ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

গুজবে কান দিয়ে মুন্নুর মানবিক সহায়তা প্রদান

সাহিদা পারভীনঃ

 

কারো মানবিক সহয়তা প্রদানের জন্য তার মানবিক গুনাবলী ভালো করে যাচাই বাছাই করা দরকার। কারো ছোটখাটো মানবিক কাজকেও ম্লান করে দিতে পারে তার বড় কোন অমানবিক কর্মে। এসব খোজ না নিয়েই এক অমানবিক কর্মজজ্ঞ করা ব্যক্তিকে মানবিক কর্মের পুরস্কার দিয়েছে রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মেজবাহ উদ্দিন। মূলত ভাইরাল যোগে ভাইরাল হওয়াটাই এই সহায়তা প্রদানের লক্ষ।

 

ঘটনাটা কালুখালী রেলওয়ে ষ্টেশন কেন্দ্রীক। এখানকার এক মুন্নু। বেশ কিছুদিন ধরে পানি পান করায় রেলওয়ে ভ্রমন করা যাত্রীদের।এঘটনা লম্বা সুতায় বেঁধে প্রচার শুরু করে কতিপয় গুজব ছড়ানো ফেজবুক।তারপর বিভিন্ন পত্রপত্রিকা,টেলিভিশন। এ নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকার সম্পাদকরাও চাপে রেখেছে তাদের জেলা প্রতিনিধিদের। সবাই আসছে আর নাটক সাজিয়ে প্রচার করছে বেশ। এসব দেখে বেশ মানবিক হয়ে উঠেছে কালুখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মেজবাহ উদ্দিন। তিনি ভাইরাল মুন্নুর সাথে নিজেকে ভাইরাল করতে ১০ হাজার টাকার মানবিক সহায়তা প্রদান করেছেন। তিনি মঙ্গলবা মুন্নকে নিজ কার্যালয়ে ডেকে এই টাকা প্রদান করেন। একবারও খোজ নেয়নি মুন্নুর অমানবিক কাজের।

 

চটপিট বিক্রেতা মুন্নু। তার আরো দুটি ভাই আছে।স্বপন ও মনিরুল।তাদের বাবার নাম মোবারক শেখ।মায়ের নাম দুলি বেগম(৮০)। বাড়ীর কালুখালী উপজেলার রতনদিয়া গ্রামে।
৩০ বছর আগে নাবালক সন্তানদের রেখে মারা যায় মোবারক। এক নিদারুন কষ্টে দিন চলে দুলি বেগমের। বিভিন্ন মানুষের বাড়ী ঝিয়ের কাজ করে দুমুঠো ভাত জোগান ৩ সন্তানের। এভাবেই মায়ের মানবিক চেষ্টায় মুন্নু সহ ৩ ভাই বড় হয়।

 

কর্মক্ষম হলে ৩ ভাইই বেঁকে বসে।তারা মায়ের দেখাশোনার দায়িত্ব না নিয়ে যার যার মতো পৃথক হয়ে যায়। পৃথক হবার সময় মায়ের নামে ৫ শতাংশ জমি ছিলো।তাও ৩ ভাই দেড় শতাংশ করে ভাগ করে নেয়। আধা শতাংশ জমিতে এক কুড়ে ঘর তুলে তাতেই বসতি গড়ে হতভাগা দুলি। মায়ের সেই জমিতে ছেলেরা গড়ে তোলে পাকা বিল্ডিং। পাশাপাশি বসবাসের এই বাড়ীতে মুন্নুদের আলিসান জীবন।
মা দুলি বেগমের কুড়ে ঘরে ভাত জোটে এলাকার বিত্তবানদের দান আর বিধবা ভাতার টাকায়।

 

এমন অমানবিক কর্মজজ্ঞ সাধনের পর পানি দান। জুতা মেরে গরু দানের চেয়ে কম কিসে। তারপরও ১০ হাজার টাকার মানবিক সহায়তা। এটাই হয়তো সরকারী অর্থের সঠিক ব্যবহার।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

কুড়িগ্রাম যাত্রাপুর ইউনিয়নে এনসিপির আহ্বায়ক কমিটি গঠন উপলক্ষে বর্ধিত সভা

error: Content is protected !!

গুজবে কান দিয়ে মুন্নুর মানবিক সহায়তা প্রদান

আপডেট টাইম : ১২ ঘন্টা আগে
সাহিদা পারভীন, কালুখালী (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি :

সাহিদা পারভীনঃ

 

কারো মানবিক সহয়তা প্রদানের জন্য তার মানবিক গুনাবলী ভালো করে যাচাই বাছাই করা দরকার। কারো ছোটখাটো মানবিক কাজকেও ম্লান করে দিতে পারে তার বড় কোন অমানবিক কর্মে। এসব খোজ না নিয়েই এক অমানবিক কর্মজজ্ঞ করা ব্যক্তিকে মানবিক কর্মের পুরস্কার দিয়েছে রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মেজবাহ উদ্দিন। মূলত ভাইরাল যোগে ভাইরাল হওয়াটাই এই সহায়তা প্রদানের লক্ষ।

 

ঘটনাটা কালুখালী রেলওয়ে ষ্টেশন কেন্দ্রীক। এখানকার এক মুন্নু। বেশ কিছুদিন ধরে পানি পান করায় রেলওয়ে ভ্রমন করা যাত্রীদের।এঘটনা লম্বা সুতায় বেঁধে প্রচার শুরু করে কতিপয় গুজব ছড়ানো ফেজবুক।তারপর বিভিন্ন পত্রপত্রিকা,টেলিভিশন। এ নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকার সম্পাদকরাও চাপে রেখেছে তাদের জেলা প্রতিনিধিদের। সবাই আসছে আর নাটক সাজিয়ে প্রচার করছে বেশ। এসব দেখে বেশ মানবিক হয়ে উঠেছে কালুখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মেজবাহ উদ্দিন। তিনি ভাইরাল মুন্নুর সাথে নিজেকে ভাইরাল করতে ১০ হাজার টাকার মানবিক সহায়তা প্রদান করেছেন। তিনি মঙ্গলবা মুন্নকে নিজ কার্যালয়ে ডেকে এই টাকা প্রদান করেন। একবারও খোজ নেয়নি মুন্নুর অমানবিক কাজের।

 

চটপিট বিক্রেতা মুন্নু। তার আরো দুটি ভাই আছে।স্বপন ও মনিরুল।তাদের বাবার নাম মোবারক শেখ।মায়ের নাম দুলি বেগম(৮০)। বাড়ীর কালুখালী উপজেলার রতনদিয়া গ্রামে।
৩০ বছর আগে নাবালক সন্তানদের রেখে মারা যায় মোবারক। এক নিদারুন কষ্টে দিন চলে দুলি বেগমের। বিভিন্ন মানুষের বাড়ী ঝিয়ের কাজ করে দুমুঠো ভাত জোগান ৩ সন্তানের। এভাবেই মায়ের মানবিক চেষ্টায় মুন্নু সহ ৩ ভাই বড় হয়।

 

কর্মক্ষম হলে ৩ ভাইই বেঁকে বসে।তারা মায়ের দেখাশোনার দায়িত্ব না নিয়ে যার যার মতো পৃথক হয়ে যায়। পৃথক হবার সময় মায়ের নামে ৫ শতাংশ জমি ছিলো।তাও ৩ ভাই দেড় শতাংশ করে ভাগ করে নেয়। আধা শতাংশ জমিতে এক কুড়ে ঘর তুলে তাতেই বসতি গড়ে হতভাগা দুলি। মায়ের সেই জমিতে ছেলেরা গড়ে তোলে পাকা বিল্ডিং। পাশাপাশি বসবাসের এই বাড়ীতে মুন্নুদের আলিসান জীবন।
মা দুলি বেগমের কুড়ে ঘরে ভাত জোটে এলাকার বিত্তবানদের দান আর বিধবা ভাতার টাকায়।

 

এমন অমানবিক কর্মজজ্ঞ সাধনের পর পানি দান। জুতা মেরে গরু দানের চেয়ে কম কিসে। তারপরও ১০ হাজার টাকার মানবিক সহায়তা। এটাই হয়তো সরকারী অর্থের সঠিক ব্যবহার।