ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় আরিফ শেখ (১৩) এক কিশোরকে হাত-মুখ বেঁধে নির্যাতনের ঘটনায় সাত ব্যক্তির নামে থানায় মামলা হয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুরে ওই কিশোরের বাবা বাদি হয়ে থানায় মামলাটি করেন। মামলা নম্বর-৯।
পুলিশ মামলার তিন আসামিকে ওইদিন বিকেলে ময়েনদিয়া বাজার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো, পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের শ্রীনগর গ্রামের বাচ্চু মোল্যার ছেলে হাসিবুল মোল্যা (২১), রোকন মোল্যার ছেলে মো. বাদশা মোল্যা (৫৫) ও বাবলু মোল্যা (৩৫)।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, আরিফ শেখ গত বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের শ্রীনগর বারোয়ারী মন্দিরের পশ্চিম পাশে পুকুরে গোসল করতে গেলে মামলার আসামিরা ওই গ্রামের শ্রী হরি সাহার মেহগনি গাছের বাগানে নিয়ে হাত-মুখ গামছা দিয়ে বেঁধে নির্যাতন চালায়। এ সময় আসামিরা বেøড ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে ওই কিশোরের মাথায় ও পিঠে নিলাফুলা জখম করে। কিশোর আরিফ শেখ শ্রীনগর গ্রামের শাজাহান শেখের ছেলে। পরে পরিবার লোকজন তাকে উদ্ধার করে বোযালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। ঘটনার দিন রাতেই আহত ওই কিশোরের বাবা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন। লিখিত অভিযোগের পর শনিবার দুপুরে মামলা থানায় নথিভুক্ত হয়।
কিশোরের বাবা শাজাহান শেখ বলেন, লিখিত অভিযোগ দেওয়ায় শুক্রবার দুপুরে হাসিবুলসহ আসামিরা আমার বাড়িতে গিয়ে অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিতে বলে। থানা থেকে অভিযোগ তুলে না নিলে আমাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেয় আসামিরা। পরে হুমকি দেওয়ার বিষয়টি ডহরনগর তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জকে জানায়। শনিবার ছেলেকে ডাক্তারের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিটিস্কান করাতে ফরিদপুর পাঠিয়েছি। গাম্য দলাদলিতে আমি অন্য দলের লোক হওয়ায় আমাকে না পেয়ে আসামিরা আমার ছেলেকে ধরে নিয়ে কুপিয়েছে।
গতকাল শনিবার বিকেলে মামলা ও আসামি গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে ডহরনগর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচর্জ মো. মোক্তার হোসেন বলেন, কিশোরকে মারধরের ঘটনায় তার বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে ৭ জনের নামে থানায় মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের রবিবার আদালতে পাঠানো হবে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
প্রিন্ট