ঢাকা , শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 1728311111

গড়াই নদীতে ‘শহীদ আবরার ফাহাদ সেতু’ নির্মাণের অপেক্ষায় দুই লাখ মানুষ

ইসমাইল হোসেন বাবু, সিনিয়ার স্টাফ রিপোর্টার

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে গড়াই নদীর ওপর ‘শহীদ আবরার ফাহাদ সেতু’ নির্মাণের অপেক্ষায় রয়েছেন নদীর দুই পাড়ের মানুষ। দীর্ঘদিনের যোগাযোগ-সংকট নিরসন, কৃষিপণ্য পরিবহন সহজ করা এবং জেলা শহরের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশায় সেতুটি নির্মাণের দাবি জোরালো হচ্ছে। সেতুটি নির্মাণে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হচ্ছে ২৫০ থেকে ৩০০ কোটি টাকা। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের আশা, বর্তমান সরকারের আমলেই সেতুটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন হবে।

কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের ঘোড়াঘাট-বড়বাজার সংযোগ সড়কে গড়াই নদীর ওপর এ সেতু বাস্তবায়িত হলে কয়া, শিলাইদহ, চর সাদীপুর, নন্দলালপুর ও হরিপুর ইউনিয়নের একাংশের মানুষের যোগাযোগব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। উল্লেখ্য, এসব এলাকার দুই লাখ মানুষ এ যোগাযোগব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত। প্রতিদিন প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার মানুষ নৌকায় গড়াই নদী পার হয়ে কুষ্টিয়া শহরে যাতায়াত করে দীর্ঘদিন ধরে নদী পারাপারের ভোগান্তি, সময়ের অপচয় ও অতিরিক্ত যাতায়াত ব্যয় তাদের নিত্যসঙ্গী।

সম্প্রতি শহীদ আবরার ফাহাদের পিতা বরকত উল্লাহ প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করলে গত ১০ অক্টোবর ২০২৬ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অগ্রগতি প্রতিবেদন পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ১৪ অক্টোবর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম প্রস্তাবিত সেতুর স্থান পরিদর্শন করেন এবং প্রকল্পের পরবর্তী কার্যক্রম সম্পর্কে তথ্য জানান।

তবে সেতুটির চূড়ান্ত অনুমোদন ও নির্মাণকাজ শুরুর বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হয়নি। এ জন্য সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, মাটি পরীক্ষা, নকশা প্রণয়ন, ব্যয় নির্ধারণ ও উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রস্তুতসহ প্রয়োজনীয় সরকারি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে নির্মাণকাজ শুরু করা হবে।

বর্তমান সরকারের আমলেই সেতু নির্মাণের আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সাবেক সংসদ সদস্য মেহেদী আহমেদ রুমী ও জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ সাদী। তারা বলেন, বর্তমান সরকারের আমলেই সেতুর কাজ সম্পন্ন করা হবে।

এ ব্যাপারে জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় সংসদ সদস্য আফজাল হোসেন সেতু নির্মাণের দাবিতে এলাকাবাসীর আয়োজিত মানববন্ধনে উপস্থিত হয়ে এটি বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, এতে সেতু নির্মাণের দাবিতে আন্দোলনরত মানুষের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।

কুমারখালী উপজেলার কয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আয়েশা আক্তার বলেন, এটা আমাদের প্রাণের দাবি যে- শহীদ আবরার ফাহাদের নামে সেতু হোক। শিক্ষার্থীর এ বক্তব্যে সেতু নির্মাণের দাবির পাশাপাশি শহীদ আবরার ফাহাদের নামে সেতুটির নামকরণের প্রত্যাশাও উঠে এসেছে।

রায়ডাঙা গ্রামের কৃষক মতিয়ার হোসেন ও মনোহরপুরের চাকরিজীবী জালাল উদ্দিন জানান, সেতু নির্মিত হলে জেলা শহরের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়বে। এতে মানুষের জীবনমান ও অর্থনীতিতে পরিবর্তন আসবে। তাদের মতে, উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা কৃষিপণ্য পরিবহন ও বাজারজাতকরণ সহজ করবে পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার, কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকান্ডেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। রোগী, শিক্ষার্থী, নারী ও বয়স্ক ব্যক্তিদের যাতায়াতের দুর্ভোগ কমার পাশাপাশি জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত জেলা শহরে পৌঁছানো সম্ভব হবে। শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সহজ হবে এবং শিক্ষা, চিকিৎসাসহ জরুরি সেবা গ্রহণে নদী পারাপারের ভোগান্তি কমবে। কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আসবে।

এ ছাড়াও কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত শিলাইদহের কুঠিবাড়ি ও ফকির লালন সাঁইয়ের আখড়াসহ অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক ও পর্যটনকেন্দ্রগুলোর মধ্যে যোগাযোগ উন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত ‘শহীদ আবরার ফাহাদ সেতু’ নির্মাণে আনুমানিক ২৫০ থেকে ৩০০ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে। প্রয়োজনীয় সমীক্ষা, নকশা ও সরকারি আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে দরপত্র আহ্বানের পর ২০২৬ সালের শীত মৌসুমের শেষ দিকে নির্মাণকাজ শুরুর প্রত্যাশা রয়েছে। তবে এটি সম্ভাব্য সময়সীমা; চূড়ান্ত প্রকল্প অনুমোদন, ব্যয় ও নির্মাণ শুরুর তারিখ এখনো নিশ্চিত নয়। তাছাড়া প্রস্তাবিত এই সেতু থেকে নদীর প্রায় দুই কিলোমিটার উজানে কুষ্টিয়া-হরিপুর সেতু এবং ভাটিতে ৫ কিলোমিটার দূরে রয়েছে সৈয়দ মাসউদ রুমী সড়ক ও গড়াই রেল সেতু, সেক্ষেত্রে আরো একটি সেতুর প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও ভাবনার খোরাক।

এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা, প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে সেতু নির্মাণের উদ্যোগ বাস্তবে রূপ দেওয়া হবে। তাদের মতে, গড়াই নদীর ওপর ‘শহীদ আবরার ফাহাদ সেতু’ নির্মিত হলে তা শুধু যোগাযোগের দুর্ভোগই কমাবে না, বরং কুষ্টিয়ার এ অঞ্চলের কৃষি, শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সামগ্রিক আর্থসামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

Ishtiaque Ahmed

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী বললেন, ‘পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভালো বলতে পারবে’

error: Content is protected !!

গড়াই নদীতে ‘শহীদ আবরার ফাহাদ সেতু’ নির্মাণের অপেক্ষায় দুই লাখ মানুষ

আপডেট টাইম : ৫৭ মিনিট আগে
সময়ের প্রত্যাশা ডেস্ক : :

ইসমাইল হোসেন বাবু, সিনিয়ার স্টাফ রিপোর্টার

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে গড়াই নদীর ওপর ‘শহীদ আবরার ফাহাদ সেতু’ নির্মাণের অপেক্ষায় রয়েছেন নদীর দুই পাড়ের মানুষ। দীর্ঘদিনের যোগাযোগ-সংকট নিরসন, কৃষিপণ্য পরিবহন সহজ করা এবং জেলা শহরের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশায় সেতুটি নির্মাণের দাবি জোরালো হচ্ছে। সেতুটি নির্মাণে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হচ্ছে ২৫০ থেকে ৩০০ কোটি টাকা। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের আশা, বর্তমান সরকারের আমলেই সেতুটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন হবে।

কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের ঘোড়াঘাট-বড়বাজার সংযোগ সড়কে গড়াই নদীর ওপর এ সেতু বাস্তবায়িত হলে কয়া, শিলাইদহ, চর সাদীপুর, নন্দলালপুর ও হরিপুর ইউনিয়নের একাংশের মানুষের যোগাযোগব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। উল্লেখ্য, এসব এলাকার দুই লাখ মানুষ এ যোগাযোগব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত। প্রতিদিন প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার মানুষ নৌকায় গড়াই নদী পার হয়ে কুষ্টিয়া শহরে যাতায়াত করে দীর্ঘদিন ধরে নদী পারাপারের ভোগান্তি, সময়ের অপচয় ও অতিরিক্ত যাতায়াত ব্যয় তাদের নিত্যসঙ্গী।

সম্প্রতি শহীদ আবরার ফাহাদের পিতা বরকত উল্লাহ প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করলে গত ১০ অক্টোবর ২০২৬ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অগ্রগতি প্রতিবেদন পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ১৪ অক্টোবর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম প্রস্তাবিত সেতুর স্থান পরিদর্শন করেন এবং প্রকল্পের পরবর্তী কার্যক্রম সম্পর্কে তথ্য জানান।

তবে সেতুটির চূড়ান্ত অনুমোদন ও নির্মাণকাজ শুরুর বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হয়নি। এ জন্য সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, মাটি পরীক্ষা, নকশা প্রণয়ন, ব্যয় নির্ধারণ ও উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রস্তুতসহ প্রয়োজনীয় সরকারি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে নির্মাণকাজ শুরু করা হবে।

বর্তমান সরকারের আমলেই সেতু নির্মাণের আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সাবেক সংসদ সদস্য মেহেদী আহমেদ রুমী ও জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ সাদী। তারা বলেন, বর্তমান সরকারের আমলেই সেতুর কাজ সম্পন্ন করা হবে।

এ ব্যাপারে জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় সংসদ সদস্য আফজাল হোসেন সেতু নির্মাণের দাবিতে এলাকাবাসীর আয়োজিত মানববন্ধনে উপস্থিত হয়ে এটি বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, এতে সেতু নির্মাণের দাবিতে আন্দোলনরত মানুষের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।

কুমারখালী উপজেলার কয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আয়েশা আক্তার বলেন, এটা আমাদের প্রাণের দাবি যে- শহীদ আবরার ফাহাদের নামে সেতু হোক। শিক্ষার্থীর এ বক্তব্যে সেতু নির্মাণের দাবির পাশাপাশি শহীদ আবরার ফাহাদের নামে সেতুটির নামকরণের প্রত্যাশাও উঠে এসেছে।

রায়ডাঙা গ্রামের কৃষক মতিয়ার হোসেন ও মনোহরপুরের চাকরিজীবী জালাল উদ্দিন জানান, সেতু নির্মিত হলে জেলা শহরের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়বে। এতে মানুষের জীবনমান ও অর্থনীতিতে পরিবর্তন আসবে। তাদের মতে, উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা কৃষিপণ্য পরিবহন ও বাজারজাতকরণ সহজ করবে পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার, কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকান্ডেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। রোগী, শিক্ষার্থী, নারী ও বয়স্ক ব্যক্তিদের যাতায়াতের দুর্ভোগ কমার পাশাপাশি জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত জেলা শহরে পৌঁছানো সম্ভব হবে। শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সহজ হবে এবং শিক্ষা, চিকিৎসাসহ জরুরি সেবা গ্রহণে নদী পারাপারের ভোগান্তি কমবে। কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আসবে।

এ ছাড়াও কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত শিলাইদহের কুঠিবাড়ি ও ফকির লালন সাঁইয়ের আখড়াসহ অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক ও পর্যটনকেন্দ্রগুলোর মধ্যে যোগাযোগ উন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত ‘শহীদ আবরার ফাহাদ সেতু’ নির্মাণে আনুমানিক ২৫০ থেকে ৩০০ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে। প্রয়োজনীয় সমীক্ষা, নকশা ও সরকারি আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে দরপত্র আহ্বানের পর ২০২৬ সালের শীত মৌসুমের শেষ দিকে নির্মাণকাজ শুরুর প্রত্যাশা রয়েছে। তবে এটি সম্ভাব্য সময়সীমা; চূড়ান্ত প্রকল্প অনুমোদন, ব্যয় ও নির্মাণ শুরুর তারিখ এখনো নিশ্চিত নয়। তাছাড়া প্রস্তাবিত এই সেতু থেকে নদীর প্রায় দুই কিলোমিটার উজানে কুষ্টিয়া-হরিপুর সেতু এবং ভাটিতে ৫ কিলোমিটার দূরে রয়েছে সৈয়দ মাসউদ রুমী সড়ক ও গড়াই রেল সেতু, সেক্ষেত্রে আরো একটি সেতুর প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও ভাবনার খোরাক।

এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা, প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে সেতু নির্মাণের উদ্যোগ বাস্তবে রূপ দেওয়া হবে। তাদের মতে, গড়াই নদীর ওপর ‘শহীদ আবরার ফাহাদ সেতু’ নির্মিত হলে তা শুধু যোগাযোগের দুর্ভোগই কমাবে না, বরং কুষ্টিয়ার এ অঞ্চলের কৃষি, শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সামগ্রিক আর্থসামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।