ঢাকা , রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 1728311111

অগ্রণী ব্যাংকে টাকা রেখে এখন হিসাবের অস্তিত্ব পাচ্ছেন না ৩১৫ গ্রাহক

অর্থনীতি ডেস্ক: রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক অগ্রণী ব্যাংকের একটি শাখায় ভয়াবহ আর্থিক অনিয়মের ঘটনায় চরম বিপাকে পড়েছেন শত শত গ্রাহক। ব্যাংকটির মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর শাখায় হিসাবের বিপরীতে জমা রাখা প্রায় ত্রিশ কোটি টাকা আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে ব্যাংকটির কিছু অসাধু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। নিয়ম মেনে অর্থ জমা দিলেও ব্যাংক ব্যবস্থার ভেতরে এখন ওইসব হিসাবের কোনো অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে সঞ্চয়ের টাকা তুলতে না পেরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন সাধারণ আমানতকারীরা।

এই বিশাল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ ও ব্যাংক খাতের নজিরবিহীন জালিয়াতির ঘটনার প্রতিবাদে রাজধানীর মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগী গ্রাহকরা। ভুক্তভোগী গ্রাহক ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা তাদের কষ্টার্জিত অর্থ উদ্ধার ও অপরাধীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দপ্তরে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়ে এই সংকট নিরসনের আকুতি জানিয়েছেন তারা।

আন্দোলনকারী গ্রাহকদের ভাষ্য অনুযায়ী, তারা ব্যাংকে টাকা জমা দেওয়ার সময় মুঠোফোনে নিশ্চিতকরণের বার্তা পেলেও পরবর্তীতে ব্যাংক হিসাবের অস্তিত্ব অস্বীকার করা হচ্ছে। কেউ কেউ দীর্ঘদিনের কষ্টার্জিত সঞ্চয়, পেনশনের অর্থ কিংবা ব্যবসার মূলধন এই ব্যাংকে রেখেছিলেন। কিন্তু বর্তমানে ব্যাংক কর্মকর্তাদের অসহযোগিতা ও টালবাহানায় গ্রাহকরা সম্পূর্ণ নিঃস্ব হওয়ার উপক্রম হয়েছেন। সরকারি একটি ব্যাংকে সাধারণ মানুষের এমন বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে সংঘটিত এই অপরাধ পুরো ব্যাংকিং খাতের ওপর জনগণের আস্থাকে বড় ধরনের ঝুঁকিতে ফেলে দিয়েছে।

মানববন্ধন থেকে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সাত দফা দাবি তুলে ধরেছেন ক্ষতিগ্রস্তরা, যার মধ্যে রয়েছে একটি উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন এবং জালিয়াতির সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি। এদিকে ব্যাংকটির শীর্ষ পর্যায় থেকে জানানো হয়েছে যে, এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি নিয়ে ইতিমধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশন বা দুদক তদন্ত পরিচালনা করে মামলা দায়ের করেছে এবং বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া এবং অর্থ জমা হওয়ার সত্যতা যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহক তাদের পাওনা টাকা ফেরত পাবেন বলে ব্যাংকের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

Ishtiaque Ahmed

জনপ্রিয় সংবাদ

অগ্রণী ব্যাংকে টাকা রেখে এখন হিসাবের অস্তিত্ব পাচ্ছেন না ৩১৫ গ্রাহক

error: Content is protected !!

অগ্রণী ব্যাংকে টাকা রেখে এখন হিসাবের অস্তিত্ব পাচ্ছেন না ৩১৫ গ্রাহক

আপডেট টাইম : ৯ মিনিট আগে
সময়ের প্রত্যাশা ডেস্ক : :

অর্থনীতি ডেস্ক: রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক অগ্রণী ব্যাংকের একটি শাখায় ভয়াবহ আর্থিক অনিয়মের ঘটনায় চরম বিপাকে পড়েছেন শত শত গ্রাহক। ব্যাংকটির মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর শাখায় হিসাবের বিপরীতে জমা রাখা প্রায় ত্রিশ কোটি টাকা আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে ব্যাংকটির কিছু অসাধু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। নিয়ম মেনে অর্থ জমা দিলেও ব্যাংক ব্যবস্থার ভেতরে এখন ওইসব হিসাবের কোনো অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে সঞ্চয়ের টাকা তুলতে না পেরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন সাধারণ আমানতকারীরা।

এই বিশাল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ ও ব্যাংক খাতের নজিরবিহীন জালিয়াতির ঘটনার প্রতিবাদে রাজধানীর মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগী গ্রাহকরা। ভুক্তভোগী গ্রাহক ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা তাদের কষ্টার্জিত অর্থ উদ্ধার ও অপরাধীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দপ্তরে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়ে এই সংকট নিরসনের আকুতি জানিয়েছেন তারা।

আন্দোলনকারী গ্রাহকদের ভাষ্য অনুযায়ী, তারা ব্যাংকে টাকা জমা দেওয়ার সময় মুঠোফোনে নিশ্চিতকরণের বার্তা পেলেও পরবর্তীতে ব্যাংক হিসাবের অস্তিত্ব অস্বীকার করা হচ্ছে। কেউ কেউ দীর্ঘদিনের কষ্টার্জিত সঞ্চয়, পেনশনের অর্থ কিংবা ব্যবসার মূলধন এই ব্যাংকে রেখেছিলেন। কিন্তু বর্তমানে ব্যাংক কর্মকর্তাদের অসহযোগিতা ও টালবাহানায় গ্রাহকরা সম্পূর্ণ নিঃস্ব হওয়ার উপক্রম হয়েছেন। সরকারি একটি ব্যাংকে সাধারণ মানুষের এমন বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে সংঘটিত এই অপরাধ পুরো ব্যাংকিং খাতের ওপর জনগণের আস্থাকে বড় ধরনের ঝুঁকিতে ফেলে দিয়েছে।

মানববন্ধন থেকে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সাত দফা দাবি তুলে ধরেছেন ক্ষতিগ্রস্তরা, যার মধ্যে রয়েছে একটি উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন এবং জালিয়াতির সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি। এদিকে ব্যাংকটির শীর্ষ পর্যায় থেকে জানানো হয়েছে যে, এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি নিয়ে ইতিমধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশন বা দুদক তদন্ত পরিচালনা করে মামলা দায়ের করেছে এবং বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া এবং অর্থ জমা হওয়ার সত্যতা যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহক তাদের পাওনা টাকা ফেরত পাবেন বলে ব্যাংকের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে।