ইসমাইল হোসেন বাবুঃ

 

কুষ্টিয়া শহরের পূর্ব মজমপুর এলাকার শাওন হেলথ সেন্টারে সিজারিয়ান অপারেশনের পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ২০ বছর বয়সী প্রসূতি সুমি খাতুনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহত সুমি কুষ্টিয়া সদর উপজেলার দহকুলা কারিগরপাড়া গ্রামের আবু সাইদের স্ত্রী। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে তার অপারেশন সম্পন্ন হয়। অপারেশনের পর নবজাতক সুস্থ থাকলেও সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সুমি খাতুন মারা যান।

 

নিহতের স্বজনরা অভিযোগ করেছেন, অপারেশনের আগে রক্তের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে তাদের কিছুই জানানো হয়নি। হঠাৎ করে রক্তের প্রয়োজন দেখা দিলে তা সংগ্রহে বিলম্ব হয়, যার কারণে রোগীর মৃত্যু ঘটে। তারা আরও জানান, রুপালী নামে এক দালালের মাধ্যমে সুমিকে এই ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছিল। মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বজনরা হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই ভয়ে ক্লিনিকের মালিকসহ বেশিরভাগ কর্মচারী পালিয়ে যান। সেখানে শুধু একজন নার্স ও আয়া ছিলেন। তারা প্রথমে কোনো ডাক্তারের নাম প্রকাশ করতে চাননি। পরে অভিযুক্ত ডাক্তার ইয়ামিন ইসলাম প্রান্তের নাম বললেও অ্যানেস্থেসিয়া (অজ্ঞান) করা ডাক্তারের নাম গোপন রাখেন। মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে অভিযুক্ত চিকিৎসক ইয়ামিন ইসলাম প্রান্ত জানান, তিনি এই অপারেশন করেননি এবং সারাদিন ওই ক্লিনিকেও যাননি।

 

স্বজনরা এ মৃত্যুকে চিকিৎসায় চরম গাফিলতির ফল বলে দাবি করে সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানিয়েছেন। প্রাইভেট ক্লিনিকে রোগীদের নিরাপত্তা ও জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তবে এ সংবাদ লেখা পর্যন্ত এ বিষয়ে থানায় কোনো মামলা বা লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি।

 

তবে স্বজনদের পক্ষ থেকে জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে ঘটনা জানিয়ে আইনি সহায়তা চাওয়া হলে কুষ্টিয়া সদর থানার উপ-পরিদর্শক ফজলুর রহমান ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তিনি জানান, অভিযোগ পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে এসে খোঁজখবর নিয়েছেন এবং মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছেন। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলে যথোপযুক্ত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।