ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 1728311111

কোরআনের কিছু আয়াত আল্লাহ কেন রহিত করেছেন

ধর্ম ডেস্ক: পবিত্র কুরআনের কিছু বিধান বা আয়াতের কার্যকারিতা পরবর্তী সময়ে নতুন ওহির মাধ্যমে পরিবর্তনের বিষয়টি ইসলামি শরিয়তের ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি বিষয়। ইসলামি পরিভাষায় এই প্রক্রিয়াকে ‘নাসখ’ বা বিধান রহিতকরণ বলা হয়ে থাকে। অতীতে কার্যকর থাকা কোনো নির্দিষ্ট হুকুমের স্থলে নতুন কোনো বিধান প্রবর্তন করার পেছনে স্রষ্টার অসীম প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতা কাজ করেছে। সময়ের চাহিদা এবং মানবজাতির কল্যাণের কথা বিবেচনা করেই মূলত এই পরিবর্তন আনা হয়েছিল।

কুরআনের ইতিহাস ও তাফসির গ্রন্থ পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ইসলামের সূচনালগ্নে আরব সমাজের বাস্তবতা এবং মুসলিম উম্মাহর মানসিক ও সামাজিক প্রস্তুতির ওপর ভিত্তি করে অনেক বিধান নাজিল করা হয়েছিল। পরবর্তীতে সমাজের অগ্রযাত্রা এবং পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আগের সেই বিধানগুলোর কার্যকারিতা শেষ হয়ে যায় এবং নতুন নির্দেশ আসে। এই পরিবর্তন কোনো কাকতালীয় বিষয় ছিল না, বরং এটি ছিল মানুষের জন্য জীবনযাপন আরও সহজ ও বাস্তবসম্মত করার একটি সুদূরপ্রসারী আল্লাহর পরিকল্পনা।

ইসলামি চিন্তাবিদ ও মুফাসসিরদের মতে, নাসখের বিষয়টি ওহিভিত্তিক এবং এটি একমাত্র মহান আল্লাহর পক্ষ থেকেই নির্ধারিত হয়েছে। কোনো মানুষের ইচ্ছায় বা প্রয়োজনের তাগিদে কুরআনের আয়াত পরিবর্তন করার কোনো সুযোগ ছিল না। পূর্ববর্তী বিধান তুলে নিয়ে নতুন বিধান সংযোজন করার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা বান্দার উপযোগিতা এবং সময়ের প্রকৃত চাহিদাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন। এর ফলে শরিয়তের বিধানগুলো সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়ে ওঠে এবং মানুষের পালন করা সহজ হয়।

বিধান রহিতকরণের এই প্রক্রিয়াটি মুসলিম উম্মাহর জন্য ঐশ্বরিক নিয়মের এক অনন্য নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে, ইসলামি জীবনব্যবস্থা সম্পূর্ণ গতিশীল এবং যুগোপযোগী। বিধান পরিবর্তনের এই অন্তর্নিহিত দর্শন বুঝতে পারলে কুরআনের নির্দেশনার প্রতি মানুষের বিশ্বাস ও সমঝদারি আরও সুদৃঢ় হয়। যুগে যুগে আলেম ও গবেষকরা এই রহিতকরণের বিধানগুলো নিয়ে গবেষণা করে এর রহস্য উন্মোচন করার চেষ্টা করেছেন।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

Ishtiaque Ahmed

জনপ্রিয় সংবাদ

ম্যাচের আগে কার সঙ্গে দেখা করলেন মেসি

error: Content is protected !!

কোরআনের কিছু আয়াত আল্লাহ কেন রহিত করেছেন

আপডেট টাইম : ১৩ ঘন্টা আগে
সময়ের প্রত্যাশা ডেস্ক : :

ধর্ম ডেস্ক: পবিত্র কুরআনের কিছু বিধান বা আয়াতের কার্যকারিতা পরবর্তী সময়ে নতুন ওহির মাধ্যমে পরিবর্তনের বিষয়টি ইসলামি শরিয়তের ইতিহাসে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি বিষয়। ইসলামি পরিভাষায় এই প্রক্রিয়াকে ‘নাসখ’ বা বিধান রহিতকরণ বলা হয়ে থাকে। অতীতে কার্যকর থাকা কোনো নির্দিষ্ট হুকুমের স্থলে নতুন কোনো বিধান প্রবর্তন করার পেছনে স্রষ্টার অসীম প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতা কাজ করেছে। সময়ের চাহিদা এবং মানবজাতির কল্যাণের কথা বিবেচনা করেই মূলত এই পরিবর্তন আনা হয়েছিল।

কুরআনের ইতিহাস ও তাফসির গ্রন্থ পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ইসলামের সূচনালগ্নে আরব সমাজের বাস্তবতা এবং মুসলিম উম্মাহর মানসিক ও সামাজিক প্রস্তুতির ওপর ভিত্তি করে অনেক বিধান নাজিল করা হয়েছিল। পরবর্তীতে সমাজের অগ্রযাত্রা এবং পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আগের সেই বিধানগুলোর কার্যকারিতা শেষ হয়ে যায় এবং নতুন নির্দেশ আসে। এই পরিবর্তন কোনো কাকতালীয় বিষয় ছিল না, বরং এটি ছিল মানুষের জন্য জীবনযাপন আরও সহজ ও বাস্তবসম্মত করার একটি সুদূরপ্রসারী আল্লাহর পরিকল্পনা।

ইসলামি চিন্তাবিদ ও মুফাসসিরদের মতে, নাসখের বিষয়টি ওহিভিত্তিক এবং এটি একমাত্র মহান আল্লাহর পক্ষ থেকেই নির্ধারিত হয়েছে। কোনো মানুষের ইচ্ছায় বা প্রয়োজনের তাগিদে কুরআনের আয়াত পরিবর্তন করার কোনো সুযোগ ছিল না। পূর্ববর্তী বিধান তুলে নিয়ে নতুন বিধান সংযোজন করার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা বান্দার উপযোগিতা এবং সময়ের প্রকৃত চাহিদাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন। এর ফলে শরিয়তের বিধানগুলো সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়ে ওঠে এবং মানুষের পালন করা সহজ হয়।

বিধান রহিতকরণের এই প্রক্রিয়াটি মুসলিম উম্মাহর জন্য ঐশ্বরিক নিয়মের এক অনন্য নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে, ইসলামি জীবনব্যবস্থা সম্পূর্ণ গতিশীল এবং যুগোপযোগী। বিধান পরিবর্তনের এই অন্তর্নিহিত দর্শন বুঝতে পারলে কুরআনের নির্দেশনার প্রতি মানুষের বিশ্বাস ও সমঝদারি আরও সুদৃঢ় হয়। যুগে যুগে আলেম ও গবেষকরা এই রহিতকরণের বিধানগুলো নিয়ে গবেষণা করে এর রহস্য উন্মোচন করার চেষ্টা করেছেন।