ঢাকা , সোমবার, ০৯ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 1728311111

তারল্যসংকটে থাকা ব্যাংকে চট্টগ্রাম বন্দরের আমানত, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ

অর্থনীতি ডেস্ক: দেশের আর্থিক খাতের তীব্র তারল্য সংকটের মধ্যেই সংকটাপন্ন কয়েকটি ব্যাংকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বিশাল অঙ্কের অর্থ জমা রাখার ঘটনাটি নিয়ে গুরুতর আপত্তি উঠেছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে এই বিষয়টির ওপর তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করা হয় এবং এমন সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ খতিয়ে দেখার ওপর জোর দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বন্দর কর্তৃপক্ষের মতো একটি সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানের এমন বিপুল পরিমাণ অর্থ নিরাপদ স্থানে না রেখে ঝুঁকিপূর্ণ আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করাটা কতটা যৌক্তিক ছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কমিটির সদস্যরা।

সংসদীয় কমিটির পর্যালোচনা অনুযায়ী, বর্তমানে আর্থিক সংকটে ভুগছে এমন অন্তত ছয়টি বাণিজ্যিক ব্যাংকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের ১ হাজার ২০০ কোটি টাকারও বেশি আমানত গচ্ছিত রয়েছে। নিয়মনীতি ও প্রাতিষ্ঠানিক নিরাপত্তার তোয়াক্কা না করে এই ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগের কারণে বন্দর কর্তৃপক্ষের তহবিল নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। মূলত ওই ব্যাংকগুলোর বর্তমান আর্থিক অবস্থা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সতর্কতা সত্ত্বেও কেন এই আমানতগুলো সেখানে রাখা হলো, তা নিয়ে কড়া সমালোচনা করেন কমিটির সংসদ সদস্যরা।

বৈঠক শেষে সংসদীয় কমিটির পক্ষ থেকে এই আর্থিক অনিয়মের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জোরালো সুপারিশ করা হয়েছে। কমিটির মতে, সাধারণ আমানতকারীদের পাশাপাশি সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের তহবিল এভাবে ঝুঁকিতে ফেলার পেছনে যাদের অবহেলা বা অসৎ উদ্দেশ্য রয়েছে, তাদের ছাড় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। দ্রুত সময়ের মধ্যে দায়ীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে বন্দর কর্তৃপক্ষের এই আমানতগুলো নিরাপদে ফিরিয়ে আনার বিষয়েও বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। সংকটপূর্ণ ব্যাংকগুলো থেকে সরকারি এই অর্থ উদ্ধার করে অপেক্ষাকৃত স্থিতিশীল ও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে স্থানান্তরের জন্য একটি কার্যকর কর্মপরিকল্পনা তৈরি করতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে সরকারি কোনো সংস্থা যেন এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ আর্থিক সিদ্ধান্ত নিতে না পারে, সেজন্য তদারকি ব্যবস্থা আরও কঠোর করার তাগিদ দিয়েছে সংসদীয় কমিটি।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

Ishtiaque Ahmed

জনপ্রিয় সংবাদ

তারল্যসংকটে থাকা ব্যাংকে চট্টগ্রাম বন্দরের আমানত, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ

error: Content is protected !!

তারল্যসংকটে থাকা ব্যাংকে চট্টগ্রাম বন্দরের আমানত, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ

আপডেট টাইম : ১১ মিনিট আগে
সময়ের প্রত্যাশা ডেস্ক : :

অর্থনীতি ডেস্ক: দেশের আর্থিক খাতের তীব্র তারল্য সংকটের মধ্যেই সংকটাপন্ন কয়েকটি ব্যাংকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বিশাল অঙ্কের অর্থ জমা রাখার ঘটনাটি নিয়ে গুরুতর আপত্তি উঠেছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে এই বিষয়টির ওপর তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করা হয় এবং এমন সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ খতিয়ে দেখার ওপর জোর দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বন্দর কর্তৃপক্ষের মতো একটি সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানের এমন বিপুল পরিমাণ অর্থ নিরাপদ স্থানে না রেখে ঝুঁকিপূর্ণ আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করাটা কতটা যৌক্তিক ছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কমিটির সদস্যরা।

সংসদীয় কমিটির পর্যালোচনা অনুযায়ী, বর্তমানে আর্থিক সংকটে ভুগছে এমন অন্তত ছয়টি বাণিজ্যিক ব্যাংকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের ১ হাজার ২০০ কোটি টাকারও বেশি আমানত গচ্ছিত রয়েছে। নিয়মনীতি ও প্রাতিষ্ঠানিক নিরাপত্তার তোয়াক্কা না করে এই ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগের কারণে বন্দর কর্তৃপক্ষের তহবিল নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। মূলত ওই ব্যাংকগুলোর বর্তমান আর্থিক অবস্থা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সতর্কতা সত্ত্বেও কেন এই আমানতগুলো সেখানে রাখা হলো, তা নিয়ে কড়া সমালোচনা করেন কমিটির সংসদ সদস্যরা।

বৈঠক শেষে সংসদীয় কমিটির পক্ষ থেকে এই আর্থিক অনিয়মের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জোরালো সুপারিশ করা হয়েছে। কমিটির মতে, সাধারণ আমানতকারীদের পাশাপাশি সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের তহবিল এভাবে ঝুঁকিতে ফেলার পেছনে যাদের অবহেলা বা অসৎ উদ্দেশ্য রয়েছে, তাদের ছাড় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। দ্রুত সময়ের মধ্যে দায়ীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে বন্দর কর্তৃপক্ষের এই আমানতগুলো নিরাপদে ফিরিয়ে আনার বিষয়েও বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। সংকটপূর্ণ ব্যাংকগুলো থেকে সরকারি এই অর্থ উদ্ধার করে অপেক্ষাকৃত স্থিতিশীল ও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে স্থানান্তরের জন্য একটি কার্যকর কর্মপরিকল্পনা তৈরি করতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে সরকারি কোনো সংস্থা যেন এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ আর্থিক সিদ্ধান্ত নিতে না পারে, সেজন্য তদারকি ব্যবস্থা আরও কঠোর করার তাগিদ দিয়েছে সংসদীয় কমিটি।