ঢাকা , শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 1728311111

রাষ্ট্র সংস্কারে চিন্তা ও মূল্যবোধের পুনর্গঠন জরুরি

মতামত ডেস্ক: সম্প্রতি দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে চিন্তা ও মূল্যবোধের পুনর্গঠনের বিষয়টি অত্যন্ত জোরালোভাবে সামনে এসেছে। বিগত সরকারের পতনের পর নানা মহলে এই প্রশ্ন উঠেছে যে, দীর্ঘ সময় ধরে দেশ শাসন করা নেতৃত্ব কীভাবে নিজেদের ভুল অনুধাবনে ব্যর্থ হয়েছিল। ইতিহাস বিশ্লেשণে দেখা যায়, জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা এবং আত্মকেন্দ্রিক মানসিকতার কারণে তৎকালীন সরকারপ্রধান ও তার সহযোগীরা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি। এর ফলে দেশে এক ধরনের ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার জন্ম হয়েছিল, যা শেষ পর্যন্ত বড় ধরনের সংকটের সৃষ্টি করে।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ব্রিটিশ আমল থেকেই এ অঞ্চলের রাজনীতিতে বাইরের শক্তির প্রভাব এবং বিভাজনের নীতি কার্যকর ছিল। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জোট সেই ধারা বজায় রেখে দেশ পরিচালনা করেছে, যা সাধারণ মানুষের প্রকৃত মুক্তি নিশ্চিত করতে পারেনি। বিশেষ করে বিগত শাসনামলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলে জনস্বার্থের পরিপন্থী বিভিন্ন নীতি বাস্তবায়ন করা হয়। বুয়েটের মেধাবী শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যার মতো মর্মান্তিক ঘটনাগুলো ধীরে ধীরে ছাত্র সমাজের সামনে সেই ব্যবস্থার আসল রূপ উন্মোচন করেছিল, যা পরবর্তী সময়ে বড় ধরনের গণঅভ্যুত্থানের পথ প্রশস্ত করে।

অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্র সংস্কারের নানা আলোচনা চললেও সুনির্দিষ্ট মতাদর্শ এবং ভবিষ্যৎ রূপরেখা নিয়ে এখনো কিছুটা অস্পষ্টতা রয়ে গেছে। দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর স্ব স্ব আদর্শ ও রাজনৈতিক এজেন্ডা থাকলেও রাষ্ট্রের মৌলিক নীতি ও সংবিধানের সংস্কারের বিষয়ে একটি জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তোলা জরুরি। অন্যথায় জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের মূল চেতনা এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষা পুরোপুরি বাস্তবায়িত হওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিশেষ করে রাষ্ট্রীয় দপ্তরগুলোর শীর্ষ পদে যারা দায়িত্ব পালন করবেন, তাদের মনন ও দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন না আসলে কেবল কাঠামোগত পরিবর্তনে কাঙ্ক্ষিত সুফল মিলবে না।

একটি সুশৃঙ্খল ও জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনে শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার এবং উপযুক্ত নাগরিক তৈরি করা সবচেয়ে বড় শর্ত। অতীতে পাঠ্যপুস্তকে ইতিহাস বিকৃতির মাধ্যমে এক ধরনের স্বার্থান্বেষী ও দেশবিমুখ জনগোষ্ঠী তৈরি করা হয়েছে, যা দেশের অগ্রযাত্রাকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করেছে। এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য অবিলম্বে একটি কার্যকর শিক্ষা কমিশন গঠন করা অপরিহার্য। পাশাপাশি রাজনৈতিক দলের সদস্য সংগ্রহ প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন এনে সুনাগরিকতার মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যাতে পুরনো ধ্যান-ধারণা ভেঙে একটি আধুনিক ও জনবান্ধব রাষ্ট্র গড়ে তোলা সম্ভব হয়।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

Ishtiaque Ahmed

জনপ্রিয় সংবাদ
error: Content is protected !!

রাষ্ট্র সংস্কারে চিন্তা ও মূল্যবোধের পুনর্গঠন জরুরি

আপডেট টাইম : ৫৪ মিনিট আগে
সময়ের প্রত্যাশা ডেস্ক : :

মতামত ডেস্ক: সম্প্রতি দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে চিন্তা ও মূল্যবোধের পুনর্গঠনের বিষয়টি অত্যন্ত জোরালোভাবে সামনে এসেছে। বিগত সরকারের পতনের পর নানা মহলে এই প্রশ্ন উঠেছে যে, দীর্ঘ সময় ধরে দেশ শাসন করা নেতৃত্ব কীভাবে নিজেদের ভুল অনুধাবনে ব্যর্থ হয়েছিল। ইতিহাস বিশ্লেשণে দেখা যায়, জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা এবং আত্মকেন্দ্রিক মানসিকতার কারণে তৎকালীন সরকারপ্রধান ও তার সহযোগীরা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি। এর ফলে দেশে এক ধরনের ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার জন্ম হয়েছিল, যা শেষ পর্যন্ত বড় ধরনের সংকটের সৃষ্টি করে।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ব্রিটিশ আমল থেকেই এ অঞ্চলের রাজনীতিতে বাইরের শক্তির প্রভাব এবং বিভাজনের নীতি কার্যকর ছিল। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জোট সেই ধারা বজায় রেখে দেশ পরিচালনা করেছে, যা সাধারণ মানুষের প্রকৃত মুক্তি নিশ্চিত করতে পারেনি। বিশেষ করে বিগত শাসনামলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলে জনস্বার্থের পরিপন্থী বিভিন্ন নীতি বাস্তবায়ন করা হয়। বুয়েটের মেধাবী শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যার মতো মর্মান্তিক ঘটনাগুলো ধীরে ধীরে ছাত্র সমাজের সামনে সেই ব্যবস্থার আসল রূপ উন্মোচন করেছিল, যা পরবর্তী সময়ে বড় ধরনের গণঅভ্যুত্থানের পথ প্রশস্ত করে।

অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্র সংস্কারের নানা আলোচনা চললেও সুনির্দিষ্ট মতাদর্শ এবং ভবিষ্যৎ রূপরেখা নিয়ে এখনো কিছুটা অস্পষ্টতা রয়ে গেছে। দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর স্ব স্ব আদর্শ ও রাজনৈতিক এজেন্ডা থাকলেও রাষ্ট্রের মৌলিক নীতি ও সংবিধানের সংস্কারের বিষয়ে একটি জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তোলা জরুরি। অন্যথায় জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের মূল চেতনা এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষা পুরোপুরি বাস্তবায়িত হওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিশেষ করে রাষ্ট্রীয় দপ্তরগুলোর শীর্ষ পদে যারা দায়িত্ব পালন করবেন, তাদের মনন ও দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন না আসলে কেবল কাঠামোগত পরিবর্তনে কাঙ্ক্ষিত সুফল মিলবে না।

একটি সুশৃঙ্খল ও জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনে শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার এবং উপযুক্ত নাগরিক তৈরি করা সবচেয়ে বড় শর্ত। অতীতে পাঠ্যপুস্তকে ইতিহাস বিকৃতির মাধ্যমে এক ধরনের স্বার্থান্বেষী ও দেশবিমুখ জনগোষ্ঠী তৈরি করা হয়েছে, যা দেশের অগ্রযাত্রাকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করেছে। এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য অবিলম্বে একটি কার্যকর শিক্ষা কমিশন গঠন করা অপরিহার্য। পাশাপাশি রাজনৈতিক দলের সদস্য সংগ্রহ প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন এনে সুনাগরিকতার মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যাতে পুরনো ধ্যান-ধারণা ভেঙে একটি আধুনিক ও জনবান্ধব রাষ্ট্র গড়ে তোলা সম্ভব হয়।