তারা হাসপাতালের পরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। রোববার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগে এ ঘটনা ঘটে।

 

স্বপ্না হালদার ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার কাউলিবেড়া ইউনিয়নের বিশোরীকান্দি গ্রামের প্রাণকৃষ্ণ বালার মেয়ে। তিনি পাশের মাদারপুরের রাজৈর উপজেলার খালিয়া গ্রামের রমেন হালদারের স্ত্রী।

 

সরেজমিনে দেখা যায়, মরদেহের পাশে বসে আহাজারি করছেন মা মিনি বালা। তিনি বলেন, আমার মেয়েকে এ বেডে ফেলে দিয়ে যান তারা। তখন আমার ছেলেকেও টেনে নিয়ে মারে। আমার বুকের সন্তানকে কেড়ে নিয়ে গেছে দুইড্যা লোক। ওদের বিচার না হলে ওরা আরও মায়ের বুক খালি করে দিবে।

 

মারা যাওয়া স্বপ্নার স্বামী রমেন হালদার জানান, শনিবার বিকেলে আমার স্ত্রীর বুকে ব্যথা শুরু হলে রাতে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করি। এরপর ডাক্তাররা ভালো চিকিৎসাও দিয়েছেন। রোববার সকালে হাসপাতালের দুজন স্টাফ এসে ৫০০ টাকা দাবি করে। টাকা না দেওয়ায় জোর করে তাকে অন্য একটি বেডে পাঠিয়ে দেন তারা। রোগীকে ওই বেডে নিয়ে ফেলে দিলে তার ক্যানুলা দিয়ে রক্ত উঠে যায়। অক্সিজেনও ঠিকমতো লাগিয়ে দেয়নি। ওই সময় স্বপ্না জানায় তার বুকে ব্যথা বেশি হচ্ছে। এর দুই মিনিটের মধ্যে সে মারা যায়।

 

তিনি আরও বলেন, এ সময় আমার শ্যালক আকাশ ও তার মামা বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে তাদের শার্টের কলার ধরে হাসপাতালের বাইরে নিয়ে মারধর করে তারা।

মারধরের শিকার অভিমান্ন জানান, হাসপাতালের কর্মচারী আনোয়ার মোল্যা ও আউটসোর্সিং ২৯ ব্যাচের সুইপার মো. সমেস মিয়া বলেন, এ বেডে রোগীকে রাখা যাবে না। তখন পাঁচ মিনিট সময় চাইলে জোর করে ওই রোগীকে অন্য বেডে নিয়ে যান। টাকা না দেওয়ায় আমার গায়ে হাত তোলেন তারা।

 

এ বিষয়ে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. হুমায়ুন কবির বলেন, আমরা ওয়ার্ড বয় আনোয়ারকে জিজ্ঞাসাবাদ করব। স্বজনরা সময় চাওয়ার পরও কেন তাকে বিছানা পরিবর্তন করা হলো সে বিষয়ে তদন্ত করা হবে। অন্যায় করে থাকলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ
error: Content is protected !!

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

টাকা না দেওয়ায় ওয়ার্ড বয়দের হেনস্তায় রোগী মৃত্যুর অভিযোগ

আপডেট টাইম : ০৫:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৫
মানিক কুমার দাস, ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি :

মানিক কুমার দাস, ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ওয়ার্ড বয়দের দাবি করা ৫০০ টাকা না দেওয়ায় রোগীকে হেনস্তা ও অবহেলায় স্বপ্না হালদার (৩২) নামের এক নারীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তারা হাসপাতালের পরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। রোববার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগে এ ঘটনা ঘটে।

 

স্বপ্না হালদার ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার কাউলিবেড়া ইউনিয়নের বিশোরীকান্দি গ্রামের প্রাণকৃষ্ণ বালার মেয়ে। তিনি পাশের মাদারপুরের রাজৈর উপজেলার খালিয়া গ্রামের রমেন হালদারের স্ত্রী।

 

সরেজমিনে দেখা যায়, মরদেহের পাশে বসে আহাজারি করছেন মা মিনি বালা। তিনি বলেন, আমার মেয়েকে এ বেডে ফেলে দিয়ে যান তারা। তখন আমার ছেলেকেও টেনে নিয়ে মারে। আমার বুকের সন্তানকে কেড়ে নিয়ে গেছে দুইড্যা লোক। ওদের বিচার না হলে ওরা আরও মায়ের বুক খালি করে দিবে।

 

মারা যাওয়া স্বপ্নার স্বামী রমেন হালদার জানান, শনিবার বিকেলে আমার স্ত্রীর বুকে ব্যথা শুরু হলে রাতে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করি। এরপর ডাক্তাররা ভালো চিকিৎসাও দিয়েছেন। রোববার সকালে হাসপাতালের দুজন স্টাফ এসে ৫০০ টাকা দাবি করে। টাকা না দেওয়ায় জোর করে তাকে অন্য একটি বেডে পাঠিয়ে দেন তারা। রোগীকে ওই বেডে নিয়ে ফেলে দিলে তার ক্যানুলা দিয়ে রক্ত উঠে যায়। অক্সিজেনও ঠিকমতো লাগিয়ে দেয়নি। ওই সময় স্বপ্না জানায় তার বুকে ব্যথা বেশি হচ্ছে। এর দুই মিনিটের মধ্যে সে মারা যায়।

 

তিনি আরও বলেন, এ সময় আমার শ্যালক আকাশ ও তার মামা বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে তাদের শার্টের কলার ধরে হাসপাতালের বাইরে নিয়ে মারধর করে তারা।

মারধরের শিকার অভিমান্ন জানান, হাসপাতালের কর্মচারী আনোয়ার মোল্যা ও আউটসোর্সিং ২৯ ব্যাচের সুইপার মো. সমেস মিয়া বলেন, এ বেডে রোগীকে রাখা যাবে না। তখন পাঁচ মিনিট সময় চাইলে জোর করে ওই রোগীকে অন্য বেডে নিয়ে যান। টাকা না দেওয়ায় আমার গায়ে হাত তোলেন তারা।

 

এ বিষয়ে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. হুমায়ুন কবির বলেন, আমরা ওয়ার্ড বয় আনোয়ারকে জিজ্ঞাসাবাদ করব। স্বজনরা সময় চাওয়ার পরও কেন তাকে বিছানা পরিবর্তন করা হলো সে বিষয়ে তদন্ত করা হবে। অন্যায় করে থাকলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।