ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

কুড়িগ্রামে বসতবাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে

কাজল ইসলামঃ

দীর্ঘদিন থেকে বসবাস করে আসা ঘরবাড়িতে শতাধিকের অধিক গুন্ডা দিয়ে পুলিশের উপস্থিতিতে মাইকিং করে দশ-বারো টার মতো বসতবাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে স্থানী জনপ্রতিনিধি খলিল মেম্বারসহ কুরবান দেওয়ানী, সুলমানের বিরুদ্ধে।

 

কুড়িগ্রাম রাজারহাট উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নে জয়কুমর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য ও জনপ্রতিনিধি খলিল মেম্বারের নেতৃত্বে প্রায় আড়াইশো থেকে তিনশোজনের একটি বিশাল আকারের জনবল নিয়ে বাহাদুরসহ আরও বেশ কয়েকজনের বাড়ি ঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। অভিযুক্ত ব্যাক্তিরা দিনে-দুপুরে মাইকিং করে সেখানকার পুলিশের সামনে তান্ডব চালায় বসতবাড়িগুলোতে।

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, ইউপি সদস্য খলিল, কুরবান দেওয়ানী, সুলমান আলীসহ অনেকে এসে ঘরবাড়িগুলো ভাঙচুর করে। এ সময় তারা মাইকিং করে প্রতিবেশিদের ঘর থেকে বাহির হতে নিষেধ করে এবং ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে সহযোগীতা করতে বাড়ন করে। পুলিশের উপস্থিতিতে এ ঘটনাটি ঘটেছে কিন্তু পুলিশ সম্পন্ন নিরব ভূমিকা পালন করেছে সে সময়।

 

অভিযোগ উঠেছে ভাঙচুরের পাশাপাশি ঘরের ভিতরের থাকা টাকা – পয়সা সোনাদানা ও গুরুত্বপূর্ণ দামি দামি জিনিস লুটপাট করেছে। ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর দাবি প্রায় ২০ থেকে ২৬ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে হামলায়। তারা আরও বলেন, পুলিশের সামনে এমন উদ্বেগজনক ঘটনা কাম্য নয়। এমন ঘটনায় দেশের আইন লঙ্ঘনের পাশাপাশি প্রশাসনের প্রতি মানুষের আস্তার ব্যতয় ঘটেছে।

 

বর্তমানে পরিবারের সদস্যরা জীবন নিরাপত্তার ঝুঁকিতে রয়েছে। বাড়িতে থাকা পুরুষদের বিভিন্ন হুমকি ধামকি দেওয়ার কারণে তারা এখন পর্যন্ত পলাতক আছেন। এ ছাড়াও বিচারের দাবিতে সবার দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোন বিচারের প্রতিশ্রুতি পাচ্ছেন না ভুক্তভোগীরা।

 

বাহাদুর নামে এক ভুক্তভোগীর স্ত্রী বলেন, ঘর বাড়ি ভেঙে দিয়ে চর দখল করার জন্য আমাদের বাড়িগুলোতে হামলা করেছে তারা। এই হামলায় নেতৃত্ব দিয়েছে খলিল মেম্বার। আমরা এখন জীবন নিয়ে ঝঁকিতে আছি। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে এর সঠিক বিচার চাই।

 

এ বিষয় রাজারহাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মামুনুর রশীদ বলেন, বর্তমানে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজশাহী-৩ এ স্বচ্ছতা ফেরাতে কঠোর অবস্থান; দুর্নীতিবাজদের ছাড় নয়: এমপি মিলন

error: Content is protected !!

কুড়িগ্রামে বসতবাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে

আপডেট টাইম : ০৯:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
কাজল ইসলাম, জেলা প্রতিনিধি, কুড়িগ্রাম :

কাজল ইসলামঃ

দীর্ঘদিন থেকে বসবাস করে আসা ঘরবাড়িতে শতাধিকের অধিক গুন্ডা দিয়ে পুলিশের উপস্থিতিতে মাইকিং করে দশ-বারো টার মতো বসতবাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে স্থানী জনপ্রতিনিধি খলিল মেম্বারসহ কুরবান দেওয়ানী, সুলমানের বিরুদ্ধে।

 

কুড়িগ্রাম রাজারহাট উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নে জয়কুমর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য ও জনপ্রতিনিধি খলিল মেম্বারের নেতৃত্বে প্রায় আড়াইশো থেকে তিনশোজনের একটি বিশাল আকারের জনবল নিয়ে বাহাদুরসহ আরও বেশ কয়েকজনের বাড়ি ঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। অভিযুক্ত ব্যাক্তিরা দিনে-দুপুরে মাইকিং করে সেখানকার পুলিশের সামনে তান্ডব চালায় বসতবাড়িগুলোতে।

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, ইউপি সদস্য খলিল, কুরবান দেওয়ানী, সুলমান আলীসহ অনেকে এসে ঘরবাড়িগুলো ভাঙচুর করে। এ সময় তারা মাইকিং করে প্রতিবেশিদের ঘর থেকে বাহির হতে নিষেধ করে এবং ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে সহযোগীতা করতে বাড়ন করে। পুলিশের উপস্থিতিতে এ ঘটনাটি ঘটেছে কিন্তু পুলিশ সম্পন্ন নিরব ভূমিকা পালন করেছে সে সময়।

 

অভিযোগ উঠেছে ভাঙচুরের পাশাপাশি ঘরের ভিতরের থাকা টাকা – পয়সা সোনাদানা ও গুরুত্বপূর্ণ দামি দামি জিনিস লুটপাট করেছে। ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর দাবি প্রায় ২০ থেকে ২৬ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে হামলায়। তারা আরও বলেন, পুলিশের সামনে এমন উদ্বেগজনক ঘটনা কাম্য নয়। এমন ঘটনায় দেশের আইন লঙ্ঘনের পাশাপাশি প্রশাসনের প্রতি মানুষের আস্তার ব্যতয় ঘটেছে।

 

বর্তমানে পরিবারের সদস্যরা জীবন নিরাপত্তার ঝুঁকিতে রয়েছে। বাড়িতে থাকা পুরুষদের বিভিন্ন হুমকি ধামকি দেওয়ার কারণে তারা এখন পর্যন্ত পলাতক আছেন। এ ছাড়াও বিচারের দাবিতে সবার দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোন বিচারের প্রতিশ্রুতি পাচ্ছেন না ভুক্তভোগীরা।

 

বাহাদুর নামে এক ভুক্তভোগীর স্ত্রী বলেন, ঘর বাড়ি ভেঙে দিয়ে চর দখল করার জন্য আমাদের বাড়িগুলোতে হামলা করেছে তারা। এই হামলায় নেতৃত্ব দিয়েছে খলিল মেম্বার। আমরা এখন জীবন নিয়ে ঝঁকিতে আছি। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে এর সঠিক বিচার চাই।

 

এ বিষয় রাজারহাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মামুনুর রশীদ বলেন, বর্তমানে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।