ঢাকা , মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

তানোরে পুরোনো প্রশ্নপত্রে এইচএসসি পরীক্ষা গ্রহণের অভিযোগ, তোলপাড়

আলিফ হোসেন:

 

রাজশাহীর তানোর সরকারি আব্দুল করিম সরকার কলেজে চলতি এইচএসসি বাংলা প্রথম পত্রের এমসিকিউ পরীক্ষা ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্রে গ্রহণ করার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনা জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

 

এ ঘটনায় অধ্যক্ষের অপসারণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। এদিকে, কেন্দ্র সচিবসহ তিনজনকে পরীক্ষার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

 

অভিযোগ তদন্ত করে সত্যতা পাওয়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও কলেজের সভাপতি নাঈমা খান সোমবার রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর সংশ্লিষ্টদের অব্যাহতির বিষয়টি অবহিত করেন। অব্যাহতি পাওয়া ব্যক্তিরা হলেন—সরকারি আব্দুল করিম সরকার কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মোস্তফা কামাল, সহকারী অধ্যাপক সেকেন্দার আলী ও আফজাল হোসেন। নতুন কেন্দ্র সচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন গোলাম নবী।

 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাঈমা খান জানান, ঘটনাটি ২ জুলাইয়ের। কেন্দ্র সচিবসহ সংশ্লিষ্টরা বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের ঘটনা প্রকাশ না করার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

 

জানা গেছে, এইচএসসি বাংলা প্রথম পত্রের পরীক্ষায় কালীগঞ্জ হাট ডিগ্রি কলেজের সাতজনসহ মোট ১১ জন নিয়মিত শিক্ষার্থীকে ২০২৫ সালের এমসিকিউ (ক) সেটের প্রশ্নপত্র সরবরাহ করে পরীক্ষা নেওয়া হয়। পরীক্ষা শেষে বিষয়টি জানাজানি হলেও কেন্দ্রের দায়িত্বরত শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের বিষয়টি গোপন রাখতে বলেন। এমনকি অভিযোগ না করার জন্য তাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে।

 

কালীগঞ্জ হাট ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী ইসমাইল হোসেন, নাদিয়া জামান দৃপ্তি, মাইসা রহমান, জান্নাতুন জুই, ইসরাত জাহান, মনিরুল ইসলাম ও জাহিদ হোসেনসহ ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানান, ২০২৬ সালের প্রশ্নপত্রের পরিবর্তে তাদের ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়। বিষয়টি পরীক্ষা কেন্দ্রেই ধরা পড়লেও দায়িত্বরত শিক্ষকরা কাউকে কিছু না বলার জন্য নির্দেশ দেন। পরে ৪ জুলাই তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানান।

 

এ ঘটনায় অভিভাবকরাও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবন নিয়ে খেলা করা হয়েছে। তারা দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

 

অভিযোগের বিষয়ে সরকারি আব্দুল করিম সরকার কলেজের অধ্যক্ষ ও তৎকালীন কেন্দ্র সচিব প্রফেসর ড. মোস্তফা কামাল বলেন, অনিচ্ছাকৃতভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকরা ২০২৫ সালের এমসিকিউ প্রশ্নপত্র দিয়ে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নিয়েছেন। বিষয়টি শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তবে ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থীদের বিষয়ে এখনো বোর্ড থেকে কোনো সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি।

 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাঈমা খান বলেন, “বিষয়টি প্রথমে আমি জানতাম না। শিক্ষার্থীরা এসে আমাকে জানিয়েছে। পরে কলেজের অধ্যক্ষসহ শিক্ষকদের জিজ্ঞাসাবাদে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। ভুক্তভোগী ১১ শিক্ষার্থীর ফলাফলে যাতে কোনো প্রভাব না পড়ে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। দায়িত্বে অবহেলার কারণে কেন্দ্র সচিবসহ তিনজনকে পরীক্ষার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।”

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

মাগুরায় স্কুলছাত্রী রাজিয়া হত্যা মামলায় আসামির মৃত্যুদণ্ড

error: Content is protected !!

তানোরে পুরোনো প্রশ্নপত্রে এইচএসসি পরীক্ষা গ্রহণের অভিযোগ, তোলপাড়

আপডেট টাইম : ০৯:৫৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬
আলিফ হোসেন, তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি :

আলিফ হোসেন:

 

রাজশাহীর তানোর সরকারি আব্দুল করিম সরকার কলেজে চলতি এইচএসসি বাংলা প্রথম পত্রের এমসিকিউ পরীক্ষা ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্রে গ্রহণ করার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনা জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

 

এ ঘটনায় অধ্যক্ষের অপসারণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। এদিকে, কেন্দ্র সচিবসহ তিনজনকে পরীক্ষার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

 

অভিযোগ তদন্ত করে সত্যতা পাওয়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও কলেজের সভাপতি নাঈমা খান সোমবার রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর সংশ্লিষ্টদের অব্যাহতির বিষয়টি অবহিত করেন। অব্যাহতি পাওয়া ব্যক্তিরা হলেন—সরকারি আব্দুল করিম সরকার কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মোস্তফা কামাল, সহকারী অধ্যাপক সেকেন্দার আলী ও আফজাল হোসেন। নতুন কেন্দ্র সচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন গোলাম নবী।

 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাঈমা খান জানান, ঘটনাটি ২ জুলাইয়ের। কেন্দ্র সচিবসহ সংশ্লিষ্টরা বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের ঘটনা প্রকাশ না করার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

 

জানা গেছে, এইচএসসি বাংলা প্রথম পত্রের পরীক্ষায় কালীগঞ্জ হাট ডিগ্রি কলেজের সাতজনসহ মোট ১১ জন নিয়মিত শিক্ষার্থীকে ২০২৫ সালের এমসিকিউ (ক) সেটের প্রশ্নপত্র সরবরাহ করে পরীক্ষা নেওয়া হয়। পরীক্ষা শেষে বিষয়টি জানাজানি হলেও কেন্দ্রের দায়িত্বরত শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের বিষয়টি গোপন রাখতে বলেন। এমনকি অভিযোগ না করার জন্য তাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে।

 

কালীগঞ্জ হাট ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী ইসমাইল হোসেন, নাদিয়া জামান দৃপ্তি, মাইসা রহমান, জান্নাতুন জুই, ইসরাত জাহান, মনিরুল ইসলাম ও জাহিদ হোসেনসহ ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানান, ২০২৬ সালের প্রশ্নপত্রের পরিবর্তে তাদের ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়। বিষয়টি পরীক্ষা কেন্দ্রেই ধরা পড়লেও দায়িত্বরত শিক্ষকরা কাউকে কিছু না বলার জন্য নির্দেশ দেন। পরে ৪ জুলাই তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানান।

 

এ ঘটনায় অভিভাবকরাও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবন নিয়ে খেলা করা হয়েছে। তারা দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

 

অভিযোগের বিষয়ে সরকারি আব্দুল করিম সরকার কলেজের অধ্যক্ষ ও তৎকালীন কেন্দ্র সচিব প্রফেসর ড. মোস্তফা কামাল বলেন, অনিচ্ছাকৃতভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকরা ২০২৫ সালের এমসিকিউ প্রশ্নপত্র দিয়ে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নিয়েছেন। বিষয়টি শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তবে ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থীদের বিষয়ে এখনো বোর্ড থেকে কোনো সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি।

 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাঈমা খান বলেন, “বিষয়টি প্রথমে আমি জানতাম না। শিক্ষার্থীরা এসে আমাকে জানিয়েছে। পরে কলেজের অধ্যক্ষসহ শিক্ষকদের জিজ্ঞাসাবাদে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। ভুক্তভোগী ১১ শিক্ষার্থীর ফলাফলে যাতে কোনো প্রভাব না পড়ে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। দায়িত্বে অবহেলার কারণে কেন্দ্র সচিবসহ তিনজনকে পরীক্ষার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।”