ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 1728311111

কুষ্টিয়ায় প্রাইভেট ক্লিনিকে সিজারের পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তরুণী প্রসূতির মৃত্যু

ইসমাইল হোসেন বাবুঃ

 

কুষ্টিয়া শহরের পূর্ব মজমপুর এলাকার শাওন হেলথ সেন্টারে সিজারিয়ান অপারেশনের পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ২০ বছর বয়সী প্রসূতি সুমি খাতুনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহত সুমি কুষ্টিয়া সদর উপজেলার দহকুলা কারিগরপাড়া গ্রামের আবু সাইদের স্ত্রী। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে তার অপারেশন সম্পন্ন হয়। অপারেশনের পর নবজাতক সুস্থ থাকলেও সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সুমি খাতুন মারা যান।

 

নিহতের স্বজনরা অভিযোগ করেছেন, অপারেশনের আগে রক্তের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে তাদের কিছুই জানানো হয়নি। হঠাৎ করে রক্তের প্রয়োজন দেখা দিলে তা সংগ্রহে বিলম্ব হয়, যার কারণে রোগীর মৃত্যু ঘটে। তারা আরও জানান, রুপালী নামে এক দালালের মাধ্যমে সুমিকে এই ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছিল। মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বজনরা হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই ভয়ে ক্লিনিকের মালিকসহ বেশিরভাগ কর্মচারী পালিয়ে যান। সেখানে শুধু একজন নার্স ও আয়া ছিলেন। তারা প্রথমে কোনো ডাক্তারের নাম প্রকাশ করতে চাননি। পরে অভিযুক্ত ডাক্তার ইয়ামিন ইসলাম প্রান্তের নাম বললেও অ্যানেস্থেসিয়া (অজ্ঞান) করা ডাক্তারের নাম গোপন রাখেন। মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে অভিযুক্ত চিকিৎসক ইয়ামিন ইসলাম প্রান্ত জানান, তিনি এই অপারেশন করেননি এবং সারাদিন ওই ক্লিনিকেও যাননি।

 

স্বজনরা এ মৃত্যুকে চিকিৎসায় চরম গাফিলতির ফল বলে দাবি করে সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানিয়েছেন। প্রাইভেট ক্লিনিকে রোগীদের নিরাপত্তা ও জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তবে এ সংবাদ লেখা পর্যন্ত এ বিষয়ে থানায় কোনো মামলা বা লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি।

 

তবে স্বজনদের পক্ষ থেকে জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে ঘটনা জানিয়ে আইনি সহায়তা চাওয়া হলে কুষ্টিয়া সদর থানার উপ-পরিদর্শক ফজলুর রহমান ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তিনি জানান, অভিযোগ পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে এসে খোঁজখবর নিয়েছেন এবং মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছেন। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলে যথোপযুক্ত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

‘বাধা উপেক্ষা করে’ আমির হামজার তাফসির মাহফিল সম্পন্ন

error: Content is protected !!

কুষ্টিয়ায় প্রাইভেট ক্লিনিকে সিজারের পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তরুণী প্রসূতির মৃত্যু

আপডেট টাইম : ১২:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬
ইসমাইল হোসেন বাবু, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার :

ইসমাইল হোসেন বাবুঃ

 

কুষ্টিয়া শহরের পূর্ব মজমপুর এলাকার শাওন হেলথ সেন্টারে সিজারিয়ান অপারেশনের পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ২০ বছর বয়সী প্রসূতি সুমি খাতুনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহত সুমি কুষ্টিয়া সদর উপজেলার দহকুলা কারিগরপাড়া গ্রামের আবু সাইদের স্ত্রী। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে তার অপারেশন সম্পন্ন হয়। অপারেশনের পর নবজাতক সুস্থ থাকলেও সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সুমি খাতুন মারা যান।

 

নিহতের স্বজনরা অভিযোগ করেছেন, অপারেশনের আগে রক্তের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে তাদের কিছুই জানানো হয়নি। হঠাৎ করে রক্তের প্রয়োজন দেখা দিলে তা সংগ্রহে বিলম্ব হয়, যার কারণে রোগীর মৃত্যু ঘটে। তারা আরও জানান, রুপালী নামে এক দালালের মাধ্যমে সুমিকে এই ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছিল। মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বজনরা হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই ভয়ে ক্লিনিকের মালিকসহ বেশিরভাগ কর্মচারী পালিয়ে যান। সেখানে শুধু একজন নার্স ও আয়া ছিলেন। তারা প্রথমে কোনো ডাক্তারের নাম প্রকাশ করতে চাননি। পরে অভিযুক্ত ডাক্তার ইয়ামিন ইসলাম প্রান্তের নাম বললেও অ্যানেস্থেসিয়া (অজ্ঞান) করা ডাক্তারের নাম গোপন রাখেন। মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে অভিযুক্ত চিকিৎসক ইয়ামিন ইসলাম প্রান্ত জানান, তিনি এই অপারেশন করেননি এবং সারাদিন ওই ক্লিনিকেও যাননি।

 

স্বজনরা এ মৃত্যুকে চিকিৎসায় চরম গাফিলতির ফল বলে দাবি করে সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানিয়েছেন। প্রাইভেট ক্লিনিকে রোগীদের নিরাপত্তা ও জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তবে এ সংবাদ লেখা পর্যন্ত এ বিষয়ে থানায় কোনো মামলা বা লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি।

 

তবে স্বজনদের পক্ষ থেকে জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে ঘটনা জানিয়ে আইনি সহায়তা চাওয়া হলে কুষ্টিয়া সদর থানার উপ-পরিদর্শক ফজলুর রহমান ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তিনি জানান, অভিযোগ পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে এসে খোঁজখবর নিয়েছেন এবং মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছেন। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলে যথোপযুক্ত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।