এস. এম রবিউল ইসলাম রুবেলঃ
ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার চতুল ইউনিয়নের বাইখীর গ্রামে এক রোমহর্ষক ঘটনার জন্ম দিয়েছে ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য খুশি বেগমের বাড়ি। তার বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ চোরাই মাল উদ্ধার হওয়ার পর গ্রামবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। উত্তেজিত জনতা খুশি বেগমকে ধরে সিকল দিয়ে বেঁধে রাখে, প্রকাশ্যে মারধর করে এবং গ্রাম ছাড়ার চূড়ান্ত আল্টিমেটাম দেয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে খুশি বেগমের নাতি সিয়াম—যে পূর্বে থেকেই একাধিক চুরির ঘটনায় অভিযুক্ত—ক্লাবঘরের পাশে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করছিল। এসময় স্থানীয় যুবক নাইম তাকে প্রশ্ন করলে সিয়াম দ্রুত নানীর বাড়ির ভেতরে ঢুকে যায়। প্রতিবাদ করলে ইউপি সদস্য খুশি বেগম নিজেই নাইমকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়।
ঘটনায় উত্তেজিত হয়ে ওঠে গ্রামবাসী। মুহূর্তেই তারা খুশি বেগমের বাড়িতে তল্লাশি চালায়। তল্লাশিতে বেরিয়ে আসে একের পর এক চোরাই মাল—দা, বটি, কুড়াল, টিউবওয়েলের মাথা, হাতল, রাজমিস্ত্রীর কাজের আসবাবপত্রসহ বিপুল সামগ্রী। তবে সুযোগ বুঝে পালিয়ে যায় সিয়াম।
এ সময় জনতা ক্ষোভে ফেটে পড়ে। নারী-পুরুষ মিলে খুশি বেগমকে আটক করে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখে এবং মারধর করতে থাকে। উত্তেজিত মানুষ একবাক্যে ঘোষণা দেয়—“গ্রামে আর কোনো চুরি-চামারি সহ্য করা হবে না। খুশি বেগমকে গ্রাম ছাড়তেই হবে।”
এলাকাবাসীর অভিযোগ, খুশি বেগম এর আগেও একাধিকবার চুরির ঘটনায় ধরা পড়ে জরিমানা দিয়েছেন। কিন্তু তবুও তিনি চুরির অভ্যাস ছাড়েননি, বরং নাতিকেও এই কাজে জড়িয়েছেন।
ঘটনাস্থলে গিয়ে খুশি বেগমকে পাওয়া যায়নি। ফলে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান বলেন, “এ বিষয়ে এখনও আমাদেরকে কেউ কিছু জানায়নি। তবে এমন ঘটনা ঘটে থাকলে খতিয়ে দেখে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার 
এস এম রবিউল ইসলাম রুবেল, নিজস্ব প্রতিনিধি 





















