আলিফ হোসেন, তানোর (রাজশাহী): জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে রাজশাহীর তানোর উপজেলার সরনজাই ইউনিয়নে (ইউপি) আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়াও একই মঞ্চে সাবেক দুই নেতার মৃত্যুতে দোয়া মাহফিল করা হয়েছে।
জানা গেছে, রোববার (৮ নভেম্বর) সরনজাই ইউনিয়ন (ইউপি) বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে এবং ইউপি চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক খানের সঞ্চালনায় ও উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আখেরুজ্জামান হান্নানের সভাপতিত্বে ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও নেসকোর চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) শরীফ উদ্দীন।
প্রধান অতিথি বলেন, ১৯৭৫ সালে ৭ নভেম্বর সিপাহি জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে মুক্ত করেন। তিনি মুক্ত হয়ে দেশ গঠনে নিজেকে বিলিয়ে দেন। বহুদলীয় গণতন্ত্রসহ দেশ এগিয়ে নিতে কাজ শুরু করেন। তিনি বলেন, বিপ্লব সংহতি দিবস পালন করলেই হবে না। সেখান থেকে শিক্ষা নিয়ে ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। আগামীতে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আছে। নির্বাচনে বিজয়ী হতে হলে ঐক্যের বিকল্প নেই। এখন ১০ জন ১৫ জন প্রার্থী থাকলে সমস্যা নেই। কিন্তু দল যখন কাউকে মনোনয়ন দেবে তার হয়ে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, দেশ পরিচালনায় বিএনপির যেমন কোনো বিকল্প নাই, তেমনি রাজনৈতিক লক্ষ্যে পৌঁছাতে এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে ঐক্যবদ্ধ বিএনপির কোনো বিকল্প নাই।
তিনি বলেন, বিএনপি দেশের সর্ববৃহৎ গণতান্ত্রিক ও জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল এবং বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক। দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে বিএনপির কমপক্ষে ১০ জন প্রার্থী আছেন যারা মনোনয়ন পাওয়ার দাবি রাখেন। কিন্তু মনোনয়ন তো পাবেন একজন।
তিনি বলেন, যারা মনোনয়ন পাবেন এবং যারা পাবেন না তারা সবাই বিএনপির একেকজন কর্মী। ফলে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে দলের (সমর্থিত প্রার্থী) ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে চাই।
তিনি বলেন, দলের নেতা ও কর্মী-সমর্থকদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মাঝে পৌঁছে দিতে হবে বিএনপি তথা শহীদ জিয়ার রাজনৈতিক দর্শন। মুখে কেবল শহীদ জিয়ার স্বপ্নের কথা বললেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। বিএনপির রাজনৈতিক দর্শন কী, অর্থনৈতিক কর্মসূচি তথা উৎপাদন, উন্নয়ন, বিনিয়োগ-কর্মসংস্থান এবং আধিপত্যবাদ-সম্প্রসারণবাদ কী ও তার ক্ষতির দিকগুলো সম্পর্কে স্পষ্ট বক্তব্য থাকতে হবে। তিনি আরও বলেন, আমরা যে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আপসহীন সে বিষয়টি সব নেতাকর্মীদের হৃদয়ে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তা ছড়িয়ে দিতে হবে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মাঝে। মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কাছ থেকে আমরা কী পেয়েছি। তিনি বলেন, আমরা কেন বিএনপি করি, অন্যদলের সঙ্গে বিএনপির পার্থক্য কী, মানুষ কেন বিএনপিকে ভালোবাসে ও সমর্থন করে— এসব বিষয়ে তৃণমূল পর্যায় থেকে শুরু করে সব নেতাকর্মীদের মাঝে সুস্পষ্ট ধারণা তথা দিকনির্দেশনা থাকতে হবে। তাহলে তারা দলের প্রতি আরও বেশি নিবেদিত হয়ে কাজ করতে পারবেন। তিনি দলের সব নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আগামীতে সব নির্বাচনে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি প্রয়াত মফিজ উদ্দীন ও মুনসুর রহমানকে স্মরণ করে তাদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
অন্যান্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন তানোর পৌর বিএনপির আহ্বায়ক একরাম আলী মোল্লা, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হযরত আলী মাস্টার, পাঁচন্দর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান মমিনুল হক মমিন, বাঁধাইড় ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান হেনা, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা সুলতান আহমেদ, পাঁচন্দর ইউপি বিএনপির সভাপতি সহকারী অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক গোলাম মর্তুজা, সদস্য সচিব শরীফ উদ্দীন মুন্সী, সরনজাই ইউপি বিএনপির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান, কলমা ইউপি বিএনপির সম্পাদক মানিরুল ইসলাম, মুন্ডুমালা পৌর বিএনপির সাবেক সম্পাদক তৌহিদুর রহমান রেজা, ফিরোজ কবির, সাবেক কাউন্সিলর সাইদুর রহমান ও মুঞ্জুর রহমান, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আব্দুল মালেক মন্ডল, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এমদাদ মন্ডল, রায়হানুল হক রায়হান, জেলা যুবদলের সদস্য জাহাঙ্গীর আলম, মাহফুজুর রহমান, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মোতালেব হোসেন, আহসান হাবিব সরকার নান্নু, সারোয়ার হোসেন সজিব, সজল ও রঞ্জু আহম্মেদ প্রমুখ। এছাড়া ইউপি বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন 
সময়ের প্রত্যাশা ডেস্ক : 





















