ঢাকা , সোমবার, ০৯ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 1728311111

গোপালগঞ্জে পুলিশের উদ্যেগে মানসিক ভারসাম্যহীন যুবতী ও বৃদ্ধ নারীকে ফিরে পেলো পরিবার

গোপালগঞ্জ থানা পুলিশের উদ্যেগে পথ ভুলা একজন মানসিক ভারসাম্যহীন যুবতী ও একজন বৃদ্ধ মহিলা সহ  দুই নারীকে ফিরে পেয়েছে তাদের পরিবার।

গত শনিবার (১৯ নভেম্বর) দুপুরে স্থানীয় লোকজন আনুমানিক ২০ বছরের মানসিক ভারসাম্যহীন একজন মহিলাকে এক বছরের একটি মেয়ে শিশু বাচ্চা সহ থানায় নিয়ে আসে। স্থানীয় লোকজনদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে জানা যায়, মানসিক ভারসাম্যহীন মহিলা বেদগ্রাম হতে রিক্সায় যাওয়ার সময় তার পড়নের ওড়না রিক্সার চাকায় প্যাঁচিয়ে রাস্তায় পড়ে যায় এবং সামান্য আহত হয়।

 

এসময় স্থানীয় লোকজন তাকে গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা প্রদান করে। উক্ত মহিলা কোথায় থেকে কিভাবে গোপালগঞ্জ শহরে এসেছে এই বিষয়ে কিছুই বলতে পারছেন না।

 

এবিষয়ে গোপালগঞ্জ সদর থানায় জানানো হলে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আনিচুর রহমানের দিকনির্দেশনায় থানার নারী পুলিশ কৌশল ও আন্তরিকতার সাথে দীর্ঘ সময় ধরে মানসিক ভারসাম্যহীন মহিলাকে  জিজ্ঞাসা করে জানতে পারে তার নাম সোহানা, বয়স-১৯ বছর। তার সাথে থাকা শিশুটি তারই মেয়ে নাম রহিমা। এরপর পর্যায়ক্রমে সোহানা তার বাবার মোবাইল নাম্বার বলতে সক্ষম হয়।

 

থানার ডিউটি অফিসার সোহানার প্রদত্ত মোবাইল নাম্বারে ফোন করার পর সোহানার বাবা সোহেল শেখ থানায় আসেন। সোহেল শেখের সঠিক পরিচয় গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া উপজেলার বান্দাবাড়ি গ্ৰামে নিশ্চিত হওয়া ও ভারসাম্যহীন নারী ও তার শিশু কণ্যার বৈধ অভিভাবক হওয়ায় তার  জিম্মায় প্রদান করেন।

 

অপরদিকে সন্ধ্যার দিকে গোপালগঞ্জ সদর থানাধীন নিচুপাড়া এলাকা হতে আফরোজা বেগম নামের একজন নারী জাতীয় জরুরী সেবা ৯৯৯ এর মাধ্যমে থানায় সংবাদ দেন অনুমানিক ৯০ বছরের একজন বয়স্ক মহিলা তার বাসার দরজার সামনে বসে আছে। কিন্তু সেই নারী তার কোন নাম-ঠিকানা বলতে পারছেন না।

 

এসময় জরুরি ভিত্তিতে থানার ডিউটি অফিসার আফরোজা’কে উক্ত বয়স্ক মহিলাটিকে নিয়ে থানায় আসার জন্য অনুরোধ করেন থানা পুলিশ। আফরোজা বেগম বয়স্ক মহিলাকে থানায় আনার পর অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আনিচুর রহমান বৃদ্ধা আনারীকে জিজ্ঞাসা করে জানতে পারে, সে নিচুপাড়া তার ভাইয়ের বাসায় আসছিলেন। কিন্তু সে বাসা চিনতে পারছেন না, ভাইয়ের নামও বলতে পারতেছে না।

 

পরে আন্তরিকতার সাথে অফিসার ইনচার্জ বয়স্ক মহিলার বাড়ি ঠিকানা জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান তার বাড়ি বোড়াশী ইউনিয়নের ভেন্নাবাড়ি গ্ৰমে। উক্ত তথ্যের ভিত্তিতে অফিসার ইনচার্জ বোড়াশী ইউপি চেয়ারম্যানকে ফোন করে বৃদ্ধা নারীর দেওয়া বর্ণনা প্রদান করে সহযোগীতা করতে বলেন। চেয়ারম্যান স্থানীয় ইউপি সদস্য (মেম্বার) লিটনকে দায়িত্ব দেন। ইউপি সদস্য লিটন  বর্ণনা অনুযায়ী ওই নারীর মেয়ের সন্ধান পান। এরপর ইউপি সদস্য লিটনের সহযোগীতায় বৃদ্ধার মেয়ে জেসমিন বেগম থানায় আসেন। জেসমিন বেগমের সাথে আলাপ করে স্থায়ী ঠিকানা গোপালগঞ্জ সদর থানার ভেন্নাবাড়ি নিশ্চিত হওয়া ও হারিয়ে যাওয়া বৃদ্ধ মহিলা তার মা হওয়ায় তার জিম্মায় বুঝিয়ে দেয় গোপালগঞ্জ থানা পুলিশ।

উল্লেখ্য গোপালগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আনিচুর রহমান যোগদান করার পর থেকে একটির পর একটি মানবিক কাজ করে ইতিবাচক আলোচনার জন্ম দিয়েছেন।

 

 

এ বিষয়ে সময়ের প্রত্যশা পত্রিকার গোপালগঞ্জ ব্যুরো প্রধান সাংবাদিক মুন্সী সাদেকুর রহমান শাহীনের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, আমি যতগুলো থানায় চাকুরী করেছি, আন্তরিক ভাবে সাধারণ মানুষের সেবা করা সহ অর্পিত দায়িত্ব নিষ্ঠার সহিত পালন করেছি।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

তারল্যসংকটে থাকা ব্যাংকে চট্টগ্রাম বন্দরের আমানত, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ

error: Content is protected !!

গোপালগঞ্জে পুলিশের উদ্যেগে মানসিক ভারসাম্যহীন যুবতী ও বৃদ্ধ নারীকে ফিরে পেলো পরিবার

আপডেট টাইম : ১০:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ নভেম্বর ২০২৩
মুন্সী সাদেকুর রহমান শাহিন, গোপালগঞ্জ ব্যুরো প্রধান :

গোপালগঞ্জ থানা পুলিশের উদ্যেগে পথ ভুলা একজন মানসিক ভারসাম্যহীন যুবতী ও একজন বৃদ্ধ মহিলা সহ  দুই নারীকে ফিরে পেয়েছে তাদের পরিবার।

গত শনিবার (১৯ নভেম্বর) দুপুরে স্থানীয় লোকজন আনুমানিক ২০ বছরের মানসিক ভারসাম্যহীন একজন মহিলাকে এক বছরের একটি মেয়ে শিশু বাচ্চা সহ থানায় নিয়ে আসে। স্থানীয় লোকজনদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে জানা যায়, মানসিক ভারসাম্যহীন মহিলা বেদগ্রাম হতে রিক্সায় যাওয়ার সময় তার পড়নের ওড়না রিক্সার চাকায় প্যাঁচিয়ে রাস্তায় পড়ে যায় এবং সামান্য আহত হয়।

 

এসময় স্থানীয় লোকজন তাকে গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা প্রদান করে। উক্ত মহিলা কোথায় থেকে কিভাবে গোপালগঞ্জ শহরে এসেছে এই বিষয়ে কিছুই বলতে পারছেন না।

 

এবিষয়ে গোপালগঞ্জ সদর থানায় জানানো হলে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আনিচুর রহমানের দিকনির্দেশনায় থানার নারী পুলিশ কৌশল ও আন্তরিকতার সাথে দীর্ঘ সময় ধরে মানসিক ভারসাম্যহীন মহিলাকে  জিজ্ঞাসা করে জানতে পারে তার নাম সোহানা, বয়স-১৯ বছর। তার সাথে থাকা শিশুটি তারই মেয়ে নাম রহিমা। এরপর পর্যায়ক্রমে সোহানা তার বাবার মোবাইল নাম্বার বলতে সক্ষম হয়।

 

থানার ডিউটি অফিসার সোহানার প্রদত্ত মোবাইল নাম্বারে ফোন করার পর সোহানার বাবা সোহেল শেখ থানায় আসেন। সোহেল শেখের সঠিক পরিচয় গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া উপজেলার বান্দাবাড়ি গ্ৰামে নিশ্চিত হওয়া ও ভারসাম্যহীন নারী ও তার শিশু কণ্যার বৈধ অভিভাবক হওয়ায় তার  জিম্মায় প্রদান করেন।

 

অপরদিকে সন্ধ্যার দিকে গোপালগঞ্জ সদর থানাধীন নিচুপাড়া এলাকা হতে আফরোজা বেগম নামের একজন নারী জাতীয় জরুরী সেবা ৯৯৯ এর মাধ্যমে থানায় সংবাদ দেন অনুমানিক ৯০ বছরের একজন বয়স্ক মহিলা তার বাসার দরজার সামনে বসে আছে। কিন্তু সেই নারী তার কোন নাম-ঠিকানা বলতে পারছেন না।

 

এসময় জরুরি ভিত্তিতে থানার ডিউটি অফিসার আফরোজা’কে উক্ত বয়স্ক মহিলাটিকে নিয়ে থানায় আসার জন্য অনুরোধ করেন থানা পুলিশ। আফরোজা বেগম বয়স্ক মহিলাকে থানায় আনার পর অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আনিচুর রহমান বৃদ্ধা আনারীকে জিজ্ঞাসা করে জানতে পারে, সে নিচুপাড়া তার ভাইয়ের বাসায় আসছিলেন। কিন্তু সে বাসা চিনতে পারছেন না, ভাইয়ের নামও বলতে পারতেছে না।

 

পরে আন্তরিকতার সাথে অফিসার ইনচার্জ বয়স্ক মহিলার বাড়ি ঠিকানা জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান তার বাড়ি বোড়াশী ইউনিয়নের ভেন্নাবাড়ি গ্ৰমে। উক্ত তথ্যের ভিত্তিতে অফিসার ইনচার্জ বোড়াশী ইউপি চেয়ারম্যানকে ফোন করে বৃদ্ধা নারীর দেওয়া বর্ণনা প্রদান করে সহযোগীতা করতে বলেন। চেয়ারম্যান স্থানীয় ইউপি সদস্য (মেম্বার) লিটনকে দায়িত্ব দেন। ইউপি সদস্য লিটন  বর্ণনা অনুযায়ী ওই নারীর মেয়ের সন্ধান পান। এরপর ইউপি সদস্য লিটনের সহযোগীতায় বৃদ্ধার মেয়ে জেসমিন বেগম থানায় আসেন। জেসমিন বেগমের সাথে আলাপ করে স্থায়ী ঠিকানা গোপালগঞ্জ সদর থানার ভেন্নাবাড়ি নিশ্চিত হওয়া ও হারিয়ে যাওয়া বৃদ্ধ মহিলা তার মা হওয়ায় তার জিম্মায় বুঝিয়ে দেয় গোপালগঞ্জ থানা পুলিশ।

উল্লেখ্য গোপালগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আনিচুর রহমান যোগদান করার পর থেকে একটির পর একটি মানবিক কাজ করে ইতিবাচক আলোচনার জন্ম দিয়েছেন।

 

 

এ বিষয়ে সময়ের প্রত্যশা পত্রিকার গোপালগঞ্জ ব্যুরো প্রধান সাংবাদিক মুন্সী সাদেকুর রহমান শাহীনের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, আমি যতগুলো থানায় চাকুরী করেছি, আন্তরিক ভাবে সাধারণ মানুষের সেবা করা সহ অর্পিত দায়িত্ব নিষ্ঠার সহিত পালন করেছি।