ঢাকা , রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo বাঘায় সুষ্ঠ সুন্দর পরিবেশে প্রাথমিকের বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিতঃ উপস্থিতির হারে বালিকা এগিয়ে Logo নরসিংদীর শিবপুরে ২৬ মামলার আসামিসহ দুই ডাকাত গ্রেপ্তার Logo খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ইস্টার সানডে পালিত হবে আগামীকাল Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মাদক উদ্ধার Logo সকল রাজনৈক দল, ধর্ম, বর্ণ ও শ্রেণী পেশার মানুষের সেবা করতে বিএনপি সরকার ওয়াদাবদ্ধ Logo সেনবাগে কাওমী ও হাফেজিয়া মাদ্রাসায় ঈদ উপহার বিতরণ করলেন লায়ন শাহাদাত হোসেন Logo সিংড়ায় পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ১০ Logo কুষ্টিয়ায় মাদক সেবনের টাকা না পেয়ে বসতঘরে আগুন Logo চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত Logo ফরিদপুরে যৌথ বাহিনীর অভিযানে বিদেশি পিস্তল, গুলি ও ইয়াবাসহ যুবক গ্রেফতার
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

আসামির স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়া, গভীর রাতে এএসআইকে ধরে গণপিটুনি

ফরিদপুরের সালথায় গভীর রাতে মাদক মামলার আসামির স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ার অভিযোগে গণপিটুনির শিকার হয়েছেন মো. ইমরান হাসান নামের এক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই)। পরে পুলিশ আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।

 

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাত ৩টার দিকে উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। আহত এএসআই ইমরান সালথা থানায় কর্মরত এবং ওই ইউনিয়নের সহকারী বিট কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্বরত।

 

তবে ওই পুলিশ কর্মকর্তার দাবি, তিনি আসামি ধরতে সেখানে গিয়েছিলেন। আর মাদক মামলার আসামির পরিবারের দাবি এটি পরকীয়ার ঘটনা। ইমরানকে আটকের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

 

এলাকাবাসী জানায়, মো. মেহেদী হাসান (২৮) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে সালথা ও বোয়ালমারী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা রয়েছে। মাদক মামলার সুবাদে এএসআই ইমরান হাসান মেহেদী হাসানের বাড়িতে যেতেন। যার পরিপ্রেক্ষিতে মেহেদীর স্ত্রীর সঙ্গে এএসআই ইমরানের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। শুক্রবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে মেহেদী হাসানের বসতঘরে ঢুকে তার স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে গেলে লোকজন তাকে ধরে মারধর করে। পরে সালথার পুলিশ এএসআইকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।

 

মাদক মামলার আসামি মেহেদী হাসান বলেন, আমি একটি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি। ব্যবসায়িক কাজে আমি মাঝে মাঝে বাইরে থাকি। এ সুযোগে আমাদের ইউনিয়নে পুলিশের বিট অফিসার হিসেবে দায়িত্বে থাকা এএসআই ইমরান মাঝে মাঝে আমার বাড়িতে এসে আমার স্ত্রীকে কুপ্রস্তাব দেয়।

 

তিনি আরও বলেন, আমি আমার স্ত্রীর সঙ্গে এএসআই ইমরানের কুরুচিপূর্ণ কথোপথোনের অডিও রেকর্ড ও ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করি। এরই মধ্যে শুক্রবার গভীর রাতে ইমরান আমাদের ঘরে ঢুকলে এলাকাবাসী হাতেনাতে ইমরানকে আটক করে পিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে।

 

এ বিষয় এএসআই ইমরান হাসানের দাবি, আমি মাদক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ধরতে সেখানে গিয়েছিলাম। তবে সাদা পোশাকে রাত ৩টার সময় আসামিকে একা ধরতে যাওয়ার ব্যাখ্যা জানতে চাইলে তিনি কোনো উত্তর দেননি।

 

সালথা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান বলেন, মাদক মামলার আসামি ধরতে গেলে মাদককারবারি মেহেদীর পরিবার তাকে আটক করে মারধর করে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

 

গভীর রাতে সাদা পোষাকে একা কেন মাদকের আসামি ধরতে গেলেন; তিনি এমন প্রশ্নের উত্তরে বলেন, কেন তিনি একা এবং পুলিশের পোশাক ছাড়া আসামির বাড়িতে গিয়েছিলেন বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।


প্রিন্ট
Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

তানোরে বেকারদের পকেট কাটা !

error: Content is protected !!

আসামির স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়া, গভীর রাতে এএসআইকে ধরে গণপিটুনি

আপডেট টাইম : ১৫ ঘন্টা আগে
এফ. এম আজিজুর রহমান, সালথা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি :

ফরিদপুরের সালথায় গভীর রাতে মাদক মামলার আসামির স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ার অভিযোগে গণপিটুনির শিকার হয়েছেন মো. ইমরান হাসান নামের এক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই)। পরে পুলিশ আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।

 

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাত ৩টার দিকে উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। আহত এএসআই ইমরান সালথা থানায় কর্মরত এবং ওই ইউনিয়নের সহকারী বিট কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্বরত।

 

তবে ওই পুলিশ কর্মকর্তার দাবি, তিনি আসামি ধরতে সেখানে গিয়েছিলেন। আর মাদক মামলার আসামির পরিবারের দাবি এটি পরকীয়ার ঘটনা। ইমরানকে আটকের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

 

এলাকাবাসী জানায়, মো. মেহেদী হাসান (২৮) নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে সালথা ও বোয়ালমারী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা রয়েছে। মাদক মামলার সুবাদে এএসআই ইমরান হাসান মেহেদী হাসানের বাড়িতে যেতেন। যার পরিপ্রেক্ষিতে মেহেদীর স্ত্রীর সঙ্গে এএসআই ইমরানের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। শুক্রবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে মেহেদী হাসানের বসতঘরে ঢুকে তার স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে গেলে লোকজন তাকে ধরে মারধর করে। পরে সালথার পুলিশ এএসআইকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।

 

মাদক মামলার আসামি মেহেদী হাসান বলেন, আমি একটি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি। ব্যবসায়িক কাজে আমি মাঝে মাঝে বাইরে থাকি। এ সুযোগে আমাদের ইউনিয়নে পুলিশের বিট অফিসার হিসেবে দায়িত্বে থাকা এএসআই ইমরান মাঝে মাঝে আমার বাড়িতে এসে আমার স্ত্রীকে কুপ্রস্তাব দেয়।

 

তিনি আরও বলেন, আমি আমার স্ত্রীর সঙ্গে এএসআই ইমরানের কুরুচিপূর্ণ কথোপথোনের অডিও রেকর্ড ও ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করি। এরই মধ্যে শুক্রবার গভীর রাতে ইমরান আমাদের ঘরে ঢুকলে এলাকাবাসী হাতেনাতে ইমরানকে আটক করে পিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে।

 

এ বিষয় এএসআই ইমরান হাসানের দাবি, আমি মাদক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ধরতে সেখানে গিয়েছিলাম। তবে সাদা পোশাকে রাত ৩টার সময় আসামিকে একা ধরতে যাওয়ার ব্যাখ্যা জানতে চাইলে তিনি কোনো উত্তর দেননি।

 

সালথা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান বলেন, মাদক মামলার আসামি ধরতে গেলে মাদককারবারি মেহেদীর পরিবার তাকে আটক করে মারধর করে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

 

গভীর রাতে সাদা পোষাকে একা কেন মাদকের আসামি ধরতে গেলেন; তিনি এমন প্রশ্নের উত্তরে বলেন, কেন তিনি একা এবং পুলিশের পোশাক ছাড়া আসামির বাড়িতে গিয়েছিলেন বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।


প্রিন্ট